বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম পাল্টে যাচ্ছে

আপডেটঃ ৬:০৮ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৩, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার:চ্যানেল সেভেন বিডি:বদলে যাচ্ছে হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম। পিপিপির আওতায় স্থাপিত হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার। নতুন রাডার স্থাপিত হলে দেশের আকাশপথ হবে ঝুঁকিমুক্ত। আগামী বছরের মধ্যে এই রাডার স্থাপনের কাজ শেষ করতে দরপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম চলছে দ্রুতগতিতে। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০ বছরে এ খাত থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হবে বলে আশা করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ (বেবিচক)।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শাহজালালের বর্তমান রাডারটি ৩৫ বছরের পুরনো। দ্রুত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার স্থাপিত না হলে যেকোনো সময় বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম ভেঙে পড়তে পারে। যদিও অর্থসঙ্কটের কারণে স্পর্শকাতর এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে এত দিন এগোনো যাচ্ছিল না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রাডারটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডারের সমন্বয়ে গঠিত। ফরাসি সরকারের অনুদানে ১৯৮৪ সালে প্রাইমারি রাডার এবং ১৯৮৬ সালে সেকেন্ডারি রাডার স্থাপন করা হয়। ১৯৮৭ সালে চার কোটি ৫৪ লাখ, ১৯৯৪ সালে চার কোটি পাঁচ লাখ টাকা এবং ২০০৮ সালে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্তমান রাডারটি আপগ্রেড করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান রাডার ব্যবস্থা বর্তমানের আধুনিক চাহিদা আর পূরণ করতে পারছে না।
প্রসঙ্গত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল পিপিপির মাধ্যমে রাডার ব্যবস্থাপনার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি আনসলিসিটেড প্রস্তাব পায়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং এককালীন বিপুল আর্থিক ব্যয়ের সাশ্রয় বিবেচনা করে সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১৩ সালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন রাডারসহ এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এই প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে প্রায় সাতবার পেছানোর পর ২০১৬ সালের ২২ জুন সিএএবি নির্দিষ্ট দফতরে দরপত্র জমার তারিখ ধার্য করে। দরপত্রে দেশী-বিদেশী চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে মেসার্স এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সের থ্যালেস, মেসার্স করিম অ্যাসোসিয়েটস কানাডার রেথিয়ন, উইংস এভিয়েশন স্পেনের ইন্দ্রা ও মেসার্স গেকি তাদের প্রস্তাবে তোশিবার রাডার স্থাপনের প্রস্তাব করে। এর মধ্যে থ্যালেস ও রেথিয়ন প্রাথমিক বাছাইয়ে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়।
বেবিচক সূত্র জানায়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার ক্রয়ের জন্য দেয়া আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিশ্বের নামীদামি চারটি কোম্পানি অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাইয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি মূল্যায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। দরপত্রের বিধি অনুযায়ী বেবিচক ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সেলের সমন্বয়ে গঠিত ডি-ব্রিফিং সেশনে উপস্থিত হতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বের সব বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) ২০১৭ সালের মধ্যে যুগোপযোগী করা সংক্রান্ত ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সিএএবি এই প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার স্থাপন, এডিএস-বি স্থাপন, এটিএস সেন্টার আপগ্রেড, কন্ট্রোল টাওয়ার বিল্ডিং স্থাপন, ভিএইচএস, এক্সটেন্ডেট ভিএইচএস, এইচএফ, মাস্টার কক, আরসিএজি, রেকর্ডিং সিস্টেম ও ভিসিসিএস স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাডার বিশেষজ্ঞ জানান, সর্বাধুনিক রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপনের এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পিপিপি সেলের প্রথম আনসলিসিটেড প্রকল্প। পিপিপির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিএএবির কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। বরং আগামী ২০ বছরে সরকার দুই হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করতে পারবে। পিপিপির আওতায় ১০ বছর পর্যন্ত বিনা মূল্যে রাডার রণাবেণ, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ, রাডার অপারেটর ও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দেশ-বিদেশে প্রশিণ দেয়া হবে। প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১০ বছরের মধ্যে তাদের ব্যয়িত অর্থসহ লাভের একটি অংশ দেয়া হবে।