বুধবার ৩রা মার্চ, ২০২১ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

অবিরল অশ্রুঝরা দিন আজ সেই দিন, বাংলার ইতিহাসে অবিরল অশ্রুঝরা দিন।

আপডেটঃ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৬, ২০১৪

সৈয়দ শামসুল হক

আজ সেই দিন, বাংলার ইতিহাসে অবিরল অশ্রুঝরা দিন। এই জাতি এই দেশের স্বপ্নমূলে নির্মম কুঠার হেনে বাংলা ও বাঙালির চিরবিরোধীরা পিতাকে ছেদন করে পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট এই দিনটিতে। সময় প্রবহমান; এই দেশ এই জাতি সেই থেকে বিপুল এক অশ্রুবারিধিতে ভাসমান। বাঙালি পিতৃহারা হয় এই দিনটিতে; তিনিই সেই পিতা যিনি বাঙালির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্নবীজটিকে লালন করে রোপণ করেন সবুজ এ মাটিতে, ফলবান করে তোলেন একাত্তরের ছাবি্বশে মার্চে তাঁর দৃপ্ত সেই ঘোষণায়- আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। যাও, যুদ্ধে যাও, মাতৃভূমিকে মুক্ত করো। অবিরল অশ্রুঝরা দিন

10592993_264902613699604_2770752233486095676_n

বাংলাদেশের স্থপতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম বাঙালির ইতিহাসে ও প্রকৃত বাঙালি প্রতিটি মানুষের অন্তরে সোনার অক্ষরে লিখিত হয়ে আছে। বাংলাদেশের হৃদয়-গভীর শ্যামল একটি গ্রাম টুঙ্গিপাড়া থেকে উত্থিত হন তিনি, তারপর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের ধারাবাহিকতায় নিজেকে স্থাপিত করেন ইতিহাসের পটভূমিতে বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নের অনন্য মুক্তিদাতা রূপে। স্থির পদবিক্ষেপে তিনি আমাদের প্রাণিত করেন মুক্তিযুদ্ধে। তাঁরই রণমন্ত্র জয় বাংলা কণ্ঠে ও বাহুতে ধারণ করে বিজয় অর্জিত হয় একাত্তরে।

তিরিশ লক্ষ রক্তের বিপুল সাগর দিগন্তে উদিত হয় বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য। দশ লক্ষ মা-বোনের লুণ্ঠিত সম্ভ্রম ও কোলশূন্য আহাজারি মথিত আকাশ বাতাসে উড্ডীন হয় স্বাধীন সোনার বাংলার দৃপ্ত পতাকা। কোটি কণ্ঠে জয় বাংলা ধ্বনির প্লাবনে ভেসে যায় পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। বিশ্ব অবাক হয়ে চেয়ে রয় বাঙালি ও বঙ্গবন্ধুর দিকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের নিপীড়িত শৃঙ্খলিত সকল মানুষের কাছে হয়ে ওঠেন মুক্তির প্রতীক। কিন্তু তাঁর অটল অজেয় নেতৃত্বে মুক্তির এই অর্জন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির এ বিজয় মেনে নিতে পারে না বাঙালির প্রতিপক্ষ।

তারা আঘাত হানতে উদ্যত হয়। তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তির প্রতীক বঙ্গবন্ধুকে নিহত করে বাঙালির স্বাধীনতাকেই উচ্ছেদ করে দিতে। বাঙালির এক ইতিহাস তীর্থ, ঢাকার ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। এই ভবনে রাতের আঁধারে সশস্ত্র তারা হানা দেয়। একের পর এক বুলেটের ঘায়ে তারা হত্যা করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাসহ বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে, পরিবারের আরও অনেককেই। বাঙালির স্বাধীন-সার্বভৌম মাটি ভিজে ওঠে জাতির পিতার উষ্ণ তাজা রক্তে।

পিতার সে রক্ত আজও শুকোয়নি এ বাংলাদেশে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ভিজে আছে পুণ্য সেই রক্তে। বাঙালির ইতিহাস প্লাবিত হয়ে আছে সে রক্তে। আজও বাংলার পূর্ব দিগন্তে প্রতি ভোরে যে সূর্য ওঠে, জাতির পিতার লাল রক্ত মেখেই সে উদিত। প্রতিটি ভোরের ওই সূর্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই অমর বজ্রকণ্ঠ উচ্চারণ- রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।

