বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বেসিক ব্যাংকের ডিএমডি ও জিএমের অ্যাকাউন্টে শতকোটি টাকা

আপডেটঃ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | মে ২৫, ২০১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসিক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোনায়েম খান ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ আলীর অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাই এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্যাংকটির পরিবারের সদস্যসহ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করেছে দুদক। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে রোববার মোট পাঁচ জনের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদের হিসাব কমিশনের সচিব বরাবর দাখিল করতে বলা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যাদের সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে তারা হলেন- বেসিক ব্যাংকের ডিএমডি মোনায়েম খান, তার স্ত্রী শাহানা পারভীন, ব্যাংকের জিএম (সাবেক শান্তিনগর শাখা) মোহাম্মদ আলী, স্ত্রী কিসমত আরা ও তার ছেলে আব্দুল মোমেন চৌধুরী। ডিএমডি এ মোনায়েম খানের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদকে আসা অভিযোগে থেকে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক পদে প্রথমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। সেখান থেকে পরে তিনি বেসিক ব্যাংকে ডিজিএম পদে যোগদান করেন। যোগদানের মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই তিনি ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। এই সময়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হন। যার মধ্যে রয়েছে, নিজ গ্রামে একটি বিলাসবহুল বাড়ি ও বেশ কয়েকটি দামি গাড়ি। শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে নামে-বেনামে ক্রয় করেছেন শত শত বিঘা জমি। ঢাকার উত্তরায় ৩নং সেক্টরের ১০নং রোডে জমি ক্রয় ও বসুন্ধরা এলাকায় ডি ব্লকে ১০নং রোডের ৩২৫নং বাড়িতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেছেন তিনি। এ বাড়িটি এবি ট্রেড লিঙ্কের লোনের বিপরীতে ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে স্থায়ী আবাস গড়ার লক্ষে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত করেছেন কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। অনিয়মের মাধ্যমে গুলশান শাখায় তার শ্যালকের প্রতিষ্ঠান লিটন ওয়ার্ল্ডের নামে ৪০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তার রয়েছে একাধিক পাসপোর্ট। তিনি ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ করেন। শান্তিনগর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী এ সব কাজে তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে শান্তিনগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও জিএম মোহাম্মদ আলীর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদক সূত্র জানায়, মোহাম্মদ আলী ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে রয়েছে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ। ঢাকার মোহাম্মদপুরে কয়েক বিঘা জমি, বারিধারায় ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও গাড়ি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ব্যাংকে তার স্থায়ী আমানত ন্যুনতম ৫০ কোটি টাকা রয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন না নিয়ে তিনি বিতরণ করেছেন কোটি কোটি টাকা। এ সব কাজে তাকে সহায়তা করেছেন ডিএমডি এ মোনায়েম খান। যা পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের অডিট রিপোর্টে উঠে আসে বলেও দুদক সূত্রে জানা যায়। –