বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ছাতকে মরা মোরগ বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আপডেটঃ ২:৫০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৬

চান মিয়া, ছাতক সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের ছাতকের বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম জবাইয়ের নামে দেদারসে মরা মোরগ বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়িরা দীর্ঘদিন থেকে এ প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এব্যাপারে আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় অপরাধিরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এনিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তেুাষ বিরাজ করছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য মতে জানা যায়, ১৩ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে রয়েছে সহ¯্রাধিক পোল্ট্রি ফার্মের মোরগ বিক্রির দোকান।

এরমধ্যে মোরগের খামার (পোল্ট্রি ফার্ম) ৩শ’টি ও হাঁেসর খামার রয়েছে ২শ’টি। এছাড়া প্রাণী সম্পদ বিভাগ আরো জানায়, উপজেলায় হাঁসের সংখ্যা হচ্ছে ২লাখ, মোরগ ৩লাখ, কবুতর ৪হাজারসহ অন্যান্য পশু-পাখি রয়েছে আরো প্রায় লক্ষাধিক। তবে সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশিই রয়েছে হাঁস-মুরগের সংখ্যা বলে জানা গেছে। এদিকে ছাতক পৌরসভা, নোয়ারাই, ইসলামপুর, কালারুকা, উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, দোলারবাজার, জাউয়া, ভাতগাঁও, সিংচাপইড় ও ছৈলা-আফজালাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছাতক সদর, চরমহল্লা ইউনিয়নের ছোট-বড়, হাট-বাজাররে রয়েছে সহ¯্রাধিক পোল্ট্রি ফার্মের মোরগ বিক্রির দোকান। তবে গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়াও ছাতক শহরের বিভিন্ন মোরগের দোকানে আগাম জবাইয়ের নামে ক্রেতাদের কাছে মরা মোরগ দীর্ঘদিন থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের সরলতার সূযোগে তাদের ক্রয়কৃত জীবিত মোরগকে দোকানের পেছনের আড়ালে রেখে ড্রাম থেকে জবাইকৃত মরা মোরগ ব্যাগে পুরে দিচ্ছে।

এভাবেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ি ক্রেতাদের সাথে রিতীমতো প্রতারণা ব্যবসা করে যাচ্ছে। অবশেষে ২২অক্টোবর শহরে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের ভেজাল বিরুধী অভিযানে মরা মোরগ বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে পড়ে। ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুজ্জামান পরিচালিত অভিযানে ‘ছাতক পোল্ট্রি’ নামের দোকান মালিক কয়ছর আলীকে মরা মোরগ বিক্রি ও দোকানে মরা মোরগ সংগ্রহে রাখার অভিযোগে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জানা গেছে, শহরের মাছহাটা এলাকায় অবস্থিত ছাতক পোল্ট্রি নামক দোকানে দীর্ঘদিন থেকে মরা মোরগ বিক্রি করে আসছিল। সে ক্রেতাদের সরলতার সূযোগে প্রতারণার মাধ্যমে মরা মোরগ বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা কামাই করেছে।

কিন্তু অভিযানে তাকে জেলও দোকানের লাইসেন্স বাতিল না করে গুরু পাপে লঘু দন্ড দেয়ায় অসন্তেুাষ ক্রেতারা। এভাবে জাউয়াও গোবিন্দগঞ্জ রেল গেইট এলাকার বিভিন্ন দোকানে মরা মোরগ বিক্রির ঘটনা নিয়ে লঙ্কা কান্ড ঘটেছে। এনিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়েছে কয়েকবার। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাক্তার মোর্শেদ উদ্দিন আহমদও ভেটেরিনারী সার্জন ডাক্তার আব্দুস শহীদ হোসেন জানান, উপজেলার প্রায় সব দোকানগুলোয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বিক্রি করছে মোরগ। তবে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়িরা অধিক লাভের আশায় মরা মোরগ বিক্রি করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে তারা ক্রেতাদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, কেহ মরা মোরগ বিক্রি করলে প্রশাসনকে অবহিত করতে অনুরুধ করেন। ভবিষ্যতে যারা এধরণের ঘটনায় জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।