শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

“ভূয়া এমপি-সাংবাদিকে ভরে গেছে”

আপডেটঃ ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৩, ২০১৪

গাড়িতে সংসদ সদস্য ও সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করছে। আর এদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।OBAIDUL-KADAR_60771

সড়ক ও জনপথ অধিদফর এবং ইউএন এস্কেপের ও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহযোগীতায় মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ অন সাসটেইনেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ট্রান্সপোর্ট শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভূয়া স্টিকার লাগানো এসব এমপি ও সাংবাদিকে দেশ ভরে গেছে। বলতে খারাপ লাগে তারপরও এটাই সত্য। এখন থেকে ট্রাফিক পুলিশের উচিত হবে এসব স্টিকার লাগানো এমপি ও সাংবাদিকের গাড়িগুলো চেক করা।’
যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মন্ত্রী- ভিআইপি, এজন্য আমি রং সাইড (বিপরীত রোডে) দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আইন ভাঙবো তাহলে তো হবে না। আমি ল মেকার হয়ে যদি ল ব্রেক করি, তাহলে অন্যরা কি করবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় যানজট শুধু মাত্র যানের জন্যই হচ্ছে না। এখানে জনজটও রয়েছে। জনজটের কারণেই মুলত এসব স্থানে যানজট লেগে থাকে। পথচারীরা অনেক বেপরোয়া। কোনো সিগন্যাল, সিম্বল না মেনে, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে এক জোট হয়ে সাত থেকে আট জন রাস্তার পার হয়। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়- দ্রুত গতির কোনো গাড়ি এসে কোনো একজনকে চাপা দেয়। তখন দোষটা হয় ড্রাইভারের।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি মৌসুমি দৌড়ঝাঁপ করি না। আমি সব সময় রাস্তায় থাকি। মন্ত্রী হয়েছি বলে আমাকে বসে থাকতে হবে আর ঈদের মতো সময়গুলোতে মৌসুমি দৌড়ঝাঁপ দিতে হবে- এমনটি বিশ্বাস করি না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোরবানির ঈদ এখনও অনেক দেরি কিন্তু আমি বসে নেই। ঈদকে সামনে রেখে যা করা উচিত এখনই করা শুরু করেছি। আমি মন্ত্রী হয়েছি বলে রাস্তায় নামতে পারবো না তা হবে না। বসে বসে নির্দেশনা দিলেই কাজ হয় না। রাস্তায় নেমে কাজ তদারকিও করতে হয়। আমি রাস্তায় নেমে অনেক বেদখল হওয়ার রাস্তা দখলমুক্ত করেছি। সব হয়েছে তা নয়। আস্তে আস্তে হবে।’
যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রী হিসেবে যে আমি সফল, সব কাজই করেছি এমন দাবি আমি করবো না। তবে আগের চাইতে অনেক কাজ হয়েছে। এখন আর গাবতলী আরিচা রুটে দুর্ঘটনা ঘটে না। এই রুটটা ছিলো সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন মহাসড়কের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের যে হাইওয়ের কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এধরনের প্রকল্পে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। দেখা যায় সাইড প্লানের মধ্যে কয়েকটা মসজিদ রয়েছে, কবরস্থান রয়েছে, স্কুল মাদরাসা রয়েছে। চাইলেই এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। দেখেন না চেষ্টা করে পারেন কিনা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসব প্রকল্পের কাজ করতে হচ্ছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ওনেকেই বলেন আমি রাস্তায় নামলে নাকি যানজট সৃষ্টি হয়। আমি যদি রাস্তায় না নামি তাহলে রাস্তার খবর কে নিবে। আপনারা (সাংবাদিক) আমার ও আমার কাজের সমালোচনা করুন। এতে আমি রাগ করি না বরং আমার কাজের জন্য উপকার হয়। কিন্তু তাই বলে শুধু সমালোচনা করবেন তা হয় না। আমাদের ইতিবাচক কাজগুলোর কথাও প্রকাশ করুন।’
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম রাজখানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক, শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুব উল আলম প্রমুখ।