মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কীভাবে সামলাবেন স্বামী পরনারীর প্রেমে পড়লে?

আপডেটঃ ৩:৫২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৮, ২০১৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: পুরুষরা তাদের জীবন সঙ্গিনী কারো সঙ্গে রোমান্টিক খোশগল্পে মাতলে তার সম্ভাব্য সীমাতিক্রম সম্পর্কে একটু কমই সহনশীল হন। তবে নারীরা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন।

আমাদের প্রায় সকলেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে রোমান্টিক খোশগল্পে মেতে উঠি। অনেক সময়ই এই ধরনের রোমান্টিক খোশগল্পকে নিরীহ মনে হয়। কিন্তু এর পেছনে যদি গভীর কোনো উদ্দেশ্য থাকে তাহলে তা একটি দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মনোচিকিৎসক এবং দাম্পত্য সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শক গীতাঞ্জলী সাক্সেনা বলেন, এমন ক্ষেত্রে অনেকেই সীমা অতিক্রম করে যান। তিনি বলেন, ”হালকা চালের রোমান্টিক খোশগল্পের পেছনে যদি প্রেম-যৌনতার সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকে তাহলে একে প্রতারণা হিসেবেই গণ্য করতে হবে।”

সাক্সেনার মতে, কোনো নারী বা পুরুষ যদি বিয়ের মতো একটি প্রতিশ্রুতিশীল সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার পরও তার সঙ্গী বা সঙ্গিনী ছাড়া অন্য কারো প্রতি যৌন আগ্রহ প্রকাশ করেন তাহলে বুঝতে হবে ওই নারী বা পুরুষ তার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছ থেকে নিজের চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছেন না। এর মানে হলো তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অন্যদের সহায়তা দরকার।

বিজ্ঞাপন পেশাদার ৩৫ বছর বয়সী আবিদ খান (ছদ্মনাম) ১০ বছর ধরে বিবাহিত। তিনি স্বীকার করেছেন কর্মস্থলে নারীরা প্রায়ই তার সঙ্গে রোমান্টিকতাপূর্ণ খোশগল্পে মেতে ওঠেন। কিন্তু যখনই কেউ সীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেন তখন তিনি তা রুখে দেন। তিনি বলেন, ”অফিসের একজন নারী প্রায়ই আমার সঙ্গে রোমান্টিক খোশগল্পে মেতে ওঠেন। কিন্তু যখনই তিনি সীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেন আমি তাকে উপেক্ষা করি।”

তবে এমনও হতে পারে কোনো নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হালকা চালের রোমান্টিক খোশগল্পে এমনভাবে মেতে উঠতে পারেন যা দেখে আপাতত নিরীহ মনে হলেও তা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

একটি রপ্তানি ফার্মে কাজ করেন ২৯ বছর বয়সী জেসমিন। কর্মস্থলে তার একজন ভালো পুরুষ বন্ধু ছিলেন যার সঙ্গে তিনি প্রায়ই ফোনে কথা বলতেন। জেসমিন তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ”আমার সহকর্মী বন্ধু প্রায় প্রতিদিনই অফিস শেষে আমাকে ফোন করতেন। আমার স্বামী কর্মস্থল থেকে ফেরার আগেই আমি তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতাম। একদিন আমার স্বামী একটু আগেভাগেই ঘরে ফেরেন। তিনি আমাদের কথোপকথন শুনে প্রচণ্ড আঘাত পান। এরপর তিনি আমাকে বোঝান যে, এই ধরনের খোশগল্প আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এরপর থেকে আমি আমার সহকর্মীর সঙ্গে কাজের প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো প্রসঙ্গে আলাপ করা বন্ধ করে দিয়েছি।”

সাক্সেনা বলেন, সম্প্রতি তিনি এক দম্পতিকে কাউন্সেলিং করেছেন। ওই দম্পতির নারী সদস্য আবিষ্কার করেন তার স্বামী পরনারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। ”ওই নারী জানান তার স্বামী যে প্রায় সব সময়ই অন্য নারীদের সঙ্গে রোমান্টিক খোশগল্পে মেতে থাকতেন তা তিনি জানতেন। তবে বিষয়টিকে তিনি অতটা গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু এর ফলে একটা সময়ে গিয়ে তার স্বামী বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি যদি আগেভাগেই সঠিক পদক্ষেপটি নিতেন তাহলে হয়ত আর এমন সর্বনাশ হতো না বলে জানান ওই নারী।”

কোনো ব্যক্তি নিজেই তার সঙ্গী বা সঙ্গিনী অন্য কারো সঙ্গে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন সম্পর্কে জড়াচ্ছেন কিনা তা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন। ফলে আগেভাগেই সাবধান হলে বিষয়টি সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব।