রবিবার ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে দালাল দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-৩

আপডেটঃ ৫:২৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৬, ২০১৬

রাজীব হাসান,চ্যানেল সেভেন বিডি: টঙ্গীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট  সরকারী হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী বাগিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই দালাল গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। মঙ্গলবার সন্ধা সাড়ে ৭টা ও রাত সাড়ে ৯ টায় এবং  বুধবার দুপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩ দালাল আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, মো: আরিফ হোসেন, মো: মেহেদি হাসান ও মো: সালাউদ্দিন।

সংঘর্ষ চলাচলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। টঙ্গী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও এবং পরে হামলার ঘটনায় আহত দালাল মেহেদী হাসান টঙ্গী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ফলে বুধবার দুপুরে আবারো এসংর্ঘষের ঘটঁনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বাগিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ২টি দালাল গ্রুপ সার্বক্ষনিক হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও কর্মচারীদের সহযোগীতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় রোগী বাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দালাল গ্রুপ গুলোর মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে থাকে।

মঙ্গলবার সন্ধা সাড়ে ৭ টায় দালাল মো: ইউনুস আলী মিন্টু ও দালাল মো: শাহীন গ্রুপ হাসপাতালে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ১৫/২০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। এসময় রোগী বাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে মিন্টু-শাহীন গ্রুপের দালালদের সাথে উক্ত হাসপাতালে মাঠে আগে থেকেই অবস্থান করা উক্ত সরকারী হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী এক আয়ার ছেলে দালাল মো: আরিফ হোসেন ও মেহেদি হাসান গ্রুপের দালালদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মিন্টু ও শাহীন গ্রুপের দালালরা আরিফ গ্রুপের দালাল সদস্য মেহেদী হাসান আরিফকে মারধর করে। এসময় দালাল আরিফ ও তার সহযোগীদের সাথে মিন্টু গ্রুপের দালালদের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পওে রাত সাড়ে ৯ টায় আবারো সংর্ঘষ হয়। স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও পুলিশ গুরুত্বের সাথে ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আবারো গতকাল বুধবার দুপুরে মিন্টু ও শাহীন গ্রুপের দালালরা সংঘবদ্ধ ভাবে আরিফ গ্রুপের সদস্য সালাউদ্দিনকে হাসপাতালে একা পেয়ে পিটিয়ে গুরতর আহত করেছে। এঘটনায় সালাউদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল টঙ্গী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছে। হাসপাতালে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার রোগী বাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই এ দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
হাসপাতালে কর্মরত নীরিহ প্রকৃতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, হাসপাতালে অবস্থান নেয়া ২টি দালাল চক্রের মধ্যে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। টঙ্গী ও উত্তরার কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক পক্ষ এবং তাদের দালালদের টাকার ভাগ নিয়ে অনেকেই নীরব ভুমিকা পালন করছে। ফলে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এবং ভর্তিকৃত রোগী ও তাদের স্বজনদের আতংকিত করে তুলেছে।