রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

জলাশয়ের কচুরিপানার তৈরী পণ্য রফতানি হচ্ছে……..

আপডেটঃ ৭:৫১ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৬, ২০২১

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: খাল-বিল,পুকুর,জলাশয়ে জন্মানো অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানা থেকে নারীদের তৈরি পণ্য রফতানি হচ্ছে বিদেশে। নদী ভাঙ্গনে শত শত নিঃস্ব পরিবারের গৃহিনী আর স্কুল-কলেজ ছাত্রীরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে কচুরিপানার ওপর ভর করে। ফেলনা উদ্ভিদ কচুরিপানাকে অর্থকরী পণ্যে রূপান্তরের মধ্যদিয়ে স্বনির্ভর জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার নারীরা। নদীভাঙ্গনে সর্বহারা বাড়ির কর্তারা মাছের আশায় ভেসে বেড়ান ব্রহ্মপুত্র নদীতে। তখন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মননেপাড়ার নারী ও স্কুল ছাত্রীরা ব্যস্ত ফুলের টব তৈরিতে। এছাড়াও কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া নিত্য ব্যবহারিক নানা জিনিসপত্র। যা এলাকার নারী-পুরুষদের বেকারত্ব মোচনের পাশাপাশি রপ্তানিতে অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে প্রশিক্ষিত নারীরা তৈরি করছে ফুলদানি, ফুলের টব, মাদুর, ঝুঁড়িসহ ঘর সাজানোর নান্দনিক-শৈল্পিক নানা জিনিসপত্র। উদ্যোক্তা মদনের পাড়ার সুভাষ চন্দ্র বলেন প্রাথমিক ভাবে এলাকার ২৫০ জন নারীকে এ কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারা নিয়মিত এ কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ভবিষ্যতে কাজের পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যে চাহিদা তাতে মাসে দুই লক্ষাধিক টাকার কচুরিপানা কিনতে হচ্ছে।

এ টব তৈরীর উপকরণ খাল-বিলের জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানা। বাড়ির গৃহিণী আর মেয়েদের অবসর সময় লাগিয়ে তাদের হাতে কর্মের জোগানদাতা উদ্যোক্তা সুবাস চন্দ্র বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা এসব ফুলের টব। টব তৈরি করে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার দুই শতাধিক নারী এখন সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষ। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহে মাস খানেক আগে ফুলছড়ির মদনের পাড়ায় পানা থেকে ফুলের টব তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও শুধু স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল নারীরা অকেজো কচুরিপানা দিয়ে নিজেরাই আত্ননির্ভর হচ্ছে। ঢাকার প্রতিষ্ঠান ইকো বাংলা জুট লিমিটেডের মাধ্যমে পানা থেকে তৈরি করা এসব ফুলের টব পাঠানো হয় আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। গ্রাম-গঞ্জের খাল-বিলে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানার এখন কদর বেড়েছে। প্রতি কেজি কচুরিপানা বিক্রয় হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। সুভাষ চন্দ্র প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার কচুরিপানা কিনে নারীদের সরবরাহ করেন। গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার চারটি কেন্দ্রে প্রায় দুইশত পঞ্চাশ নারী ও স্কুল ছাত্রী এসব কচুরিপানার শুকনো ডাটা থেকে তাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করেন ফুলের টবসহ নজরকাড়া নিত্য ব্যবহারিক নানা জিনিসপত্র। ফুলছড়ি উপজেলার হঠাৎপাড়ার স্কুলছাত্রী তানিয়া খাতুন বলেন, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। অবসর সময়টা নষ্ট না করে তিনি কচুরিপানার টব তৈরি করেন। একটটি টব তৈরি করে ২০ টাকা মজুরি পান। সারাদিনে ১০টা টব তৈরি করলে ২০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। কাজ করতে আসা গৃহিণীরা বলেন, গৃহস্থালির কাজকর্ম সেরে তারা কচুরিপানা দিয়ে ফুলের টব বানান। এ আয় থেকে নিজের হাত খরচ ছাড়াও সংসারের খরচ করতে পারছেন। উদ্যোক্তা সুভাস চন্দ্র বর্মণ বলেন এর আগে ছয় বছর তিনি ঢাকায় হস্ত ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তালপাতা, গোলপাতাসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম ও সৌখিন পণ্য তৈরি করেন। এবার কচুরিপানা দিয়ে পণ্য তৈরী করছে তিনি।