শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাজিবপুরে পারিজা জাতের ধান কাটার ধুম

আপডেটঃ ৬:০৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১২, ২০১৪

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম থেকে  :
শ্রাবণ মাসে যখন আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়, তখন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় আগাম পারিজা জাতের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়ে। এবার ফলন ভাল হওয়ায় এবং অসময় ধান পেয়ে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। কেননা পারিজা ধান কেটেই কৃষকরা রোপণ করছেন আমন ধানের চারা। আগে এই এলাকার কৃষকরা বোরো ধান কেটে অপেক্ষা করতেন আমন ধান চাষের জন্য কিন্তু এখন এই এলাকার কৃষকরা বোরো ধান কেটে লাগিয়ে ছিলেন স্বল্পমেয়াদি পারিজা ধান। চারা লাগানোর ৭০ থেকে ৭২ দিনের মধ্যেই কৃষকরা পারিজা ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য, রৌমারী উপজেলায় চলতি বছরে আমন মওসুমে খরাসহিষ্ণু ধান ব্রি-৫৬, ব্রি-৫৭ বিইউ ১ ধান সরিষা বারী-১৪, মুগডাল-৬ কর্তনের পর একই জমিতে পারিজা ধান চাষ কার্যক্রম কৃষকদের মাঝে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রাবণ মাসে সাধারণত কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকে।

২০১১ সালের নভেম্বর মাস থেকে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আরডিআরএস বাংলাদেশ ও ঝুমকা বাংলাদেশ-এর সাথে যৌথভাবে কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষকদের মাঝে ১ বছরে ১টি জমিতে ৪টি ফসল ফলানোর নিমিত্তে স্বল্পমেয়াদি ব্রি-৫৬, ব্রি-৫৭, বিইউ ১ ধান, সরিষা, মুগডাল ও পারিজা ধান চাষ সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে। শস্য নিবিড়তা এবং একই জমিতে বছরে ৪টি ফসল উৎপাদন করাই এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

স্বল্পমেয়াদি এই ধান (আশ্বিন-কার্তিক) কেটে অনায়াসে অগ্রহায়ণে প্রথমেই আলু ও সরিষা চাষ করতে পারবেন, সরিষা কর্তন করে মুগডাল চাষ, মুগডাল কর্তন করে পরিজা ধান চাষ। এই কার্যক্রম একদিকে যেমন মঙ্গার সময় কৃষকদের বাড়তি কাজের জোগান দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি এই ফসল এর খড় গো-খাদ্য এবং কৃষকদের বাড়তি আয়ের জোগান দিচ্ছে।
রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত ডাংগুয়া পাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান- আমাদের এই সমস্ত জমিতে আগে বোরোর আবাদ করার পর মাঝে ২ আড়াই মাস জমি পতিত থাকত, কিন্তু এই পারিজা ধান আসার পর আর জমি পতিত থাকছে না। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষে ধান লাগালে শ্রাবণ মাসেই ধান পাকা শুরু করে। অল্প দিনেই এই ধান আসে, ফলনও বিঘা প্রতি ৪০/৫০ মণ পাওয়া যায়।

রৌমারী কৃষি কর্মকর্তা আজিজল হক জানান- রৌমারী উপজেলার বড় সড়কের পূর্বপাড়ে বন্যার পানি না ঢোকার কারণে ওই এলাকার কৃষককেরা বছরে ৪ ফসলের আবাদ করতে পারছে। তারমধ্যে পারিজা ধান নতুনভাবে আবাদের প্রচলন শুরু হয়েছে বিশেষ করে শৈলমারী ইউনিয়নের ডাংগুয়াপাড়া গ্রামে। এই অসময়ে ধানের আবাদ করতে পেরে কৃষকরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন রৌমারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপর। তাদের মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেয়ার কারণে ফলন ও ভাল হয়েছে।