মঙ্গলবার ১১ই মে, ২০২১ ইং ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কক্সবাজার মাদকের জোয়ারে ভাসছে

আপডেটঃ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৩, ২০১৪

জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী কক্সবাজার
মিয়ানমার থেকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা আমদানি-নিষিদ্ধ নেশার বড়ি ইয়াবা ও নানা প্রজাতির মাদকের জোয়ার কোনো-মতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। এসব ইয়াবা চালান পর্যটন নগরী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোষ্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হাতে একের পর এক ইয়াবা চালান ধরা পড়লেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এদিকে পর্যটন মৌসুমকে টার্গেট করে জমজমাট হয়ে উঠেছে কক্সবাজারে মাদক ব্যবসা। শহরের হোটেল-মোটেল জোনসহ জেলা শহরের অলি গলিতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইনসহ নানা প্রজাতির বিদেশী মাদক। মাদকের আগ্রাসন থেকে কোন ভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছেনা পর্যটন নগরীতে বেড়াতে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকসহ কক্সবাজারবাসীকে। শহরের অলি গলিতে এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেট ও নানা প্রকার মাদক। অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে হোটেল মোটেল জোনসহ জেলায় অসংখ্য লোকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিজিবি ১লা জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫২ কোটি ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৪ শত ৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করেন। এদিকে জেলা পুলিশ, র‌্যাব, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, বিজিবি মিলিয়ে  ১৭ কোটি ৭২ লাখ ৩ হাজার ৫ শত টাকার ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়। অন্যদিকে টেকনাফ কোস্টগার্ড ১ লাখ ২৫ হাজার পিস ইয়াবা আটক করেছেন বলে ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল হারুণ অর রশিদ জানান। এব্যাপারে কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ও সীমান্ত এলাকার এক শ্রেণীর চিহ্নিত মাদক সিন্ডিকেটের ইশারায় ২৭১ কি.মি. সীমান্তের দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ও বিদেশী মাদক। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এই পর্যন্ত ১৭ ও ৪২ বিজিবি ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬৮ পিস ইয়াবা যার মূল্য ২৮ কোটি ৭২ লাখ ৩৪ হাজার ৪ শত টাকার ইয়াবা। গাজা ২১ কেজি ২৫৪ গ্রাম, ক্যান ১৩ হাজার ৩৫ পিস, বিদেশী মদ ৬ হাজার ৪ শত ৮৭ বোতল, খোলা মদ ১ হাজার ৩ শত ১৬ লিটার সর্বমোট যার মূল্য ৫২ কোটি ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৪ শত ৫ টাকার মাদক দ্রব্য আটক করে। বিজিবি এই পর্যন্ত মাদক পাচারে জড়িত থাকায় ১৮০ জন আটক করেন।তবে আইনী ফাঁক-ফোকর ও নানা দূর্বলতার সুযোগে পাচারকারীরা ছাড়া পেয়ে পুনরায় লিপ্ত হচ্ছে পাচার কাজে। পাচারকারীরা সীমান্তবর্তী টেকনাফের ৬৩ কিলোমিটার নাফ নদী দিয়ে প্রতিনিয়ত এসব ইয়াবা নিয়ে আসে। এসব ইয়াবা প্রতিরোধে সবসময় বিজিবি জোয়ানরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থান দিয়ে জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৬ হাজার ১ শত ৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৪৫১ জনকে। মামলা করা হয়েছে ৩০৭টি। এসব ইয়াবা পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবিসহ সব মিলিয়ে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক দ্রব্য যাতে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্যই সবসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কাবস্থানে রয়েছে। এসব মাদকদ্রব্যের পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।