সোমবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ ইং ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

প্রেমের আগে যেসব বিষয় ভেবে নেওয়া উচিত!

আপডেটঃ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১২, ২০১৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রেম কী? প্রেম কী শুধুই কৈশোরে পা দেওয়া কিশোর-কিশোরী কিংবা যৌবনে পা দেওয়া যুবক-যুবতীর মনের একটি সদ্য প্রস্ফুটিত অনুভূতি? নাকি তাদের ক্ষুদ্র মনের বাঁধভাঙ্গা চঞ্চলতা? প্রেম হতে পারে অনেক কিছুই।
প্রেম তো নীল আকাশজুড়ে উড়ে যাওয়া সাদা মেঘের ভেলাকে ভালো লাগার অনুভূতি, কিংবা খাতার শেষ পৃষ্টায় দু চার লাইন কবিতা। হতে পারে প্রেম মাঝ বিকেলে নিজের অজান্তেই গুনগুনিয়ে ওঠা। আবার হতে পারে ডায়েরীর ফাঁকে যতœ করে লুকিয়ে রাখা একটি প্রাপকবিহীন চিঠি। অনেকের কাছে প্রেম নিষিদ্ধ, অবৈধ। আবার অনেকের কাছে প্রেম একটি শিকল, যে শিকলের প্রতিটি অংশ যুক্ত হয় ভালোবাসা দিয়ে।
প্রেমের সংজ্ঞা কিংবা ধারণা একেকজনের কাছে একেকরকম। সবাই তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেমকে বিবেচনা করে থাকেন। শুধু আমাদের ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বখ্যাত সব কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিশীল রচনায়ও আমরা এর উদাহরণ পেয়ে থাকি। তাঁদের কেউ বা প্রেম-ভালোবাসাকে কবিতায় রুপদান করে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন, কেউ বা একে আখ্যায়িত করেছেন বিধ্বংসী এক অস্ত্র হিসেবে।
প্রেম নিয়ে ব্যক্তিবিশেষে মতভেদ থাকলেও আমরা অনেকেই মনে করি প্রেম হল একটি স্বর্গীয় অনুভূতি। এটি হল ভালোবাসার মাধ্যমে জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনাকাল। প্রিয়জনের প্রতি অনুভূত দুর্নিবার এক আকর্ষণও হল প্রেম।
সদ্য কৈশোর কিংবা যৌবনে পা দেওয়া ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রেমের অনুভূতি অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু তাদের কোমল মন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রেমের পথে পা বাড়ায়, যার পরিণতি হয় ভয়ানক। এমনকি এই কারণে অনেকের জীবনের উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলোও আজ নিভু নিভু প্রদীপের রুপ ধারণ করেছে।
প্রেমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মনের আকর্ষণ কিংবা দুজন দুজনার প্রতি ভালোবাসাটাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি। প্রেমের আগে কী কী বিষয় আপনার ভেবে নেওয়া উচিত, আসুন জেনে নেই।

১। নিজেকে প্রশ্ন করুন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে একটিবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার ভেতরের অনুভূতি কি ভালোবাসা অব্দি গড়িয়েছে, নাকি এখনো তা ভালো লাগার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ? যাকে আপনি ভালোবাসেন, তাকে কি সত্যিই আপনার জীবন সঙ্গী হিসেবে চান? তার প্রতি আপনার আস্থা, বিশ্বাস কতটুকু এবং সে আপনার উপর কতটুকু আস্থাবান ও বিশ্বস্ত।
এসব প্রশ্নের উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে বলা যেতে পারে, আপনি মোটামুটি মনস্থির করেই ফেলেছেন। যেকোনো কাজের শুরুতে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দোটানায় পড়ে থেকে কোন কাজে ভালোভাবে মন বসানো যায় না।

২। আপনার পরিবার কী এই সম্পর্ক মেনে নেবে? জীবনের প্রতিটি ধাপেই যেমন আপনার স্বাধীনতা, ইচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে, তেমনি আপনার পরিবারও আপনার জীবনের কিছু ক্ষেত্রে তাদের শখ-আহ্লাদ ও পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেক সময় আমরা এটাকে স্বাধীনতা খর্ব হিসেবে বিবেচিত করি। আবার অনেক সময় মনে করি, পরিবার আমার পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদেরটাই বড় করে দেখছে। এক্ষেত্রে সবসময় আপনাকে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হল আপনার পরিবার কিন্তু কখনোই আপনার খারাপ চাইবে না। বরং কিসে আপনার ভালো হয়, তারা সে চিন্তাতেই সবসময় ব্যস্ত থাকেন।
তাই নিজের পছন্দ-অপছন্দের পাশাপাশি পরিবারের বিষয়টিও একবার ভেবে নিন। যার সাথে আপনি প্রেমের সম্পর্কে জড়াচ্ছেন, তার মন-মানসিকতার সাথে আপনার পরিবারের মন-মানসিকতার কতটুকু মিল রয়েছে, এটিও বিবেচ্য বিষয়।

