বুধবার ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

দুদকে যোগ হচ্ছে সশস্ত্র ইউনিট ও ট্র্যাকিং মেশিন

আপডেটঃ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২০, ২০১৬

চ্যানেল সেভেন বিডি: স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরো শক্তিশালী করতে এবং আধুনিক সংস্থা হিসেবে গড় তুলতে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ হচ্ছে শক্তিশালী সশস্ত্র ইউনিট, নিজস্ব হাজতখানা ও অপরাধী শনাক্তকরণের জন্য মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন।

এরই মধ্যে সশস্ত্র ইউনিট গঠন ও নিজস্ব হাজতখানা তৈরির অনুমোদন পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অপরাধীর অবস্থান শনাক্তকরণে মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন সংগ্রহে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীন কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজকে অধিক গতিশীল এবং পুলিশের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীলনতা হ্রাস করতেই দুদক থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই দুদককে অধিক গতিশীল করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রেষণে অধিক দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের দুদকে নিয়োগ দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুদকে বিশেষ সশস্ত্র ইউনিট ও নিজস্ব হাজতখানা তৈরিতে চলতি মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দুদকের আসামি ধরতে দিনে কিংবা রাতে সব সময়েই অভিযান চালাতে হয়। এজন্য কমিশনের কর্মকর্তারা সব সময় পুলিশের সাহায্য নিয়ে থাকেন। অনেক সময় এ কাজে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে নানা জটিলতার কারণে গ্রেপ্তার অভিযান ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুদকে আনা হয়। কিন্তু দুদকের নিজস্ব হাজতখানা না থাকায় ওই আসামিদের কর্মকর্তাদের কক্ষে বসেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়। যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি। এসব বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন সম্পর্কে ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে জানান, অপরাধী কোথায় আছে এ বিষয়টি শনাক্ত করতে দুদক সাধারণত পুলিশ কিংবা অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সাহায্য নেয়। অনেক সময় তাদের সাহায্য পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে গুরুত্বপূ্র্ণ অপরাধী হাতছাড়া হয়ে যায়। এজন্য অপরাধীর অবস্থান শনাক্তকরণে দুদক মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমতি ও তাদের প্রযুক্তিগত সাহায্য প্রয়োজন। এরই মধ্যে বিটিআরসি বরাবর এ বিষয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। এখন বিটিআরসির পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সাহায্য নিশ্চিত হলেই কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে।

এরই মধ্যে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রধান কার্যালয়ের প্রত্যেকটি ফ্লোরসহ আশাপাশের এলাকা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ সেল।

এর আগে ২০১২ সালে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান দুদকের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাজেটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও পরবর্তীতে বদিউজ্জামান কমিশন ওই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গোলাম রহমানের ওই পদক্ষেপ অন্ধকারেই থেকে যায়।

এ বিষয়ে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল রাইজিংবিডিকে জানান, দুদককে অধিক গতিশীল করতে একটি সশস্ত্র ইউনিট, নিজস্ব হাজতখানা ও মোবাইল ট্র্যাকিং মেশিন যোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কমিশনের সুপারিশে সশস্ত্র ইউনিটি গঠনে আপতত অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ থেকে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে দুদক থেকেই স্থায়ীভাবে সশস্ত্র ইউনিট গঠনে লোকবল নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য অবশ্য দুদকের কাঠামোতে পরিবর্তন করা হতে পারে। আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।’

সম্প্রতি দুদকের কর্মকর্তা পর্যায়ে অস্ত্র দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুদক কর্মকর্তাদের অস্ত্র চালানোর জন্য বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এ ছাড়া রয়েছে অস্ত্র ও গুলি সংরক্ষণের প্রশ্ন। এসব বিবেচনায় পরবর্তীকালে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন।