বুধবার ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা রশিদে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে

আপডেটঃ ৪:১০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৪, ২০১৬

চ্যানেল সেভেন বিডি,রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে বিনা রশিদে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুটি শ্রেণিকক্ষসহ কয়েকটি কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) যন্ত্রের আওতায় নিয়ে আসার পর বাৎসরিক ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, যেখানে এক বছরে ফরম পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যারয়ে দিতে হয় ৫৭০ টাকা সেখানে এসির ‘ঠাণ্ডা বাতাসের’ জন্য বিভাগ ১ হাজার ১০০ টাকা নেবে এটা হতে পারে না। আমাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ রাখে না।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সারোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘এবারের তৃতীয় বর্ষ থেকেই প্রথমবারের মতো বাড়তি এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে কোনো শিক্ষার্থীদের থেকে এভাবে টাকা নেওয়া হয়নি। তবে কোন খাতে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে তা বিভাগীয় সভাপতি ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এভাবে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয় না। ওই টাকা নেওয়ার বিষয়ে সব দায়িত্ব বিভাগের। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো তহবিলে টাকা নিতে হলে তার জন্য খাত উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদেরকে নির্দিষ্ট রশিদ দিতে হয়।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শহীদুল্লাহ কলাভবনে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সেখানে জায়গা কম থাকায় ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনে স্থানান্তরিত হয় বিভাগটি। বর্তমানে ওই ভবনের তৃতীয় তলার পূর্ব ব্লকে বিভাগটির পাঠদানসহ সমস্ত অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সেখানে দুটি শ্রেণিকক্ষ, বিভাগীয় সভাপতির অফিস কক্ষ, সেমিনার কক্ষ ও কম্পিউটার ল্যাবে এসি লাগানো হয়েছে। ‘হাইয়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনজমেন্ট প্রজেক্ট’ (হেকেপ) এর অধীনে বিভাগটি ২০১৪ সালের জুনে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা পায়। ওই টাকা দিয়েই মূলত বিভাগের এসব উন্নয়নসহ আরো বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ওই প্রজেক্ট শেষ হয় এ বছরের জুনে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী জানান, গত ৩০ জুলাই থেকে তৃতীয় বর্ষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার জন্য ফরম পূরণ শুরু হয়। আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সেই ফরম পূরণ করা যাবে। ৮টি কোর্সে ফরম পূরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭০ টাকা। ওই টাকা জমা দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংকে। শিক্ষার্থীরা সেই টাকা দিতে গিয়ে দেখছেন, তাদেরকে বাড়তি আরও ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে।

এর জন্য কোনো রশিদ বা কোন তহবিলে সেই টাকা নেওয়া হচ্ছে তা শিক্ষার্থীদেরকে জানানো হচ্ছে না। অনেকের সমস্যা থাকলেও শিক্ষার্থীদেরকে সেই টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার কথা বিভাগের শিক্ষকদের বলেও কোনো কাজ হয়নি।

ওই শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বিভাগীয় অফিসে ১ হাজার ১০০টাকা রশিদ ছাড়া জমা নেওয়ার সময় অফিসের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলছেন, ‘এসি রুমে ক্লাস করছো, ঠাণ্ডা বাতাস পাচ্ছ তার জন্য টাকা দিতে হবে না? সে জন্যই এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।’ তবে ঠিক কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে তা বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলেও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

বিভাগটির প্রথম বর্ষের দুইজন শিক্ষার্থী জানান, প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসার জন্য আমাদের ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সেই ফরম পূরণ করা যাবে। আমাদের থেকেও কোনো রশিদ ছাড়া বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের সমস্যা থাকলেও সেই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করণীয় নেই।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এসি লাগানোসহ বিভিন্ন বিভাগীয় উন্নয়ন করার কারণেই মূলত এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত।’

রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার কোনো বিধান আছে কি না সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে ভেবে দেখবো।’

বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে আমার কাছে ওই টাকা না দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এসেছিল। আসলে শিক্ষার্থীদের থেকে এসি ও বিভাগীয় উন্নয়ন বাবদ এতো বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া কখনই উচিত নয়। কারণ, আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এমন আছেন যারা তিনবেলা ভালো করে খেতে পারেন না। তাই এসির বাতাস খেয়ে এতো টাকা তারা দেবেন কেনো?

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বিভাগে এরই মধ্যে হেকেপের টাকায় শ্রেণিকক্ষসহ একাধিক কক্ষে এসি লাগানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এখন একটি করে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। তবে এর জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বিভাগে বাড়তি কোনো টাকা দিতে হয় না।