মঙ্গলবার ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

স্বামী-শ্বাশুড়ি ও ননদদের নির্যাতনের শিকার টঙ্গীর গৃহবধু সুমির শেষ ঠিকানা কোথায় ?

আপডেটঃ ৭:১৯ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৬

এম এস আই জু‌য়েল পাঠান,চ্যানেল সেভেন বিডি: টঙ্গীর শিংবাড়ি এলাকার গৃহবধু মাহফুজা আক্তার সুমি (২৪) তার স্বামী, শ্বাশুড়ি আর ননদদের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে তাদের ভয়ে বাসা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার শেষ ঠিকানা কোথায় ? সে নিজেও জানে না। তাকে অমানুষিক নির্যাতন শেষে কোন কারণ ছাড়াই শ্বাশুড়ি আর ননদদের সহযোগীতায় স্বামীর দেয়া তালাকপত্র এবং নিজের বিয়ের কাগজ নিয়ে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে বিচারের দাবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টঙ্গী মডেল থানায় সুমির দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে মাহফুজা আক্তার সুমি গত ৮ জুন ২০০৮ সালে একই জেলার নাটাইঘাট থানার রামপুরা গ্রামের মৃত আ: হামিদের ছেলে মো: নাহিদুল ইসলামের সাথে ইসলামিক শরিয়ত মতে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় জীবিকার সন্ধ্যানে স্বামীকে নিয়ে সুমি গত ২০০৯ সালের প্রথম দিকে টঙ্গীর শিংবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মৃত মিরান মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসের সুবাধে একটি গার্মেন্টসে চাকুরি শুরু করে।

বিয়ের ২ বছর পর টঙ্গীর ভাড়া বাড়িতে ২০১০ সালের ২১ মার্চ তাদের মাহমুদুল নামে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত তাদের জীবন সংসার সুখেই কাটছিলো। ইতিমধ্যে পরিচয় হয় বাড়িওয়ালা মৃত মিরান মিয়ার ছেলে মো: ইমরান হোসেন সাদ্দাম (২৫) এর সাথে। পাল্টে যায় গৃহবধু সুমির জীবন সংসার। লম্পট ও প্রতারক ইমরান হোসেন সাদ্দাম গৃহবধু সুমিকে পছন্দ করে তার সংসার ভেঙ্গে দিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং তাদের সংসারে কলহ সৃষ্টি করে রাখে। একপর্যায়ে সুমির স্বামী নাহিদুলের নিকট সুমির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রভাকান্ড ছড়িয়ে তাকে তালাক করায়। সুমিকে তালাক দিয়ে স্বামী চলে যাবার এক মাস পর ইমরান হোসেন সাদ্দাম এক সন্তানের জননী সুমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অতি গোপনে সুমিকে প্রতি সপ্তাহে ভোগ করতে থাকে।

তারপর ইমরান গৃহবধু সুমিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সুমি রাজি হয়। সেমতে গত ২১ অক্টোবর ২০১৩ সালে ইমরান হোসেন সাদ্দাম ১ শত টাকা মূল্যের ২ টি স্ট্যাম্পে বিজ্ঞ জেলা নিবাহী ম্যাজিষ্ট্রেে আদালত ও নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক এক লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য করত: বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিষয়টি পরিবারের মধ্যে প্রায় আড়াই বছর গোপন রেখে কৌশলে ইমরান হোসেন তার নবাগত স্ত্রী সুমিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাসের পর গত ৬ মাস আগে ইমরান হোসেন টঙ্গীর চেরাগআলীস্থ বিপ্লবের বাড়ির নীচতলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করে। কিস্তু প্রতারক ও লম্পট ইমরান হোসেন সাদ্দাম স্ত্রীর ভরন পোষন না দিয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যেতে প্রতিদিন সুমিকে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। স্বামীর অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তাদের বিয়ের বিষয়টি সুমি গত প্রায় ১৫ দিন আগে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিতে ইমরানের বাড়িতে গেলে স্বামী ইমরান হোসেনসহ তার মা মনোয়ারা বেগম (৫৫), ভাই সোলেমান (৩৫), বড় বোন সুলেকা বেগম (৩৭), মেজো বোন ইয়াসমিন (২৭) মিলে সুমিকে বেধরক মারধর করে গুরতর আহত করে এবং ইমরানকে তালাক দিতে বলে তাছাড়া এনিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

নির্যাতনের শিকার সুমি জানায়, ইমরানের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর থেকে ইমরানের ভাড়াটে লোকজনসহ তার মা, বোনরা মিলে প্রতিদিন আমার বাসায় এসে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ভয়ে আমি বাসা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সে আমার পূর্বের স্বামীকে তাড়িয়ে এবং সংসার ভেঙ্গে দিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে, আমার অবুঝ শিশুকে এতিম করেছে তাতেও আমার দু:খ নেই, সে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে করে এখন আমাকে তার মা ও বোনের সহযোগীতায় আইনভর্হিভুত তালাকনামা দিয়েছে। তাতেও খান্ত হয়নি তারা আমাকে তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে নির্যাতনসহ হত্যার চেষ্টা করছে। আমি টঙ্গী মডেল থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। থানায় আমার দেয়া অভিযোগের কথা জানতে পেরে  ওরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্যও পায়তারা করছে। আমি এখন কি করবো, কোথায় যাবো। সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এই লম্পট, পতারক ইমরান হোসেনের বিচার চাই।

এব্যাপারে জানতে অভিযোগ তদন্তকারী টঙ্গী মডেল থানার এস আই সুমন ভক্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুমির দেয়া অভিযোগ আমি পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে মেয়েটি যাতে সুষ্ট বিচার পায় অবশ্যই আইগত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে তার ব্যবস্থা করা হবে।