রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

‘ঘুষের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা’

আপডেটঃ ৫:০৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১১, ২০১৬

সচিবালয় প্রতিবেদক: প্রকল্প সংক্রান্ত কাজ বা অন্য কোনো কারণে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ‘ঈদুল আযহার প্রস্তুতি সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

‘মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ৫ শতাংশ ঘুষ দিতে না পারায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কাঙ্খিত বরাদ্দ পায়নি’ বলে বুধবার মন্তব্য করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি ঈদুল আযহার প্রস্তুতি সভা। তারপরও যেহেতু বিষয়টি (মেয়র নাছির উদ্দীনের বলা ৫ শতাংশ ঘুষের বিষয়) নিয়ে কথা উঠেছে তাই কিছু বলা প্রয়োজন। প্রকল্প সংক্রান্ত হোক বা অন্য কোনো কাজে হোক, মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পরে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ৫ শতাংশ ঘুষ দিতে না পারায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কাঙ্খিত বরাদ্দ পায়নি’ বক্তব্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়কে লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাই করবে মন্ত্রণালয়।

আসন্ন ঈদুল আযহার প্রস্তুতি প্রসঙ্গ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, কোরবানির ঈদে দেশের পৌর এলাকাসহ ৫৩ জেলা ও ১১ সিটি করপোরেশন এলাকায় পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছর ৬,২৩৩টি স্থানে পশু জবাই করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ লাখ ১৬ হাজার ৯৪০ পশু এবং সারাদেশে ৩৫-৪০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার যে সব স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে, পৌর ও সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ওই নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোরবানির বর্জ্য যেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি না হয়।’

নির্দিষ্টস্থানে পশু জবাইয়ের জন্য প্রচারণার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,  ‘এবার যেসব স্থান পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে পশু নিয়ে আসতে সবাইকে উৎসাহী করতে চাই। যেহেতু ধর্মীয় বিষয়, তাই এখানে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কাউকেই জোর করা হবে না বরং অনুরোধ করা হবে। কেউ যদি নিজ বাড়ির আঙিনায় কোরবানি করতে পারেন, তাহলে তো সমস্যাই নেই। তবে তারা নিজেরাই বর্জ্য অপসারণ করে নেবেন।’ কোরবানির পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে ঢাকার দুই মেয়র পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে রাস্তার ওপর কোরবানি না করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে ঢাকা নগরীকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে।

স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও সাইদ খোকন, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির, নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি, রংপুরের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।