শুক্রবার ৫ই মার্চ, ২০২১ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কে বড়- মেয়র মন্ত্রী বিচারপতি না সংসদ

আপডেটঃ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৬, ২০১৪

উল্লিখিত শিরোনামে একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি চট্টগ্রামের মেয়র থাকাকালীন পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখেছিলাম। আজকের প্রতিপাদ্য বিষয়টি লেখার আগে ঘটনাটির অবতারণা করতে চাই। ১৯৯২ সালের শেষ দিকে সকালে মেয়রের দফতরের কাজ করার সময় একটি টেলিফোন এলো অপর প্রান্ত থেকে, বলছিলেন- ‘আমি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ইফতেকার রসুল আপনার সাথে দেখা করতে চাই আপনার অফিসে অথবা বাসায়।’ আমি তাকে সরাসরি বললাম, এটা সম্ভব নয়, আমার এই জবাবে তিনি অত্যন্ত অবাক হলেন এবং বলতে লাগলেন আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না। আমি সেই ইফতেকার রসুল চট্টগ্রামের প্রথম সাবজজ আদালতে দায়িত্ব পালন করেছিলাম, তার কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি তাকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞচিত্তে বললাম, ভুলে যাওয়াটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, কিন্তু জীবনে এমন কতগুলো ঘটনা স্মৃতিপটে চিরজাগরুক থাকে, যা কোনো দিন ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আরও বললাম, আমি সহকারী জজের পদ থেকে পদত্যাগ করে ১৯৭৮ সালের প্রথম দিকে পুনরায় যখন চট্টগ্রাম জজ আদালতে আইন পেশা শুরু করি, সেই দিনগুলোতে আপনার আদালতে আমার ওকালতি করার ঘটনা এবং আপনার সহানুভূতি ও সহমর্মিতার কথা আমি জীবনে কোনো দিন ভুলব না। আমার এ কথাগুলো শোনার পরও তিনি আমাকে বার বার বলেছিলেন, ‘আমার যে আজকের মধ্যেই আপনার সাথে দেখা করা অত্যন্ত জরুরি, আপনি অফিসে বেশি ব্যস্ত থাকলে আপনার প্রদেয় যে কোনো সময়ে আমি আপনার বাসায় দেখা করতে চাই।’ এ ধরনের অনুরোধের পরও আমি পুনরায় বললাম, তাও সম্ভব নয়। তিনি অত্যন্ত মন খারাপ করে টেলিফোন রেখে দিলেন। আমিও টেলিফোন রেখে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গেলাম আমার সেই আইন পেশার দিনগুলোতে। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল তার মতো অনেক জজ সাহেবের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলাম চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ অফিসে বা বাসায় আমার সঙ্গে দেখা করেন, তাহলে বিচারালয়ের সেই আদি গৌরবের মর্যাদাহানি হবে এবং একটি ভুল বার্তা যাবে সমাজে। আমি যখন সিলেটের জজকোর্টে সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম তৎকালীন বিএনপির মন্ত্রী তৈয়ুমুর রাজা আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আমি সেটা এভয়েট করেছি, কেননা আমারই আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলার শুনানি চলছিল। সিলেটের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিতেন্দ্র বাবু ও পুরকায়স্ত বাবু, অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া সাহেব লড়ছিলেন। যাক ওসব কথা, আমি আমার পিএসকে বললাম সুকৌশলে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইফতেকার রসুল সাহেব ওই দিন সন্ধ্যায় কোথায় থাকবেন তার অগোচরে তার স্টাফদের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার জন্য। আমার পিএস মহিবুল হক বর্তমানে জয়েন্ট সেক্রেটারি, আমাকে জানালেন, জেলা জজ সাহেব সন্ধ্যায় বাসায় থাকবেন। আমি তাকে কিছু না বলে আমার সন্ধ্যা ও রাতের সব কর্মসূচি বাতিল করলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম সন্ধ্যার পর যে কোনো সময় জেলা জজ বাহাদুরের বাসভবনে যাব তার সঙ্গে দেখা করার জন্য, কী কারণে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তা জানার জন্য এবং ব্যক্তিগতভাবে তার বাসায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে সকালে যে তার সঙ্গে দেখা না করায় মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন তা মিটে যাবে। আর আমিও জীবনে একটি সুযোগ পেলাম একজন বিচারকের তার প্রাপ্য সম্মান দেখানোর। একদিকে তার প্রদত্ত সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সহানুভূতির ঋণ পরিশোধ করা, অন্যদিকে আদালতের মান-মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার আমার একটি ছোট্ট প্রয়াস। যাক সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আমার মরহুমা সহধর্মিণী ডালিয়াকে জজ সাহেবকে সকালে সাক্ষাৎ প্রদানে অস্বীকৃতি জানার এবং সন্ধ্যায় তার বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করায় ও অত্যন্ত আনন্দিত এবং পুলকিত বোধ করল। আমি রাত ৮টার দিকে আমার বাসা থেকে জেলা জজ বাহাদুরের বাসভবনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে জজ সাহেবের আর্দালিদের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেল। আমি