একাত্তরের সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক ভাষণে মুক্তির দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনটি ক্ষেত্রে- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি। পিতাকে হত্যা করার পর ঘাতকেরা ওই তিন ক্ষেত্রেরই মুক্তি বিপন্ন করে তুলবার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়, জাতি জেগে ওঠে। পিতার স্বপ্ন ও সংগ্রামী আদর্শে জাগ্রত দেশ-মানুষ বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্যখচিত পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকে সমুন্নত করে রাখে বাংলা ও বাঙালিবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর রক্তধারার চেতনা ধারার আদর্শ ধারার গণশক্তি সহায়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বঙ্গবন্ধুরই মানস-প্রতিভূ শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ, সোনার বাংলা গঠনের কাজ, আজ তুমুল গতিসহ দুর্দম বেগে এগিয়ে চলেছে। শোক আজ অগি্নতে পরিণত। এই অগি্ন মুক্তিযুদ্ধজাত এই দেশটিরই সকল অন্ধকার বিনাশের বিশাল মশাল থেকে প্রজ্বলিত। এই মশাল হাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতি আজ দৃপ্ত পায়ে অগ্রসরমান সেই দিনটির লক্ষ্যে, যে-দিনটির স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু একদিন এই অমাবস্যা নিমজ্জিত দেশে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, আমাদের প্রাণিত করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, আমাদের কণ্ঠে দিয়েছিলেন রণমন্ত্র জয় বাংলা, যে-দিনটির জন্যে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবার-পরিজনসহ নিজ বুকের শেষ রক্ত ফোঁটা পর্যন্ত দান করে গেছেন।

এই রক্তের শপথ, বঙ্গবন্ধু! হে আমাদের জাতির পিতা, হে শৃঙ্খলিত মানুষের মুক্তিদাতা, তোমার শাহাদতের এই দিনটিতে তুমি আমাদের শোকের তরঙ্গশীর্ষে ঢালো আলোর বন্যা, আমাদের প্রাণে আনো দ্বিগুণ উদ্দীপনা, বাড়িয়ে দাও মনোবল, দৃঢ় করো প্রত্যয়, যেন তোমারই পথ ধরে আমরা পেঁৗছুতে পারি সোনার বাংলায়, যেন আমরা তোমারই আলোয় স্নাত হয়ে তোমারই মতো বলে উঠতে পারি, যেমন তুমি ফাঁসির কাঠগড়া উপেক্ষা করে একদিন বলে উঠেছিলে- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, জয় বাংলা!

– সমকাল
ছবিঃ মোঃ সাইদুল ইসলাম ।

Photo: অবিরল অশ্রুঝরা দিন
আজ সেই দিন, বাংলার ইতিহাসে অবিরল অশ্রুঝরা দিন।
সৈয়দ শামসুল হক

আজ সেই দিন, বাংলার ইতিহাসে অবিরল অশ্রুঝরা দিন। এই জাতি এই দেশের স্বপ্নমূলে নির্মম কুঠার হেনে বাংলা ও বাঙালির চিরবিরোধীরা পিতাকে ছেদন করে পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট এই দিনটিতে। সময় প্রবহমান; এই দেশ এই জাতি সেই থেকে বিপুল এক অশ্রুবারিধিতে ভাসমান। বাঙালি পিতৃহারা হয় এই দিনটিতে; তিনিই সেই পিতা যিনি বাঙালির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্নবীজটিকে লালন করে রোপণ করেন সবুজ এ মাটিতে, ফলবান করে তোলেন একাত্তরের ছাবি্বশে মার্চে তাঁর দৃপ্ত সেই ঘোষণায়- আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। যাও, যুদ্ধে যাও, মাতৃভূমিকে মুক্ত করো। অবিরল অশ্রুঝরা দিন

বাংলাদেশের স্থপতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম বাঙালির ইতিহাসে ও প্রকৃত বাঙালি প্রতিটি মানুষের অন্তরে সোনার অক্ষরে লিখিত হয়ে আছে। বাংলাদেশের হৃদয়-গভীর শ্যামল একটি গ্রাম টুঙ্গিপাড়া থেকে উত্থিত হন তিনি, তারপর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের ধারাবাহিকতায় নিজেকে স্থাপিত করেন ইতিহাসের পটভূমিতে বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নের অনন্য মুক্তিদাতা রূপে। স্থির পদবিক্ষেপে তিনি আমাদের প্রাণিত করেন মুক্তিযুদ্ধে। তাঁরই রণমন্ত্র জয় বাংলা কণ্ঠে ও বাহুতে ধারণ করে বিজয় অর্জিত হয় একাত্তরে।

