বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯ বার!

আপডেটঃ ৩:১১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২১, ২০১৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ঘাতক চক্রের সকল ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারেনি। তিনি কেবল বিপর্যয়ের মুখ থেকে আওয়ামী লীগকে উদ্ধারই করেননি দলকে তিনবার ক্ষমতাসীন করেছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিরোধী দলীয় নেতা থাকাকালীন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য সবচেয়ে বড় নীল নকশা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে তাকে খুন করার জন্য ঘাতকের গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও ওই বর্বরোচিত হামলা তার শ্রবণ-ইন্দ্রিয়ের স্থায়ী ক্ষতি করে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘাতকরা শেখ হাসিনা খুন করার জন্য ১৯ বার চেষ্টা চালায়। ১৯৮৭ সালে শেখ হাসিনাকে একবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই বছরের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গাড়িচালকের দক্ষতায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন মারা যান।

শেখ হাসিনাকে হত্যার আরেকটি বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। তিনি জনসভা করতে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেমিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়।

একই বছরের ১৫ আগস্ট ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপকরে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে শেখ হাসিনা ধানমন্ডির গ্রিন রোডে একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলিছোড়া হয়। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর পান্থপথে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় কার্জন হল থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল।এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল।

২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্র সেখানে বোমাপুঁতে রাখে। গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে।
২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে সন্ত্রাসী চক্র ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে । অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি ।

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশাল সফরে যান শেখ হাসিনা। ওইদিন গৌরনদীতে পৌছালে তার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে ঘাতক চক্র ।

শেখ হাসিনাকে হত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে, এ হামলা কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এ হামলা থেকে শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান । তিনি যে ট্রাকটিতে উঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, সেই ট্রাকে নিক্ষেপ করা বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনিসহআওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেঁচে গেছেন। তবে প্রাণ গেছে ২৪ জন নেতাকর্মীর। আহত ও জীবনের তরে পঙ্গু হয়েছেন শতাধিকনেতাকর্মী।

আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তারিখে অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে সেনাবাহিনী সমর্থিত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গ্রেপ্তার করেছিল। ওই সময় শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ শোনা যায়।স্লো পয়জনিংয়ের কারণে সেখানেআটক থাকাকালে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়েছিল । প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার জঙ্গি শাহানুর আলমেরস্বীকারও করে ।

সর্বশেষ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবছরের গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যাওয়ার সময়ে রাজধানীর কাওরান বাজারে তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানোরচেষ্টা চালায় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল টেলিফোনে পূর পশ্চিমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে আইন করেছি। তাদের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ওপর যে কোনো প্রতিহতের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।