৩। আবেগকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন না তো? হতে পারে আপনার পছন্দের মানুষটিকে আপনি অনেক বেশি ভালোবাসেন। কিন্তু জীবনের পথে চলতে গেলে শুধু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়। ভালোবাসার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস, সততা ও আস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর কিংবা যৌবনেই বেশিরভাগ মানুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা সবক্ষেত্রেই আবেগকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে যে আবেগ দ্বারা কখনোই একটি কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। আবেগ মানেই একটি রেশ, যা আপনাকে বাস্তব জগৎ থেকে অনেকটা দূরে রাখে।
তাই আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে বিবেচনা করুন। তারপর যদি মনে হয় আপনি সঠিক, তাহলে প্রেমের সম্পর্ক আপনার জন্য প্রস্তুত।

৪। ভুল মানুষটি নির্বাচন করছেন না তো? যে মানুষটির সাথে আপনি প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছেন, মনে মনে একবার তার ছবি কল্পনা করুন। এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্যই কী আপনি তার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছেন? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলব আপনার সিদ্ধান্ত শতভাগ ভুল। আজ হয়তো আপনাদের সম্পর্কটা প্রেমের গণ্ডিতে আবদ্ধ আছে, কিন্তু একদিন এই সম্পর্কটি রুপ নেবে বিয়েতে। তখন ভালোবাসার পাশাপাশি সুখী ও সুন্দর একটি জীবনের জন্য আপনাদের প্রয়োজন হবে একে অপরকে বোঝা, একে অপরের পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান দেখানো, একে অপরের প্রতি আস্থা, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি। এসবের অনুপস্থিতিতে শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়েই জীবনকে সুন্দর করে সাজানো যায় না। তাই পছন্দের মানুষটি কি শুধুই আপনাকে ভালোবাসে, নাকি তার বাকি গুণগুলোও আছে, এসব দেখে নিন।
আজকাল প্রায় বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রেই একটা সাধারণ মিল লক্ষ্য করা যায়। তারা কথায় কথায় এটা জাহির করতে পছন্দ করে যে তাদের ভালোবাসাটা সত্যিকার ভালোবাসা। তাই তারা প্রেমটাকে অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে দেখতে শুরু করে। আর এর প্রভাবেই দেখা যায় ভিন্নধর্মী মানুষের সাথে প্রেম কিংবা ভিন্ন অবস্থানের দুইজন মানুষের প্রেম। এক্ষেত্রে তাদের ভুলটা ধরে দিতে গেলেই তারা খুব সহজেই ‘সত্যিকার ভালোবাসা’র দোহাই দিয়ে দেন।
কিন্তু এটাকে কখনোই সত্যিকার ভালোবাসা বলে না। এটা শুধুমাত্র আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়। যে ভালোবাসায় শুধুই আবেগের স্থান, বিবেকের স্থান নেই, সেই ভালোবাসাকে কখনোই সত্যিকার ভালোবাসা বলা যায় না।

৫। আপনার ব্যক্তিগত জীবন বাধাগ্রস্ত হবে না তো? প্রেম হল জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। প্রেমের প্রথম দিকে সবার অনুভূতিটা বেশ কোমল ও সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাদের কল্পনার রাজ্যজুড়ে সবসময় বিরাজ করে কেবল একটি মানুষ।
অনেকের কাছে আবার প্রেম মানেই কলেজ পালিয়ে পার্কে গিয়ে বসা, সারারাত জেগে মুঠোফোনে কথা বলা ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এসব কারণে স্বাভাবিকভাবেই আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটতে দেখা যাবে।
আপনি চাকুরীজীবী কিংবা শিক্ষার্থী যা-ই হন না কেনো, প্রেমের আগে ভেবে নিন এই নতুন অধ্যায়টি আপনার পেশাগত কিংবা ছাত্রজীবনে কতোটা প্রভাব ফেলবে এবং আপনি সবদিক সমান গুরুত্বের সাথে চালিয়ে যেতে পারবেন কি না।
বলা হয়ে থাকে প্রেম স্বর্গীয়। কিন্তু সবার জীবনেই প্রেম একইরকম প্রভাব ফেলে না। প্রেমের প্রভাব নির্ভর করে আমাদের উপর। আমাদের কাছে প্রেমের সংজ্ঞা কী, তার উপর। পৃথিবীর প্রতিটি প্রেম পবিত্র থাক। সবার প্রিয়জন জীবনের শেষ বসন্ত পর্যন্ত তার পাশে থাক, এই কামনায় আজকের মতো এখানেই ইতি টানলাম।