বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

পঞ্চগড়ে সুদখোর মহাজন কেড়ে নিল ভ্যান চালকের জীবন

আপডেটঃ ৩:২৯ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৬

এ রউফ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আত্নহত্যা করেছে আঃ খালেক (২৭) নামে এক ভ্যান চালক। বুধবার ২৬ অক্টোবর চাকলা হাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আঃ খালেক ওই এলাকার হাফিজের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি মানুষটির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মায়ের কোলে ছোট্ট শিশুটি তার বাবার কোলে যাওয়ার জন্য অবিরত কেদে চলেছে দুই বছরের শিশু খাদিজা। নিঃস্ব আঃ খালেকের দাফন সম্পন্ন করার কোন উপায় নেই তার স্ত্রীর হাতে। তাই প্রতিবেশীরা সবাই সহযোগীতা করে দাফনের ব্যাবস্থা করেন। সরেজমিনে গিয়ে এলাকায় জানা যায় কয়েক মাস আগে চাকলাহাট ইউনিয়নে ভান্ডারু গ্রামের সুদখোর সুরতজামালের কাছে ২ হাজার টাকা সুদের উপর নেয় ভ্যান চালক আঃ খালেক। তার আগে আঃ খালেক আশা ও আরডিআরএস এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ষ্ণণ নিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান ক্রয় করে।  ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হতো তা দিয়ে সংসার খরচ ও ষ্ণন কিস্তিতে পরিশোধ করতে থাকে। এ দিকে গত দুই মাস আগে সুদের উপর  সুদখোর জামালের কাছে দুই হাজার টাকা নেয়। সুরত জামাল দুই মাসের দুই হাজার টাকার সুদ ১২ হাজার টাকা ভ্যান চালকের কাছে পরিশোধ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করে।

গত মঙ্গলবার ২৫ অক্টোবর ওই ভ্যান চালক টুনির হাট বাজারে গেলে সুদখোর জামাল ও তার সহযোগী ফজুর দুজনে মিলে আঃ খালেকের ব্যাটারি চালিত ভ্যানটি আটক করে ৫০ হাজার টাকা ভ্যান ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। সুদখোর জামাল ১২ হাজার টাকা নিয়ে বাকি টাকা আঃ খালেক কে না দিয়ে ফজুর আলীর কিছু সহযোগি ভাগ করে নিয়ে সুরতজামাল ভ্যান চালকের হাতে ৫০ টাকা দিয়ে বিষ কিনে ক্ষেতে বলে। নিরুপায় হয়ে আঃ খালেক বাড়িতে এসে সব কথা কান্না স্বরে তার স্ত্রীকে বলে। লজ্জায়, ঘৃনায় ওই ভ্যান চালক রাতে স্ত্রীর অগোচরে বিষ পান করে। কিছুক্ষন পরে তার স্ত্রীর সন্দেহ হলে ঘড়ে ঢুকে দেখে ভ্যান চালক ছটফট করতেছে। সাথে সাথে তার স্ত্রী চিৎকার করতে থাকলে পাশের লোকজন বুঝতে পারে তিনি বিষ পান করেছে। তৎক্ষনিক ভ্যান যোগে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

দায়ীত্বরত ডাক্তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় খালেকের পরিবারসহ শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসীর দাবী সুদখোর সুরতজামাল ও তার সহযোগী ফজুর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক স্বাস্থীর দাবী জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায় মামলার প্রস্ত্রতি চলছে। ওই এলাকার সপিকুল ইসলাম তিনি জানান সুরতজামাল উচ্চ হারে সুদের ব্যাবসা করেন। প্রতিদিন সকালে কেহ ১০০/- টাকা নিলে সন্ধ্যায় ১১০/- দিতে হবে। সুদখোর সরতজামালের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এতে বুঝা যায় সুদখোর সুরতজামাল ও তার সহযোগী ফজুর গা ঢাকা দিয়েছে। চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন তিনি জানান সুদখোর সুরতজামাল ও তার সহযোগীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক স্বাস্থীর দাবী করেন।