গাড়ি থেকে নেমে বাসভবনের বারান্দায় পৌঁছামাত্রই দেখলাম চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইফতেকার রসুল সাহেব (মরহুম পরে হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন) দৌড়ে এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আল্লাহতায়ালা আপনাকে অনেক বড় করবেন। আপনি যেই অসামান্য সম্মান আমাকে দেখিয়েছেন তার জন্য আমি আপনাকে সারা জীবন দোয়া করব এবং আপনার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় আমি খুবই মানসিক কষ্টে ছিলাম এবং ভাবতেও পারিনি, আপনি আমাকে সাক্ষাৎ প্রদানে অস্বীকৃতি জানাবেন, এ কথা বলে তিনি আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন ড্রইংরুমের দিকে। ড্রইংরুমে বসে তাকে বললাম, জজ হিসেবে আপনার সম্মান ও মর্যাদা মন্ত্রী-মেয়রের অনেক উপরে। মন্ত্রী ও মেয়রের আদেশ আইনসম্মত না হলে আপনিই তা বাতিল করতে পারেন, অর্থাৎ লালসালু ঘেরা জজ সাহেবদের এজলাস হচ্ছে এ দেশের মানুষের শেষ ভরসাস্থল এবং আইন পেশা থেকে আসা একজন রাজনীতিক হিসেবে আপনার চেয়ারের মান-মর্যাদা সমুন্নত রাখতেই আমি আপনাকে আমার অফিস বা বাসায় সাক্ষাৎ দেইনি। এতে তিনি আনন্দে উল্লসিত হলেন এবং তার বক্তব্য শুনে ওখানে বসেই সিডিএ-র চেয়ারম্যানকে বলে দিলাম, জেলা জজ বাহাদুরের বাসভবনের বাউন্ডারির মধ্যে কোনো অবস্থায়ই যেন কোনো ENCROACHMENT না হয়। এতদিন পর আমার সেই লেখাটির অবতারণা করলাম এ জন্যই যে, পত্রিকায় দেখলাম বর্তমান সরকার আইন করে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের (অপসারণ) ক্ষমতা জাতীয় সংসদে ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানে সংশোধনী আনছে। এ ব্যাপারে আমি শুধু বলতে চাই, রাজনীতিবিদদের স্মরণে থাকার কথা কোনো সামরিক স্বৈরশাসক যখন ক্ষমতা দখল করেন তখন তাদের প্রথম টার্গেট হচ্ছে প্রথিতযশা রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন, বিশেষ আদালতে তাদের বিচারের নামে প্রহসন করে শাস্তি প্রদান এবং দ্বিতীয় টার্গেট হচ্ছে বিচারালয়। অর্থাৎ উচ্চ আদালত। ১৯৫৮ সালের আইউব খানের সামরিক শাসন, ১৯৬৯ সালের ইয়াহিয়া খানের শাসন, ১৯৮২ সালের জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকার এ দেশের রাজনীতিবিদদের সাজা দিয়েছে। পরবর্তীতে সিভিল গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রাজনীতিবিদদের একমাত্র ভরসাস্থল হচ্ছে উচ্চ আদালত। সামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় হাইকোর্টে আপিল দায়ের করে তা বাতিল করে দেন মহামান্য হাইকোর্টের বিচারকরা। এমনকি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক রাজনীতিবিদকে দুর্নীতির অভিযোগ এনে গ্রেফতার এবং এর বিচারের জন্য বিশেষ আদালত বসিয়ে সাজা প্রদান করা হয়। সেই বিশেষ আদালতের রায়কে হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতিরা বাতিল করে দেন এবং সেই দুঃসময়ে আমাদের দেশের উচ্চ আদালতের বিচারপতি সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজনীতিবিদদের জামিন মঞ্জুর করেন। আমাদের দেশের হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতিরা বিভিন্ন সময়ে স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বিএ সিদ্দিকী টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। ওয়ান-ইলেভেনের সময় হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতিদের বঙ্গভবনে চা আপ্যায়নের নামে ডেকে নেওয়ার ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। আমাদের হাইকোর্টের প্রথিতযশা মহামান্য বিচারপতিরা স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভয়ভীতির ঊর্ধ্ব উঠে বিচারপতির আসনের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন অথচ আজকের রাজনীতিবিদদের দ্বারা পরিচালিত সরকার হঠাৎ করে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের আওতায় নেওয়ার কারণ বোধগম্য নয়। সাংবিধানিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এনে রাষ্ট্রপতি শাসিত একদলীয় সরকার চালু করে সর্বপ্রথম বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতির হাতে নিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়।

