শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আইনের তোয়াক্কা করছেন না কাজী লালমনিরহাটে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে বাল্য বিবাহ

আপডেটঃ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৬

এস,এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি:  জেলার ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে দিন দিন বেড়েই চলছে বাল্য বিয়ে। কিশোর ও কিশোরীরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিকভাবে তৈরি হওয়ার আগেই তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বিয়ে নামের এক বিরাট দায়িত্বের বোঝা।

প্রকৃতপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ বিয়ে হয়ে থাকে অল্প বয়সে। ১৯২৯ সালে বাল্য বিয়ের আইন পাশ হয়েছে এই আইনের ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ও ২১ বছরের কম বয়সী ছেলেদের বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এই বয়সে কেউ বিয়ে করলে এজন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। আইনেক বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলছে বাল্যবিয়ের প্রবনতা। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে বাল্য বিবাহ।

হাটি হাটি পা পা করে প্রাথমিক শিক্ষাস্তর অতিক্রম করে মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পরে ঝড়ে পড়ছে অনেকেই। যেমন ইউপি মেম্বার ও বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালীদের সমর্থনে ও কাজে সহযোগী থাকার কারণে অধিকাংশ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনগুলি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করার পরও বাল্য বিয়ে বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি নীতিমালা না মেনেই মেয়ের বয়স ১৩ থেকে ১৪ এবং ছেলেদের ১৬ থেকে ১৭ হলেই তাদের বিয়ে দিচ্ছেন পরিবারের অভিভাবকরা।

এসএসসি পরিক্ষার পূর্বেই ভর্তিকৃত ছাত্রীদের ৫০ শতাংশ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। বেশির ভাগই ভূয়া নিবন্ধন কার্ড তৈরি করে এগুলির বিবাহ হচ্ছে। কাজীরা বিবাহর কাবিন নামা রেজিষ্ট্রারী করতে গেলে তারাও সনদপত্র ঠিক না থাকার কারণে ডাবল টাকার বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্য বিয়ের কারণেই যৌতুক, নারী নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের জেরধরে বেশি বেশি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে ।

অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহ হওয়ায় মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স হওয়ার আগেই তাদের রূপ লাবন্য শেষ হওয়ায় স্বামীদের চক্ষুসুল হয়। ফলে তাদের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। কেহ কেহ মুখ বুজে সয্য করে তাদের বাকী জীবন কাটিয়ে দেয়। আবার কেহ তিষার মতো অভিমান করে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। অনেকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এমন অসংখ্য ঘটনা বর্তমানে কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। সচেতনদের মতে গনসচেতনতা ও যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ রোধ করা সম্ভব।