শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রহস্যজনক দাবী ভুক্তভোগিদের! কক্সবাজারের মহেশখালীতে নারী নির্যাতনের আসামী ধরাছোঁয়ার বাহিরে

আপডেটঃ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১১, ২০১৪

জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালীতে একাধিক নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী রহস্যজনক কারনে ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ভুক্তভোগিদের মাঝে নানা সংশয়-আতংক ও অনিশ্চিয়তা বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ারা জারি থাকার পরেও কি কারনে পুলিশ আসামী গ্রেফতার করছে না ? অন্যদিকে মামলার আসামীরা বাদীদের প্রাণনাশের হুমকিও অব্যাহত রেখেছে। এমন অভিযোগ করেছেন মহেশখালী উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা জনৈক ছিদ্দক আহমদের মেয়ে ছকিনা খাতুন (৪০)।
১০ আগষ্ট বিকালে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত থেকে মামলার কার্যক্রম শেষ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আদালত আমার আসামীকে প্রায় ১ বছর আগে গ্রেফতারের জন্য মহেশখালী থানা পুলিশকে নিদের্শ দিয়েছেন। কিন্তু অদ্যবধি পুলিশ রহস্যজনক কারনে আসামী আটক করতে সক্ষম হয়নি। অথচ আসামীর প্রায় সময় থানার আশে পাশেই অবস্থান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল ১৩ ইংরেজি সালে স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাদী কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সাল (সংশোধিত ২০০৩) এর ১১ (গ) ধারায় একখানা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে বিচারধীন রয়েছে। যার মামলা নং ৫৮৩/১৩। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন (তৎকালীন) কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। তিনি গত ৫ জুন ২০১৩ সালে আদালতে উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। এই মামলার আসামী সর্ম্পকে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ডাইলে মাঝি জানায়, জনৈক মৃত. রহিম বকুসর ছেলে গোলাম কদ্দুস (প্রকাশ) ননাইয়া একজন চিহ্নিত প্রতারক হিসেবে মহেশখালীর প্রায় স্থানে পরিচিত। সেই কক্সবাজারসহ এলাকার অনেক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নাটকীয়ভাবে আতœাসাৎ করেছে। বর্তমানে মহেশখালী উপজেলার ছোটমহেশখালী এলাকার দক্ষিণ নলবিলা নামক স্থানে রয়েছে।

বাদী ছকিনা খাতুন জানান, বিগত ১৬ জুন ১৯৯৮ সালে ইসলামী শরীয়তের বিধান মোতাবেক আসামীর সাথে আসামীর বিয়ে হয়। আসামী নারী নির্যাতনকারী, নারী লোভী, যৌতুক লোভী, দাঙ্গাবাজ, পরধনলোভী ও নানা ফৌজদারী অপরাধে জড়িত রয়েছে। বিয়ের ফলশ্রুতিতে তার সংসারে ২ ছেলে রয়েছে। যাদের নাম সাহাব উদ্দিন (১৩) গিয়াস উদ্দিন (১০)। বিয়ের পর থেকে আসামী যৌতুকের দাবীতে প্রায় সময় তাকে নির্যাতনসহ নানা অত্যাচার করে আসছিল। সংসার ও সন্তানদের ভবিষৎতের কথা বিবেচনা করে আসামীর সমস্ত অত্যাচর ও নির্যাতন সহ্য করে বাদী। অন্যদিকে আসামী ৬ বছর যাবৎ সংসারের খোঁজ-খবর না নিয়ে গোপনে কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় চলে আসে। গত ২৫ এপ্রিল ১৩ ইংরেজি সকালে বাদী খবর পায়, আসামী কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় ভাড়া বাসা নিয়ে বিয়ের নামে অবৈধ সংসার করে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসামীর সাথে বাদীর দেখা হলে জানতে চায় বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা বাবৎ ১লাখ টাকা এনেছে কি না। পরে ছকিনা অনিহা প্রকাশ করলে আসামী তাকে ব্যাপক মারধর করে। তার (বাদীর) চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে কক্সবাজারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে। এতে নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি জসিম উদ্দিনকে বিষয়টি অবগত করে এবং ওসির আন্তরিক সহযোগিতায় আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
এবিষয়ে ছকিনা খাতুনের ভাই এম. জসিম উদ্দিন ও এম. আমান উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত থেকে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে প্রায় ১ বছর আগে। অথচ আসামী থানার পাশেই রয়েছে কিন্তু পুলিশ কি কারনে আসামীকে আটক করছে না তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অপরদিকে আসামী জামিন পাওয়ার পর থেকে আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধুমকি দিয়ে আসছে। উক্ত মামলার আসামীকে দ্রুত আটক করার জন্য মহেশখালী থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে মহেশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, আসামী ধরতে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। বিষয়টির ব্যাপারে আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।