বুধবার ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

হানিফ মোহাম্মদ আর নেই

আপডেটঃ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১২, ২০১৬

ক্রীড়া ডেস্ক: ‘লিটল মাস্টার’ খ্যাত পাকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ আর নেই। বৃহস্পতিবার করাচির আগা খান হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

বৃহস্পতিবার ‍দুপুরে প্রথমে ডাক্তার ‘ভুল’ করে ঘোষণা দেন, ‘হানিফ মোহাম্মদ আর নেই।’ তখন তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়েও পড়েছিল। কিন্তু তাঁর ছেলে জানান, অনেকটা অলৌকিকভাবে ছয় মিনিট হৃৎস্পন্দন বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফিরেছেন হানিফ।

তবে দুই ঘন্টা পর আবারও ঘোষণা আসল, ‘হানিফ মোহাম্মদ নেই।’ সত্যিই এবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ক্রিকেটের এ কিংবদন্তি। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

5a

নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে কদিন আগে আগা খান হাসপাতালে ভর্তি হন হানিফ মোহাম্মদ। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। গত রোববার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কৃত্রিমভাবে শ্বাস–প্রশ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আজ তার অবস্থা আরও শোচনীয় হলে আশা ছেড়ে দেন ডাক্তার এবং পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে ৫৫ টেস্ট খেলে ১২টি সেঞ্চুরি করেছেন হানিফ মোহাম্মদ। ব্যাটিং গড় ৪৩.৯৮। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর ৩৩৭ রানের ইনিংসটি অমর হয়ে আছে ইতিহাসে। টেস্ট ইতিহাসে হানিফের এই ইনিংসটিই দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচিত।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে হানিফ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের করা সর্বোচ্চ ইনিংসকে ছাড়িয়ে যান। তবে দুর্ভাগ্য, নিজের ৫০০তম রানটি নিতে গিয়ে ৪৯৯ রানে রানআউট হন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এটাই ছিল প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ৩৫ বছর পর ৫০১ রান করে হানিফের সেই রেকর্ড ভেঙে দেন ক্যারিবীয় তারকা ব্রায়ান লারা।

হানিফ মোহাম্মদের পাশাপাশি পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলেছেন তাঁর তিন সহোদরও। ওয়াজির মোহাম্মদ, সাদিক মোহাম্মদ ও মুশতাক মোহাম্মদকেও পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা হিনেবে বিবেচিত। হানিফের ছেলে শোয়েব মোহাম্মদও আশি ও নব্বইয়ের দশকে নিয়মিত সদস্য ছিলেন পাকিস্তান দলের।