রবিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শিবপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী নির্যাতন শেষে হত্যা থানায় মামলা দায়ের: ………. ঘাতক স্বামী পলাতক

আপডেটঃ ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৪, ২০১৬

Picture-1 (23)

 

চ্যানেল সেভেন বিডি:নিজস্ব প্রতিনিধি : নরসিংদী:
ফারজানা আক্তার সুইটি (২১) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত সুইটির পরিবারের লোকজন এই অভিযোগ করেছে। গত সোমবার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের বাহেরদিয়া গ্রামের এই ঘটনাটি ঘটেছে। একই দিন সুইটির লাশ পোস্টমর্টেম শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করার পর তারা এই অভিযোগ করেছে।
নিহত সুইটির পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, প্রায় আড়াই বছর পূর্বে শিবপুরের বাহেরদিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন পাঠানের ছেলে আলী পাঠানের সঙ্গে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক একই জেলার মনোহরদী উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুইটির বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৯ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন ফারজানাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু ফারজানার পরিবার টাকা দিতে না পারায় তার উপর নির্যাতন করা হয়। এরই মধ্যে ফারজানার স্বামী আলী পাঠান অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেন ফারজানার বাবা জাহাঙ্গীর আলম। এরই ধারাবাহিকতা ও যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সোমবার স্বামীর বাড়ি থেকে ফারজানার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী আলী হোসেন পাঠান পলাতক রয়েছে। নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়ের উপর নির্যাতন চালায় জামাতা ও তার পরিবারের লোকজন। সে বার বার কান্নাকাটি করে তার কাছে টাকা চাইতো। সে গরিব মানুষ যতটুকু পেরেছে ততটুকু দিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকদের খুশি রাখার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ ৪ দিন আগে মেয়ের জামাতা আবার ৫ লাখ টাকা তার নিকট থেকে নিয়ে দিতে সুইটিকে চাপ দেয়। সুইটি টাকা নিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রোববার গভীর রাতে তার স্বামী সহ বাড়ির সকলে মিলে একযোগে সুইটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য সুইটির লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানে সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ফারজানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ফারজানার স্বামী আলী পাঠান, স্বামীর ভাই আসাদ পাঠান, বাকির পাঠান, মোস্তফা পাঠান, পিতা দৌলত পাঠান, ফারুক মিয়া পিতা সাঈদ মিয়া সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। গত সোমবার ফাজানার বাবার বাড়ি নোয়দিয়া গ্রামে লাশ নেয়া হলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। গ্রামের শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু ফারজানার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। গ্রাম বাসিরা অবিলম্বে হত্যাকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানায়। এদিকে নরসিংদীতে কর্মরত স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা এমডিএস এর নির্বাহী পরিচালক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের সভাপতি সাংবাদিক ফাহিমা খানম বর্বোরোচিত নির্যাতন শেষে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সহ উক্ত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী জানিয়েছেন।