শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় জিআরপি পুলিশের ব্যাপক সাফল্য : পেশাদার ছিনতাইকারী মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আনাগোনা আগের চেয়ে কমে গেছে

আপডেটঃ ৫:৩২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৬

এস,এম মনির হোসেন জীবন : চ্যানেল সেভেন বিডি  :গাজীপুরের টঙ্গী থানাধীন টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ( রেলস্টেশন) এলাকায় পেশাদার ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী , ভাসমান পতিতা,মাদক সেবনকারী,মাদক বহনকারী ( ক্যারিয়ার) ও নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ড আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেকটা কমে গেছে । এক কথায় বলতে গেলে আগের চেয়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এখন আর আগের মত মাদকের হাঁট বসেনা। টঙ্গী রেলওয়ে ( জিআরপি) পুলিশের সন্ত্রাসী ও পুলিশ,র‌্যাব ডিবি’র মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে এদৃশ্যপট পাল্টে গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সুত্র ও বিভিন্ন বিশ্ব্স্থ তথ্য সুত্রের।
গতকাল সোমবার দুপুরে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয় এলাকাবাসিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন ( জংশনটি) দীর্ঘ দিনের পুরানো । বলতে গেলে রাজধানীর রেলপথ যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বিশাল আকারের রেলস্টেশনটি চারদিকে বিস্তৃর্ণ। রেলস্টেশনের পশ্চিম অংশ কিছুটা বাউন্ডারী প্রাচীর ঘেরা থাকলে ও পূব অংশটি এখনও বেশ খোলা মেলা রয়েছে। রেলস্টেশের পুর্ব পাশে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের বিপুল পরিমান সরকারী পরিত্যক্ত খালি মাঠ ও জমি রয়েছে। টঙ্গী শিল্প এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন টঙ্গী রেলস্টেশন প্লার্টফরম হয়ে ট্রেন যুগে রাজধানীতে প্রবেশ করে। এছাড়া শ্রমিক অদ্যশিত এলাকা টঙ্গী শিল্পাঞ্জলের লাখ লাখ টঙ্গী রেলস্টেশন হয়ে পায়ে হেঁটে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসা বাড়িতে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকে। টঙ্গী রেলস্টেশ বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রেন চোখে পড়ে। রেললাইনের ওপর ট্রেন গুলো বেশ কয়েকদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। শিল্পাঞ্জল ব্যাষ্টিত টঙ্গী রেলস্টেশন হয়ে শতশত গার্মেন্টস পোষাক শ্রমিক প্রতিনিয়তই যাতায়াত করে থাকেন। অনেক সময় অত্র রেলস্টেশনটি লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। তখন আইনশৃংখলা বাহিনীকে হিমশিত খেতে হয়। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে টঙ্গী রেলস্টেশন জংশন এলাকায় অতি জরুরী ভিত্তিতে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মান করার জন্য বর্তমান সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীরা। এছাড়া টঙ্গী রেলস্টেমের পশ্চিম ও পূর্বতীরে বেশ কয়েকটি চা-পানের দোকার গড়ে উঠেছে। একই সাথে রেলস্টেশনের নির্ধারিত প্লার্টফরমে বেশী সংখ্যক চা-পান,সিগারেট সহ বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানপাট আছে। ট্রেন যাদ্রী ও দর্শনার্থীরা এসব দোকানের নিয়মিত গ্রাহক বলে জানা গেছে।
সরজমিন পরিদর্শনকালে ও স্থানীয় এলাকাবাসিদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান,টঙ্গী রেলস্টেশনের পূর্বপাশে আমতলি কেরানীরটেক নামক বিশাল একটি বস্তি রয়েছে। দীর্ঘ দিনের পুরানো এই বিশাল বস্তিটি। বস্তিতে প্রায় দু’ থেকে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। বিএনপি’র শাসনামলে আমতলি কেরানীরটেক বস্তিতে মাদকের সয়লাব ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখানে মাদকদ্রব্য বেঁচাকেনা অনেকাংশে কমে গেছে। এখন আর আমতলি বস্তিতে প্রকাশে মদ,গাঁজা,হেরোইন ও ইয়াবা বেঁচাকেনা হয়না। আইনশৃংখলা বাহিনীর ঝটিকা অভিযান ও জিআরপি পুলিশের তৎপরতার কারনে এমনটি হয়েছে। রাত দিন টঙ্গী থানা,ডিবি পুলিশ ও জিআরপি পুলিশের সদস্যরা টহল থাকে।
টঙ্গী রেলস্টেশনের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে এখানে ব্যবসা বানিজ্য করছি। আগের যে কোন সময়ে চেয়ে এখনকার ( বর্তমান) পরিস্থিত অনেকটা শান্ত। এখানে বেশ কিছু দোকানপাট রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করছি। টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় এখন আর আগের মত মাদকদ্রব্য বেঁচাকেনা হয়না। মাদক ব্যবসায়ীদের কোন আড্ডা নেই। চুরি,ছিনতাই,মাদক সেবন,বিক্রি এবং ভাসমান পতিতাদের আনাগোনা অনেককাংশে হ্রাস পেয়েছে। যেখানে আগে দিন কিংবা রাতে গনহারে ছিনতাই সংঘটিত হত এখন আর সেটি হচেছনা। জনগন অনেকটা নির্বিঘেœ ও শান্তিতে যাতায়াত করতে পারছে। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে টঙ্গী রেলস্টেশনের পরিস্থিতি অনেকটা ভাল আছে।
টঙ্গী রেলস্টেশন ( জিআরপি) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মো: আলাউদ্দিন জানান, আমি টঙ্গী রেলস্টেশনে ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল যোগদান করি। যোগদানের পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত নিষ্টার সাথে কাজ করে যাচিছ। বর্তমানে টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় লাখো লাখো মানুষের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে যাচিছ। সন্ত্রাস,মাদক,ছিনতাইকারী সহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে জিআরপি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইনচার্জ (এসআই) মো: আলাউদ্দিন আরো জানান, টঙ্গী রেলস্টেশনে ৯জন কনস্টেবল,১জন এএসআই ও ১জন এটিএসআই সহ মোট ১২জন পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু জিআরপি ব্যাকের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আলাউদ্দিন।