সোমবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

মেট্রো রেলের মূল কাজ শুরু হচ্ছে কবে ছয় মাসের মধ্যে ডিপো নির্মাণের দরপত্র আহবান হতে পারে

আপডেটঃ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১০, ২০১৪

আগামী ছয় মাসের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপো নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর আগে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে মেট্রোরেলকে অপারেশনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে ইতিমধ্যে ডিপোর মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পুরো প্রকল্পের জন্য তিন ধরনের সার্ভে, স্টেশনের নকশা তৈরিসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ চলছে। ডিপো নির্মাণের কাজ শুরুর জন্য এ বছরের শেষ দিকে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা যাবে। এরপর আগামী বছরের শেষ দিকে মূল প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে বলে মেট্রোরেল প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ইতিমধ্যে চলতি বছরের প্রথমভাগে মেট্রোরেল আইন-২০১৪ এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং জনসাধারণের জন্য সহজ করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে মেট্রোরেল। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী মুক্তি পাবেন অসহনীয় যানজট থেকেও। এ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ১১ জুলাই যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প এলাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপো নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। এদিকে জাইকার আমন্ত্রণে যোগাযোগ সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে জাপানে রয়েছেন। তারা সেখানে মেট্রোরেলের সিস্টেমসহ বিভিন্ন বিষয় দেখছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প এলাকায় রাজউকের ৫৪ একর জমির ওপর তৈরি করা হবে মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল ডিপো। যেখানে থাকবে অত্যাধুনিক অপারেশন কন্ট্রোল রুম, ওয়াশিং রুম, ওয়ার্কশপ থেকে শুরু করে এ প্রকল্পের সব যান্ত্রিক বিষয়গুলো। ইতিমধ্যে এই ডিপো নির্মাণের জন্য নকশা তৈরির কাজ চলছে। এর পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার মাটি পরীক্ষার কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। একই সঙ্গে ট্রাফিক সার্ভে, টপো গ্রাফিক্স সার্ভে ও জিও-টেকনিক্যাল সার্ভের কাজ চলছে। সূত্র জানায়, গত জুন মাসে ট্রাফিক সার্ভে ও টপো গ্রাফিক্স সার্ভের কাজ শুরু হয়। জিও-টেকনিক্যাল সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে গত ১১ জুলাই থেকে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব সার্ভের কাজ শেষ হবে জানিয়ে প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, এই তিন ধরনের সার্ভের কাজ শেষ হওয়ার পর ডিপোর মাটির কাজ শুরু করা যাবে এই বছরের শেষ দিকে। মাটি ভরাটের কাজ শেষ হওয়ার টেকনিক্যাল কাজগুলো শুরু করা যাবে। সার্ভে প্রতিবেদনের পর পরই মূল প্রকল্পের কোথায় কোথায় পাইলিং হবে সেটাও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি জানান, রাজউক থেকে জমি পাওয়ার ফলে প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ডিপোর জন্য জমিই ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য যেসব স্থানে স্টেশন নির্মাণ হবে সেগুলোর নকশা তৈরির কাজও চলছে। ইংল্যান্ডের আর্কিটেক্ট হিরোই আসু এই নকশা তৈরির কাজ করছেন। ১৬টি স্টেশনের নকশা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন। সূত্র জানায়, ডিপো, স্টেশনের নকশা তৈরির পাশাপাশি বর্তমানে মূল প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত হলেই আগামী বছরের শেষ দিকে দরপত্র আহ্বান করবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এরপর পরবর্তী তিন বছরের মধ্যেই দেশের প্রথম মেট্রোরেলের বাস্তবায়ন দেখতে পাবে দেশবাসী। ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ইতিমধ্যে প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট (পিআইইউ) নামে একটি আলাদা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে মেট্রো রেলের বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সেটআপ তৈরির কাজও চলছে। এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী ও বাস্তবায়নকারী সহযোগী সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঢাকা কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালের শুরুতে মূল প্রকল্পের কাজ করা যাবে এবং ২০২১ সালের শেষ নাগাদ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। সূত্র জানায়, মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। এ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে, ২২ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। গত ফেব্র“য়ারিতে এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার জোগান দেবে জাপানি এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। কয়েক ধাপে এই অর্থ ছাড় করা হবে। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের কারিগরি সহায়তাও দেবে জাপান। সূত্রমতে, মেট্রোরেলের রুট হবে উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত। মোট স্টেশন থাকবে ১৬টি। এগুলো হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক।