বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তি মাদকের পাইকারী বাজার ॥ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বিক্রি হয়

আপডেটঃ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৬

 

এস,এম মনির হোসেন জীবন,চ্যানেল সেভেন বিডি : রাজধানীর অতি সন্নিক্েট গাজীপুর জেলার টঙ্গী মডেল থানাধীন টঙ্গীর ক্রাইম জোন হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত একটি নাম এরশাদ নগর (বাস্তহারা) বস্তি। বিশাল বস্তিতে বর্তমানে সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজ, মাদক ব্যবসায়ী,খূনি, ছিনতাইকারী, ডাকাত, পকেটমার, ফিচকে চোর,অপহরনকারী, দাগীঁ সন্ত্রাসী আর মাদক সেবীদের নিরাপদ গোপন অভ্যয়াশ্রম পরিনত হয়েছে। বিশাল বস্তিতে হাত বাড়াইলেই সহজে পাওয়া যায় মরন নেশা মাদক। যেখানে ১ লক্ষ লোকের বসবাস সেখানে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার মাদক বেচাকেনা হয়ে থাকে। সে কারণে মাদকে সয়লাভ হয়ে গেছে টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তি। ঢাকা ও তার আশ-পাশ এলাকা গুলো থেকে কিলার গ্র“পের সদস্য, দাগীঁ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা এই বস্তিতে রাত্রি যাপন করে থাকে । অবৈধ মাদক ব্যবসার পিছনে বর্তমান ক্ষমতাসিন দলের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সুএের।

