রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রামগঞ্জে বাপ-বেটার অত্যাচার অবশেষে পূত্রের কাছে শিশু ধর্ষন, মামলা করে বিপাকে বাদীর পরিবার

আপডেটঃ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২১, ২০১৬

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃমোঃ কবির ইসলাম: রামগঞ্জে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়ে লোকলজ্জার ভয় আর স্থানীয় শালিশদারদের অব্যাহত চাপে আত্মগোপনে থাকলেও অপরদিকে ধর্ষক প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধর্ষনের দিন হতে অধ্যাবদি রামগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার আসামী মাঈন উদ্দীন (২২) কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উপরুন্ত একই বাড়ীর তিন শালিশগণ এলাকায় ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বাদী মিজানুর রহমানকে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। থানায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতেও অব্যাহত হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চলতি মাসের ২ আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে রামগঞ্জ উপজেলার ৩নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের উত্তর হানুবাইশ গ্রামের এবায়েদ উল্যাহ ব্যপারীর নতুন বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
রামগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২ আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে ঐ বাড়ীর হতদরিদ্র দিনমজুর মিজানুর রহমান বাড়ীতে না থাকার সুযোগে তার কন্যা পাশ্ববর্তি খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী (১৩) প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাহিরে বের হওয়া মাত্র একই বাড়ীর আলম মিয়ার ছেলে বখাটে মাঈন উদ্দিন তার মুখে হাত চাপা দিয়ে পাশ্ববর্তি বাগানে নিয়ে ওড়না দিয়ে মুখ বেধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ধর্ষিতা ছাড়া পেয়ে ঘুরে ঢুকে তার মা ফিরোজা বেগমকে ঘটনাটি জানায়। এসময় বাড়ীর অন্যান্য লোকজন ঘটনাটি শুনে ছুটে আসলে ধর্ষক মাঈন উদ্দীনের মা সমাধানের আশ্বাস দেয় উভয়কে বিয়ে পড়িয়ে দিবেন।
পরদিন সকালে ধর্ষিতা শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকলজ্জার ভয়ে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন মেডিনোভা ডায়াগনোস্টিস সেন্টারে নিয়ে আসে মা’সহ বাড়ীর অন্যান্য লোকজন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় একই বাড়ীর নুর ইসলাম, আবুল খায়ের ও শামছুল হক ধর্ষিতার বাবা মিজানুর রহমানকে থানায় মামলা না করতে হুমকি প্রদান করলে মিজানুর রহমান থানা মামলা না করে বাড়ীতে চলে যায়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাসহ একই বাড়ীর নুর ইসলাম, আবুল খায়ের ও শামছুল হক শালিশ বসিয়ে জরিমানার কথা বললে মিজানুর রহমান তাতে রাজি না হয়ে ৯ আগষ্ট রামগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশো/০৩) ৯(১) আইনে জোর পূর্বক একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৪/১৩৮।
এছাড়াও একই শালিশগণ গত কয়েকদিন পূর্বে ধর্ষক মাঈন উদ্দীনের পিতা মোঃ আলম হোসেনকেও মিজানুর রহমানের কন্যা ধর্ষিত মাদ্রাসা ছাত্রীকে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সময় উত্যক্ত করে আজেবাঝে কথার বলার কারনে ৫০টাকার স্ট্যাম্পে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি বাপ বেটার অত্যাচার। অবশেষে বখাটে পূত্রের কাছে ধর্ষনের শিকার হলো মাদ্রাসা ছাত্রীটি স্থানীয় শালিশদের অবহেলার কারনে।
এদিকে মামলা করেই বিপাকে পড়েছেন বাদী মিজানুর রহমান ও তার পরিবার। মামলার মূল আসামী মাঈন উদ্দীন ক্ষমতাসীন দলের চত্রচ্ছায়ায় বাদীর পরিবারকে এলাকার ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদীর পরিবার। অপরদিকে মাদ্রাসা ছাত্রীটি মানসন্মানের ভয়ে বর্তমানে মাদ্রাসায় ও যেতে পারছেনা। যার কারনে তার শিক্ষা জীবনটাও অনেকটা হুমকির মুখে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জহিরুল হক জানান, আমি বহুবার চেষ্টা করেছি আসামী ধরতে। কেউ সহযোগীতা করছেনা। তাহলে আসামী গ্রেফতার করতে সুবিধা হতো।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তোতা মিয়া জানান, আমরা বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা নিয়েছি। হুমকির ঘটনা আমাকে কেউ জানায়নি। আসামী গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক রয়েছে।