পরবর্তীতে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এপিলেট ডিভিশনের দুজন সিনিয়র বিচারপতির সমন্বয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার ফলে আমাদের উচ্চ আদালতের মহামান্য বিচারকবৃন্দের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যাত্রা শুরু হয় এবং বিচার বিভাগকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মহামান্য বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা তাদের হাতে ন্যস্ত করে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখা হয়। যেখানে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে এক ব্যক্তি বা রাষ্ট্রপতির হাতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা নিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেব মহামান্য বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করে এক স্বাধীন বিচার বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সেই নিরিখেই বিগত ৩৫টি বছর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকে নগ্ন দলীয়করণের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। বর্তমানে এমন কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, মহামান্য বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে দিতে হবে। ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ যেসব দেশে সংসদের হাতে অভিশংসনের ব্যবস্থা আছে বর্তমান সংসদ আসলে কি সেসব দেশের আদলে গঠিত হয়েছে। যে সংসদে ১৫৩ জন অটো এমপি, দেশের শতকরা পাঁচ শতাংশ লোক ভোট দেয়নি, একটি ভোটারবিহীন অটো ও ম্যানুয়াল এমপি দ্বারা যে সংসদ চলছে, সেই সংসদে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা প্রদান করা হবে আত্দঘাতী ও দুরভিসন্ধিমূলক। ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও স্বাধীন বিচার বিভাগকে পঙ্গু করে দেওয়ার এক নীলনকশা। আমাদের বিচার বিভাগের মহামান্য বিচারপতিরা স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যুগ যুগ ধরে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন স্বৈরশাসক কর্তৃক মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেনি। আর আমাদের নবম সংসদে (২০১২ সালে আমাদের হাইকোর্টের একজন প্রথিতযশা বিচারপতির অপসারণের দাবিতে সংসদে যে কজন সংসদ সদস্য, স্পিকার আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে যে ভাষায় বক্তব্য রেখেছিলেন, জাতি সেদিন স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল)। আমি ব্যক্তিগতভাবে কায়মনোবাক্যে সে পরিস্থিতির অবসান চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে আমাদের বিচারালয়। যে কোনো মূল্যে তার মান-মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, ওইদিন সংসদে মহামান্য বিচারপতির বিরুদ্ধে যারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন তাদের কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের পর আমাদের মহামান্য বিচারপতিরাই জামিন দিয়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। আর ওই সংসদ সদস্যরা সেই মহামান্য প্রথিতযশা বিচারপতির অপসারণ দাবি করেছিলেন। বক্তব্য রাখার সময় তারা বেমালুম ভুলে গেলেন, যিনি সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দিতে পারবেন না তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখাটা সংসদীয় রীতিনীতি বিরুদ্ধ। আজ যদি জাতির সামনে তাদের বক্তব্য পুনঃপ্রচার করে শুনানো হয়, তাহলে তারা নিজেরাও লজ্জিত হবেন। আর ওই দিন তারা যার অপসারণ দাবি করেছিলেন তিনি তার মেধাবলে বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মহামান্য বিচারপতি। শুধু বলতে চাই, কোনো বিচারেই আমাদের সংসদ ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মেধার সমতুল্য নয়। পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দেশের বিচারপ্রার্থী মানুষ শুধু নয়, রাজনীতিবিদদেরও শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে বিচার বিভাগ। স্বৈরশাসনের রোষানল থেকে রাজনীতিবিদদের মানসম্মান রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের উচ্চ আদালত ভূমিকা রেখেছে তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিচার বিভাগের মানমর্যাদা, সম্মান ও স্বাধীনতা রক্ষায় বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা প্রদান বিল সংসদে উত্থাপন না করার আহ্বান জানিয়ে শুধু বলব, মহামান্য বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও প্রথিতযশা মহামান্য বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চ যদি সঠিক সময়ে সুয়োমোটো রুল ইস্যু না করতেন তা হলে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আসামি গ্রেফতার কার্যক্রম দিনের আলো দেখত না। এরকম হাজারো নজির স্থাপন করেছেন আমাদের মহামান্য বিচারপতিরা। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিমকোর্টের অন্যান্য বিচারক নিয়োগ ও অপসারণের সম্পূর্ণ ক্ষমতা তিনি নিজের হাতে রেখেছিলেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে (প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে) নিয়োগের যে বিধান ছিল সেটাও বিলুপ্ত করা হয় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে অন্যসব বিচারক নিয়োগ ও তাদের অপসারণের সম্পূর্ণ এখতিয়ার ছিল এক ব্যক্তির ইচ্ছা ও অনিচ্ছার ওপর। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান সেই চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করে পঞ্চম সংশোধনী করার মধ্য দিয়ে সুপ্রিমকোর্টে