গতকাল সোমবার সরজমিনে গিয়ে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়,অপরাধীরা এরশাদ নগর বস্তিকে নিরাপদ ঘাটি হিসেবে বেছে নিয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান থেকে বাচঁতে তারা মাদক সেবন করে নেশায় ডুবে গিয়ে ছোট ছোট বস্তির ঝুপড়ি ঘরে রাত কাটায়। গড়ে উঠেছে শত শত ঘর-বাড়ী। আর ছোট ছোট বস্তি (ঝুপড়ি) ঘরের তো অভাব নেই। এক দিকে বেরিবাধ অন্য দিকে বস্তি ঘরের অভাব নেই। বিশাল বস্তিতে শত শত অলি-গলি ও সরু রাস্তা তৈরী করা হয়েছে। রয়েছে উচুঁ-নিচু ঘর বাড়ি। বস্তিতে ঢুকলেই মনে হয় এটি অন্য একটি জগৎ। অনেক সময় শরীর শিহরে ওঠে। হৃদপিন্ড কেপেঁ ওঠে। কখন যে কি হয়ে যায় এই ভয়ে বুকটা ধরপর-ধরপর করে। আশে-পাশের লোকজন মাদক পল্লী হিসাবে এটাকে চিহিৃত করেছে।
টঙ্গীর নামী-দামী বস্তির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় এবং লোকসংখ্যা হারও বেশী। যে দিকে তাকাই সেদিকে কেবল ঘর-বাড়ি। ঘনবসতিপুর্ন এই বস্তিতে মানুষের চলাচল তাই অনেকটা বেশী। টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তি এখন মাদকের সয় লাভ হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরাসরি মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্ডার দিয়ে থাকে। কিছূ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপনে আতাত করে দীর্ঘ দিন ধরে এ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু এরশাদ নগর বিশাল মাদক বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের উৎখাত কিংবা মাদক বেচা-কেনা বন্ধ আজও হয় নি। মাদক ব্যবসায়ীরা যে সরকার ক্ষমতায় আসে কেবল মাত্র সাইন বোর্ড পাল্টিয়ে জীবন বাচাতেঁ সেই দলে যোগদান করে সে পুরানো পেশায় ফিরে গিয়ে মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন। শনিবার দুপুরে টঙ্গীর মাদক পল্লীর এরশাদ নগর বস্তিতে সরজমিন পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালী মহলের কতিপয় ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সর্ম্পকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনতার পর এই বিশাল বস্তিটি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে এরশাদ নগর(বাস্তহার) নামে অত্র বস্তিটি নামকরন করা হয়। সেই থেকে এই বস্তিটির নাম এরশাদ নগর বস্তি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। কি নেই এই মাদক বস্তিতে? হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক,চোরাইও ছিনতাইকৃত মালামাল। টঙ্গীর এই বস্তিতে প্রতিদিন প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাই মালামাল বেচাঁ-কেনা হয়। ফেন্সিডিল, গাজাঁ, বাংলামদ, হেরোইন,আসর বসে বস্তি ঘরে। নেশাখোরেরা দিন-রাত মাদক সেবনে বেশী ব্যস্ত থাকে। বস্তির ঘরে কে গেলো আর কে আসলো এটি তাদের দেখার বিষয় নয়। টাকা দিয়ে মাদক কিনে খাই, আমরা কাউকে কেয়ার করি না। পুলিশ তো আমাদেরই মামু। তাদেরকে নিয়মিত হারে মাসোহারা দেই। সুত্রে জানা যায়, এরশাদ নগরে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের নামধারী সোর্সদের উৎপাত বেশী। টাকা না দিলে তারা ঝামেলা করে। সন্ত্রাসের জনপদ এই বস্তিতে কমপক্ষে শতাধিক স্পর্টে মদ, গাজাঁ, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, নেশার ইনজেকশন প্রকাশের অনেক তরুণ-তরুণ কে নিতে দেখা গেছে। টঙ্গীর এই মাদক বস্তিতে বহু স্কুল কলেজও বিশ্ব বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা এসে দলে দলে মাদক সেবন করে। এদের চলাফেরা কথাবার্তা আর পোশাক দেখলেই বোঝা যায় যে, এরা মাদক সেবী। নেশার জগতে ভাসছে এরশাদ নগর বস্তি। বস্তিতে রাত যত বাড়তে থাকে নেশাখোরদের উপস্থিতি ও বাড়তে থাকে। রাত ভর চলে জুয়াঁ,মদ আর নারীর আসর। বস্তিতে ভাসমান পতিতার সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তারা নেশাগ্রস্ত হয়ে খদ্দরের অপেক্ষায় থাকে। একশ্রেণীর মাদক সেবী ও রিক্সা চালক এদের খদ্দর।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সুএে জানা যায় ,ওই বস্তিতে যারা মাদক ব্যবসা করে এদের সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিক। আর এদের সহযোগী রয়েছে প্রায় শতাধিক। এরশাদ নগর বস্তির মাদক বিক্রিতারা হচ্ছে দলনেতা পুলিশের সোর্স নামধারী শুক্কুর, সোলেমান, শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা, আসলাম, নোয়াব আলী, ভেলা, হাতকাটা হালিম, পারভিন, মজিবর, আনিস, হাসেম, পিচ্চি হাসেম, বোবার স্ত্রী,সন্ত্রাসী পিচিছ হোসেন, পুড়ি মাসুদ, পারভেজ, সালাউদ্দিন, মঞ্জুরুল হক ওরফে বাপ্পি, রিপন, আউচ পাড়া ও দওপাড়া গ্রামের সিরাজ, নুরু, ইয়াসিন, সাইফুল, প্রিন্স, শাহআলম, , ইসমাইল, আলাউদ্দিন (জুয়াঁ ও মদ) পরান মন্ডলেরটেক মাদক সম্রাঞ্জী রাজিয়া, টুকু, ভুলু, মোবারক, আমজাদ, বাবুল, শিমুল, সুজন, চুন্নু ও আমতলী কেরানী টেক বস্তির ন্যাংরা জামাল ওরফে কালিগঞ্জের জামাল, জামাল ওরফে ফেন্সি জামাল,সোর্স রানা, মোল্লা শহীদ,আজিজ ওরফে চোরা আজিজ, সেলিম, আলমগীর,সোর্স শহীদ,মেকার ফারুক, মাহাবুব,মিজান, পারুল, রাশিদা, রোকসানা, চম্পা, রুবি, ব্যাংক মাঠ বস্তির মাদক ব্যবসায়ী আলামিন, ফজলু, দেলোয়ারা, নিপা, রিপা, সাইফুল, স্বপ্না বগি,টুকু, সোর্স ফারুক,কালা ফারুক, নার্গিস, মরকুনের মাদক সম্রাট দেলোয়ার হোসেন দিলু,অলি উল্যাহ ওরফে অলি,মজিবুর, সুজন, সোহাগ, সোহেল,শফি,দেলু,রাশিদা,লতা প্রমুখ।
একটি সুএ জানায়, এরশাদ নগর বিশাল বস্তিতে অনেক দাগী সন্ত্রাসী রাত দিন আসা যাওয়া করে। এদের মধ্যে অনেকের নামে অসংখ্য মামলা ও রয়েছে। এছাড়া রাতে বেলায় পেশাদার কিলার গ্র“পের সদস্যরা মদ, গাজা,ফেন্সিডিল খেয়ে দল বেধে রাস্তায় গিয়ে চাপাতি,ছোরা ও অস্ত্র নিয়ে গণহারে ছিনতাই করে বেড়ায়। পাশাপাশি এলাকার চাদাবাজি,ছিনতাই, মামদ ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার,ডিশ ব্যবসা,জুয়া ও ঝুট ব্যবসা নিয়ে সন্ত্রাসী বিভিন্ন গ্র“পের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও নিহতের মত অনেক ঘটনা ঘটেছে। র‌্যাব ও পুলিশ এরশাদ নগর এলাকা থেকে অস্ত্র,গুলি,ছোরা,চাপাতি সহ বহু সন্ত্রাসী,মাদক ব্যবসায়ী,চাদাবাজকে ধরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অনেক সন্ত্রাসী জেল থেকে জামিনে বের হয়ে সেই পুর্বের পেশায় ফিরে এসে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
টঙ্গী মডেল থানার ওসি ( তদন্ত) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, টঙ্গীর সবচেয়ে বড় বস্তি হচেছ এরশাদ নগর বস্তি। উক্ত বস্তিতে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস রয়েছে। বস্তিতে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক বেচাকেনা হয়ে আসছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মদ,গাজা,ফেন্সিডিল সহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করছে। ওসি ( তদন্ত) মো: আমিনুল ইসলাম আরো জানান, এরশাদ নগর বস্তি থেকে পুলিশ চাপাতি,ছোরা,অস্ত্র সহ বহু সন্ত্রাসী কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ দিনরাত কাজ করে যাচেছ।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফিরোজ তালুকদার জানান, সোর্সদের অপর নাম হচেছ গুপ্তচর। সোর্সরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে থাকে। তবে সোর্সদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা আইননানুগ শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেব।
একটি সুএে জানা যায়,বর্তমান ক্ষমতাসিন দলের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সাথে স্থানীয় পুলিশের সোর্সরা থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি মাদক স্পট থেকে টাকা উঠিয়ে নিজেরাই আতœসাৎ করছে বলে ও অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলায় সোর্সরা সন্ত্রাসী,ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে সহযোগীতা করে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকার সাধারণ জনগন কোন উপায় না পেয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী,র‌্যাব ডিজি,পুলিশের আইজি,গাজীপুরের পুলিশের এসপি সহ সরকারের আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।