মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নদী ভাঙন ঝুঁকিতে হুমকীর মূখে মূল্যবান স্থাপনাসহ বিস্তৃর্ণ এলাকা

আপডেটঃ ২:৩৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৬

আনোয়ার হোসেন রানা,সাঘাটা, গাইবান্ধা: সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, গোবিন্দপুর, বেড়া গ্রাম ও চিনিরপটল গ্রামের দক্ষিণ এলাকা যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে নতুন করে গত ১ মাসে আরও ৩০টি ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ তলা ভবণ, হলদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবণ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবণ, ৩টি জামে মসজিদ, বেড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিস্তৃর্ণ এলাকার ঘরবাড়ী।

যমুনা নদী পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় উপজেলার অন্যান্য পয়েন্টে ভাঙন তেমন না থাকলেও হলদিয়া এলাকায় তীব্র স্রোতে ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে ভাঙন এলাকায় অবস্থিত কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ তলা ভবণের পূর্বাংশের ২টি পিলারের নিচ থেকে মাটি ধসে যাওয়ায় ৩ তলা এই ভবণটি হুমকীতে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে এ ভবণটি ভেঙে পরতে পারে। ভাঙন এলাকায় গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে অন্যস্থানে ড্যাম্পিং জি.ও ব্যাগগুলো তুলে এনে ভাঙন এলাকায় ফেলে প্রতিরোধের চেস্টা করছে। ভাঙন প্রতিরোধে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন তৎপরতা না থাকায় ভবণ রক্ষার্থে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গত রোববার ভাঙন প্রতিরোধের আবেদন জানিয়েছেন। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে গত অর্থ বছরে ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার হলদিয়া, গোবিন্দপুর ও গোবিন্দী এবং পাশ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী ও গণকবর সহ ৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জি.ও ব্যাগ ড্যাম্পিং করে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সব এলাকায় আশানুরুপ কাজ না করেই কাগজে কলমে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল খালেক জানান এখানে জি.ও ব্যাগ আশানুরূপ ড্যাম্পিং না হওয়ার কারণে ভাঙন থামে নি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান স্থাপনাটি বিলীন হয়ে গেলে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান পূর্বের টেন্ডারের বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে। এখন নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবারও ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হবে।