রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গীতে হিজড়াদের অত্যাচারে এলাকাবাসি অতিষ্ট

আপডেটঃ ৫:২০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৯, ২০১৬

 

এস, এম মনির হোসেন জীবন :- চ্যানেল সেভেন বিডি:  গাজীপুর মহানগরী শিল্প নগরী টঙ্গীতে পুরুষ ও মহিলা হিজড়াদের অত্যাচারে এলাকাবাসিরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। হিজড়ারা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে ছিনতাই,মাদক ব্যবসা,দেহ ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড অবাধে চালিয়ে যাচেছ বলে এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গী শিল্পাঞ্জলে বর্তমানে প্রায় শতাধিক হিজড়া বসবাস করছে। হিজড়ারা দু’ধরনের হয়ে থাকে। এদের মধ্যে দেখতে কেউ পুরুষ হিজড়া আবার কেউ মহিলা হিজড়া। সাধারণত দিনের বেলায় হিজড়ারা দল বেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। আবার কেউ সন্ধ্যার পর বাসা থেকে সেজে ঘুজে শিকারের আশায় বের হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু হিজড়া কাপড় পড়ে আবার কেউ প্যান্ট শার্ট ও গেঞ্জি পড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঢুল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হিজড়ারা বিভিন্ন দোকান পাট,মার্কেট ও বাসা বাড়িতে দল বেধে গিয়ে টাকা তুলে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হিজড়ারা। এদের ভয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তড়িগড়ি করে ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে থাকে। টাকা দিতে কেউ না চাইলে হিজড়ারা তাকে নাজেহাল করে।
গতকাল শনিবার টঙ্গী এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হিজড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। টঙ্গী থানা এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক হিজড়া পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। এদের মধ্যে হিজড়ার দল নেতা তথা সর্দারনীদের অধীনে থাকে হিজড়ারা। সর্দারনীদের মধ্যে অনেকে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ও ফ্লাট নিয়ে বসবাস করছে। এদের মধ্যে টঙ্গীর ষ্টেশন রোড মাছিমপুর এলাকায় কাকলী হিজড়া, অঞ্জনা, আলাদীর বাড়ি রয়েছে। এদের অধীনে প্রায় ২০/২৫জন পুরুষ ও মহিলা হিজরা রয়েছে। এছাড়া টঙ্গী হাজী মাজার বস্তি,আমতলি বস্তি,ব্যাংক মাঠ বস্তি,বাস্তুহারা বস্তি,মিলগেইট ও কেরানীরটেক বস্তি সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০/৭০ জন হিজড়া বসবাস করছে।
অপর দিকে, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কাঠালতলা, কোর্ট বাড়ি,আজমপুর কাঁচা বাজার,কসাইবাড়ি,আশকোনা এলাকায় প্রায় ৩০/৪০জন পুরুষ ও মহিলা হিজড়া বসবাস করে। এদের মধ্যে ফায়দাবাদ ও কাঁঠালতলা এলাকায় রাহেলা,স্বপ্না,কল্পনা হিজড়ার বাড়ি রয়েছে। রাহেলা হিজড়া হল এদের প্রধান গুরু। দক্ষিণখানে রাহেলা হিজড়া দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন। তার রয়েছে একটি আলিশান বাড়ি। তার বাড়িতে হল হিজড়াদের ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১৪/১৫জন হিজড়া ভাড়া থাকে। পাশাপাশি তুরাগের কামার পাড়া,রাজাবাড়ি,ধউর,রানাভোলা,বাউনিয়া এলাকায় প্রায় ৩০/৩৫ জন হিজড়া থাকে। কচি হিজড়া হল এই গ্রুপর লিডার। সবাই তাকে গুরু বলে ডাকে।
স্থানীয় লোকজনদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, টঙ্গী,উওরা,তুরাগ,উওরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় প্রায় দেড়শত পুরুষ ও মহিলা হিজড়া রয়েছে। এলাকা নিয়ে হিজড়াদের মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ টাকা তুলতে গেলে অপর পক্ষ টাকা তুলতে বাধা দেয়। এই নিয়ে টঙ্গী, উওরা ,তুরাগ থানায় মামলা সহ একাধিক জিডির ঘটনা ইতি পুর্বে রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছর উওরা ১২ নং সেক্টরের এক বাসায় টাকা তুলা কোলের শিশুকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকের অস্ত্রের গুলিতে এক হিজড়া আহত হয়। এছাড়া উওরার ও টঙ্গী এলাকায় বাড়ির মালিক,সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মিলে হিজড়াদের একাধিক বার পিটিয়ে আহত করেছে। এর পর ও হিজড়াদের অত্যাচার কমেনি। বরং তাদের অত্যাচার অনেকটা বেড়ে গেছে। এলাকাবাসি ও সাধারণ মানুষ এদের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসিরা অভিযোগ করে বলেন,হিজড়া রাতের বেলায় ছিনতাই,মাদক সেবন ও বিক্রি সহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। সুযোগ বুঝে এরা পথচারী,রিকসা ওয়ালাদের নগদ টাকাও মোবাইল সেট জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। টঙ্গী এলাকার স্বপ্না,কল্পনা,সাথী,সুমি,বিথী,মালা,ঝর্ণা,কচি,শাহজাহান,রতœা হিজড়া সহ অসংখ্য পুরুষ ও মহিলা হিজড়া দলবেধে রাতে বাসা থেকে সেজে ঘুজে বের হয়ে টঙ্গী ষ্টেশন রোড,মেঘনা রোড,টিএসএস মোড়,আব্দুল্যাহপুর,বিমান বন্দর পার্ক সহ বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ অবাধে দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে আসছে বলে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসিরা অভিযোগ করেন।
টঙ্গী এলাকার হিজড়া সর্দারনী কাকলী ও কল্পনা হিজড়া জানান, আমরা কোন অন্যায় অত্যাচার করিনা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে তুলা তুলে ও নাচগান করে টাকা উপার্জন করি। তারা আরো জানান,ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সাথে আমরা জড়িত নই।
কল্পনা হিজড়া আরো বলেন, টঙ্গী এলাকায় প্রায় শতাধিক হিজড়া বসবাস করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ না কেউ কোন না কোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারে।
উত্তরার আব্দুল্যাহপুর ফায়দাবাদ কোর্টবাড়ি এলাকার হিজড়া সর্দারনী রাহেলা জানান, আমরা জন্মগত ভাবে হিজড়া। আমার এখানের একটি বাড়ি রয়েছে। আমার বাসায় অনেক হিজড়া বসবাস করে।
রাহেলা,পান্না,সুরুচি হিজড়া আরো জানান, আমরা দক্ষিণখান সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। নাজ গান করি এবং বাজার থেকে টাকা পয়সা ও কাঁচা পন্য উঠিয়ে কোন মতে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। তিনি আরো জানান,সমাজে হিজড়ারাও মানুষ তাদেরও বেঁচে থাকার আছে অধিকার।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ তালুকদার জানান, টঙ্গীতে অসংখ্য হিজড়া রয়েছে। আমি শুনেছি হিজড়ারা নাকি বিভিন্ন বাসায় গিয়ে টাকার জন্য মানুষকে নানা ভাবে হয়রানী ও মারধর করে।
ওসি আরো জানান,আমরা কারো বিরুদ্বে ছিনতাই,মাদক ব্যবসা,যৌন হয়রানীর ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পেয়ে অবশ্যই তার বিরুদ্বে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।