তিরিশ লক্ষ রক্তের বিপুল সাগর দিগন্তে উদিত হয় বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য। দশ লক্ষ মা-বোনের লুণ্ঠিত সম্ভ্রম ও কোলশূন্য আহাজারি মথিত আকাশ বাতাসে উড্ডীন হয় স্বাধীন সোনার বাংলার দৃপ্ত পতাকা। কোটি কণ্ঠে জয় বাংলা ধ্বনির প্লাবনে ভেসে যায় পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। বিশ্ব অবাক হয়ে চেয়ে রয় বাঙালি ও বঙ্গবন্ধুর দিকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের নিপীড়িত শৃঙ্খলিত সকল মানুষের কাছে হয়ে ওঠেন মুক্তির প্রতীক। কিন্তু তাঁর অটল অজেয় নেতৃত্বে মুক্তির এই অর্জন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির এ বিজয় মেনে নিতে পারে না বাঙালির প্রতিপক্ষ।

তারা আঘাত হানতে উদ্যত হয়। তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তির প্রতীক বঙ্গবন্ধুকে নিহত করে বাঙালির স্বাধীনতাকেই উচ্ছেদ করে দিতে। বাঙালির এক ইতিহাস তীর্থ, ঢাকার ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। এই ভবনে রাতের আঁধারে সশস্ত্র তারা হানা দেয়। একের পর এক বুলেটের ঘায়ে তারা হত্যা করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাসহ বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে, পরিবারের আরও অনেককেই। বাঙালির স্বাধীন-সার্বভৌম মাটি ভিজে ওঠে জাতির পিতার উষ্ণ তাজা রক্তে।

পিতার সে রক্ত আজও শুকোয়নি এ বাংলাদেশে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ভিজে আছে পুণ্য সেই রক্তে। বাঙালির ইতিহাস প্লাবিত হয়ে আছে সে রক্তে। আজও বাংলার পূর্ব দিগন্তে প্রতি ভোরে যে সূর্য ওঠে, জাতির পিতার লাল রক্ত মেখেই সে উদিত। প্রতিটি ভোরের ওই সূর্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই অমর বজ্রকণ্ঠ উচ্চারণ- রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।

একাত্তরের সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক ভাষণে মুক্তির দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনটি ক্ষেত্রে- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি। পিতাকে হত্যা করার পর ঘাতকেরা ওই তিন ক্ষেত্রেরই মুক্তি বিপন্ন করে তুলবার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়, জাতি জেগে ওঠে। পিতার স্বপ্ন ও সংগ্রামী আদর্শে জাগ্রত দেশ-মানুষ বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্যখচিত পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকে সমুন্নত করে রাখে বাংলা ও বাঙালিবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর রক্তধারার চেতনা ধারার আদর্শ ধারার গণশক্তি সহায়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বঙ্গবন্ধুরই মানস-প্রতিভূ শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ, সোনার বাংলা গঠনের কাজ, আজ তুমুল গতিসহ দুর্দম বেগে এগিয়ে চলেছে। শোক আজ অগি্নতে পরিণত। এই অগি্ন মুক্তিযুদ্ধজাত এই দেশটিরই সকল অন্ধকার বিনাশের বিশাল মশাল থেকে প্রজ্বলিত। এই মশাল হাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতি আজ দৃপ্ত পায়ে অগ্রসরমান সেই দিনটির লক্ষ্যে, যে-দিনটির স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু একদিন এই অমাবস্যা নিমজ্জিত দেশে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, আমাদের প্রাণিত করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, আমাদের কণ্ঠে দিয়েছিলেন রণমন্ত্র জয় বাংলা, যে-দিনটির জন্যে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবার-পরিজনসহ নিজ বুকের শেষ রক্ত ফোঁটা পর্যন্ত দান করে গেছেন।

এই রক্তের শপথ, বঙ্গবন্ধু! হে আমাদের জাতির পিতা, হে শৃঙ্খলিত মানুষের মুক্তিদাতা, তোমার শাহাদতের এই দিনটিতে তুমি আমাদের শোকের তরঙ্গশীর্ষে ঢালো আলোর বন্যা, আমাদের প্রাণে আনো দ্বিগুণ উদ্দীপনা, বাড়িয়ে দাও মনোবল, দৃঢ় করো প্রত্যয়, যেন তোমারই পথ ধরে আমরা পেঁৗছুতে পারি সোনার বাংলায়, যেন আমরা তোমারই আলোয় স্নাত হয়ে তোমারই মতো বলে উঠতে পারি, যেমন তুমি ফাঁসির কাঠগড়া উপেক্ষা করে একদিন বলে উঠেছিলে- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, জয় বাংলা!

- সমকাল 
ছবিঃ মোঃ সাইদুল ইসলাম ।