রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

স্বর্ণের দাবি জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের রিটা

আপডেটঃ ৩:০৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০১৬

ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশ তরুণী মার্গারিটা মামুন রিটা রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের হিটে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক জয়ে তার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়েও এক নম্বরে থাকা ২০ বছর বয়সী এই জিমন্যাস্ট রাশিয়ার হয়ে প্রথমবারে মতো অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছেন।

রিওঅলিম্পিকে রিটা শুক্রবার অনুষ্ঠিত নিজের চার ইভেন্ট হুপে ১৮.৮৩৩, বলে ১৯.০০০, ক্লাবে ১৭.৫০০ ও রিবনে ১৯.০৫০ একক অলরাউন্ডে মোট ৭৪.৩৮৩ পয়েন্ট পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক রাশিয়ান আনা কুদ্রায়াতেভা। তার মোট পয়েন্ট ৭৩.৯৩২।

rita-2 rush-bd 21-08-16এর আগে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন রিটা। ২০১৬ বাকু বিশ্বকাপে চারটি ইভেন্টে মোট ৭৭.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়েই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মাতানোর কথা ছিল তার। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের রাজশাহীর প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুনের মেয়ে মার্গারিটা মামুন রিটা। ১৯৮৩ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে মামুন রাশিয়ায় (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) যান, সেখানেই ভালোবেসে বিয়ে করেন রিদমিক জিমন্যাস্ট আনাকে। মামুন আর আনার ঘরেই জন্ম হয় মার্গারিটার।

rita-4 rush-bd 21-08-16বাবার নাগরিকত্বের সূত্রে জুনিয়র লেভেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছেন বাংলাদেশের হয়ে। কিন্তু নানা জটিলতায় বড় আসরে লাল-সবুজ পতাকা জড়াতে পারেননি তিনি। কাগজে কলমে তাই তিনি রাশিয়ার। কিন্তু পদ্মা পাড়ের জিন রয়েছে তার শরীরে আর সে কারণেই রিটার সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের মানুষও।

জিমন্যাস্টিকসের দুনিয়ায় মার্গারিটার পরিচিত নাম হয়ে ওঠার শুরুটা ২০১১ সালে। সে বছর মন্ট্রিল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বল ফাইনালে ২৭.০২৫ পয়েন্ট নিয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। একই আসরের অল-অ্যারাউন্ডে ১০৬.৯২৫ পয়েন্ট নিয়ে জেতেন ব্রোঞ্জ। একই বছর রাশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে হুপ আর বলে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাক পান জাতীয় দলে। এই টুর্নামেন্টে পরের দু’ বছরও অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন রিটাই।

rita-3 rush-bd 21-08-16এরপর তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত গ্রাঁ প্রিঁ-তে ২০১৩ সালে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হন। এই ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন টানা তিন বছর। সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে এক লাফে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন। এ পর্যন্ত খেলা দুটো বিশ্বকাপ থেকে জিতেছেন চারটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে অল-অ্যারাউন্ডে গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ডও।