রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বর্ষায় নাও হেমান্তে পাও জামালগঞ্জে ওয়ার্ড নাগরিক কমিটির সভা

আপডেটঃ ৫:১৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৪, ২০১৬

মো. শাহীন আলম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ): বর্ষায় নাও হেমান্তে পাও, এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নে আলীপুর গ্রামে ওয়ার্ড নাগরিক কমিটির সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে হাসিনা আক্তারের বাড়ীতে ওই সভা অনুষ্টিত হয়। ব্র্যাক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’র সহযোগীতায় স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করণ প্রকল্পের সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড নাগরিক কমিটির আহবায়ক হাসিনা আক্তার।

ইয়ুথ লিডার্স মামুন মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য মো, সোহাগ মিয়া, আমির হামজা, উজ্জীবক মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মাজন মিয়া, নারীনেত্রী রোকসানা আক্তার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আত্œশক্তি বলিয়ান ব্যক্তি কখনও দারিদ্র হতে পারে না। সিএলডি অথ্যাৎ কমিউনিটি বা গ্রাম উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।” বর্ষায় নাও হেমন্তে পাও ” সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল জামালগঞ্জ উপজেলায় ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ৪ কিলো মিটার দুরে অবস্থিত। প্রধান নদী সুরমা। ফেনারবাক ইউনিয়নের পূর্ব দিকে ভীমখালী, পশ্চিমে দিকে সুখাইর রাজাপুর, উত্তর দিকে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণে রফিনগর ইউনিয়ন অবস্থিত।

এ ইউনিয়নে মূলত হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্টির বসবাস। সংখ্যা গরিষ্ট মানুষ মুসলমান। হিন্দু ও মুসলিম একত্রে বসবাস করলেও তাদের মাঝে শান্তিপূর্ন সহবস্থান বিরাজমান। হাওর নদী বেষ্টিত এ ইউনিয়নের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। একটি মাত্র ফসলের উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের মানুষ। প্রতি বছরেই আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিবছর তারা বার্ষিক বাজেট করে থাকে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ কখনও র্দীঘ মেয়াদী কৌশল গত পরিকল্পনার অভিঞ্জতা নেই। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ ইউনিয়ন পরিষদ যে আইনের ভিত্তিতে পরিচালনা হবে এই আইনের মধ্যে ১০৮টি ধারা ও ৫টি তফসিল রয়েছে। দ্বিতীয় তফসিলে ইউনিয়ন পরিষদেও জন্য ৩৯টি কাজের কথা বলা হয়েছে। ৩৯ টি কাজের মধ্যে প্রথম কাজটি হচ্ছে ইউনিয়ন পঞ্চবার্ষিক ও বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা করবে। স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এ বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা তৈরী করলে প্রতি বছর ইউপি বাৎসরিক বাজেট করার ক্ষেত্রে সহজ হবে। প্রতি বছর দুটি ওয়ার্ড সভা আয়োজন করতে হবে। কারণ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় কিকি কাজ ইউপি করবে তার যাবতীয় ইস্যু নিধারন করা থাকবে। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আগামী ৫ বছর কি কাজ করবে তা যে কেউ জানতে পারবে। ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি, বেসরকারি, প্রতিষ্টান ও অডিট দ্বারা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইউপির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জন অংশগ্রহন নিশ্চিত হবে। পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি অনুদান বুদ্ধি পাবে। মোট ভোটারের সংখ্যা ২২৫০০ এতে পুরুষ ১১০০০ এবং নারী ১১৫০০ রয়েছে ইউনিয়নে মোট প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ১১৫ জন। ৯টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের ইউপি সদস্য সদস্যা ও চেয়ারম্যান সহ ১৩ জন। অফিস স্টাপ সচিব ও তথ্য সচিব সহ গ্রাম পুলিশ ৭ জন সহ মোট ৯ জন। শিক্ষার হার ১৯%, উচ্চ বিদ্যালয় ২টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩২টি, দাখিল মাদ্রাসা ২টি, কাওমী মাদ্রাসা ৪টি রয়েছে। মৌজার সংখ্যা ২৬টি।আয়াতন ৫১ বর্গ কিলোমিটার, গ্রাম ৪১টি, মৌজা ২৬টি, জলাশয় ৮টি, পরিবার সংখ্যা ৬৮৬৪টি, লোক সংখ্যা ৪১২২৭জন, পুরুষ ২০৯৯৭, নারী ২০২৩০ জন, ধনি ৭০৬, মধ্যবিত্ত ১২৭৬, দরিদ্র ১৭৮১, হতদরিদ্র ২৪৫৭, মসজিদ ৩৬টি, মন্দির ২১টি, ঈদগা ২টি, খেলার মাঠ ৩, কবরস্থান ২৩টি, নলকুপ ৫৮৩টি, নদী ৩টি, খাল ৮টি, পুকুর ২টি, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ২৫২টি, অস্বাস্থ্যকর ১২১২টি, মোট ল্যাট্রিন ১৪৬৪টি, ল্যাট্রিনবীহিন পরিবার ৪৭৭১টি, আবাদী জমি ২০,৫৫৫ একর, অনাবাদী ৯,১৫৮ একর, খাস জমি ২৫০০ একর, ক্লাব ১২টি, অত্র ইউনিযনে ৪১টি গ্রাম রয়েছে। তাই আমাদের গ্রামকে উন্নয়ন করতে হবে। গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের পথ খুুঁজে বের করেন। ওই গ্রামের কমিটির কাজ সমুহগুলো হল নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, তালাক, যৌতুক, এসিড নিক্ষেপ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সকলকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্য বদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।