সোমবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ ইং ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রানীশংকৈলে বৃষ্টির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমি ফেঁটে চৌচির

আপডেটঃ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৬, ২০১৬

রাণীশংকৈল,( ঠাকুরগাও)সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। বর্ষা ঋতু শেষ, শরৎ ঋতুরও বেশ কয়েকদিন পার হলো। রানীশংকৈলে এখনও কোন ভারী বর্ষণ হয়নি। বৃষ্টির অভাবে এখানকার কৃষকরা তাদের আমন ফসল বাঁচাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবে কি না এ চিন্তায় কৃষকরা এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকের বীজতলায় থাকা চারাগুলি অতিরিক্ত তাপদাহে ঝলসে পুড়ে মরে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনাবৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কৃষকরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পানির বিভিন্ন উৎস হতে সেচের মাধ্যমে তাদের কিছু জমিতে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষাবাদ করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক এলাকায় পানির তেমন কোন উৎস না থাকায় সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ এলাকা অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। কৃষকরা তাদের অবশিষ্ট জমি রোপণের জন্য বৃষ্টির অপেক্ষাায় সারাক্ষণ চাতক পাখির মতো আকাশ পানে চেয়ে থেকে গোট বর্ষা মৌসুমসহ শরতের কিছু অংশ পার করছে। মাঝে মধ্যে আকাশ জুড়ে গাঢ় ঘন কালো মেঘের আনাগোনায় ঐ বুঝি বৃষ্টি এল এরকম ধারণায় কৃষকের মনে একটু আনন্দের দোলা লাগলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। একই সাথে কৃষকের পাশাপাশি মাঠে রোপণকৃত ধানের চারা গাছগুলিও একটু বৃষ্টির অপেক্ষায় জ্বলজ্বল করে সৃষ্টিকর্তার পানে চেয়ে আছে। কিন্তু শেষে কালো মেঘের বর্ণচুরি খেলায় সূর্যের রক্তিম তাপদাহ মাখা প্রখর রোদ বেরিয়ে এসে সকলের স্বপ্ন ও আশাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুতের অপ্রতুল সরবরাহ ও অন্যান্য পানির উৎসগুলি শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকের রোপণকৃত চারাগুলিও মরতে বসেছে। আমজুয়ান গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন, নেকমরদের নুরুল হক সহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান যে, বৃষ্টি নির্ভর এ আবাদ কখনও সেচের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। এই এলো বৃষ্টি একথা ভেবে তারা রোপণকৃত চারাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা জেনেও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে সেচ কার্য চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বৃষ্টির পানি নির্ভর এ আবাদে অনাবৃষ্টির কারনে উপজেলার কৃষকরা তাদের জীবন বাজি রেখে এলাকায় স্থাপিত গভীর, অগভীর নলকূপ, পুকুর, ডোবা, নালাসহ পানির বিভিন্ন উৎস থেকে সেচের মাধ্যমে সর্বমোট ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করতে পেরেছেন। বৃষ্টির পানির অভাবে এই এলাকায় ১৮ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। এলাকার কৃষকরা এখনও হাল ছাড়েনি। উচ্চ ফলনশীল আমনের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তারা স্থানীয় জাত ও আতব ধানের চারা রোপণের অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বৃষ্টি হলেই তারা আবার পুরোদমে অবশিষ্ট জমিতে স্থানীয় ও আতব ধান রোপণ করবে বলে জানিয়েছেন।