বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ঝিনাইদহে আনসার ভিডিপি অফিসে থামছেইনা ঘুষবানিজ্য ও দুর্নীতি !

আপডেটঃ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ জেলা আনসার কমান্ডার আসানউল্লার নামে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের নামে ঘুষ গ্রহণ, ঘুসের মাধ্যমে কম উচ্চতা সম্পন্ন লোক নির্বাচন, আনসারদের সাথে যখন তখন খারাপ ব্যবহার এমনকি আনসার সদস্যদের শারীরিক ভাবে মারধর ও প্রশক্ষণার্থীদের নিন্মমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে।
সুত্রে জানা গেছে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের নামে গত ১৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের যাচাই বাছাই কোন নিয়ন নিতির তোয়াক্কা না করে প্রতিটি আনসার সদস্যদের নিকট থেকে ৬০০০ টাকা থেকে ১৫০০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
৬ উপজেলা থেকে ১০ জন করে লোক নেওয়ার কথা থাকলেও সে নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে টাকা বিনিময়ে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির থেকে কম উচ্চতা সম্পন্ন ব্যাক্তিকে নেওয়া হয়েছে। মেসে নিন্মমানের খাবার দিয়ে তার থেকে বাঁচিয়ে বাজারে বিক্রয় করে থাকে। ইহা ছাড়া কয়েক মাস আগে আলিম নামে এক ব্যাটিলিয়ান আনসার সদস্যকে মারধর করে।
যার কারনে আলিম আনসারের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। তাছাড়া প্রায়ই তার সহকর্মীদের উপর চড়াও হয়ে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন বলে তার সহকর্মীদের নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুর্গাপুজার জন্য আনসার নিয়োগে প্রত্যেকের নিকট থেকে ইউনিয়ন কমান্ডারের মাধ্যমে ২০০ টাকা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এত কিছুর পরেও চাকুরীর চলে যাবার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
তাছাড়া মাগুরা জেলায় আসানউল্লা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার থাকাকালিন মাগুরার শালিখা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আনসার সদস্য নিয়োগের বিনিময়ে ষুষ না পেয়ে উপজেলা আনসার কমান্ডার মমতাজ বেগমকে ব্যাপক মারপিট করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
মাগুরার ঘটনায় জানাগেছে, গত ৭ মে ২০১৬ মাগুরার শালিখা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডিউটির জন্য ১ হাজার ৫’শ ৫৬ আনসার সদস্যদের বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জন প্রতি ২শ’টাকা করে আড়াই লাখ টাকা ষুষ আদায় করে দেবার জন্য উপজেলা কমান্ডার মমতাজ খাতুনকে নির্দেশনা দেন জেলার ভারপ্রাপ্ত আনসার কমান্ডার আহসান উল্লাহ। যা আদায়ে ব্যর্থ হন মমতাজ।
এ নাজুক অবস্থায় গত ১ লা মে ২০১৫ তারিখে শনিবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে আসানউল্লাহ পায়ে থাকা বুট জুতা দিয়ে মমতাজ খাতুনকে একের পর এক লাথি মেরে মারাত্মক আহত করে। এ সময় মমতাজ বেগম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সরকারের উপর মহলে ভাল সম্পর্ক থাকার কারনে এই অফিসারের কোন শাস্তি না দিয়ে পদ উন্নতি হয়েছে এবং মমতাজকেই উল্টা শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। তারপরেও থেমে নেই তার দুর্নীতি-সে হয়ে উঠেছে আরও বেপরোয়া।
তার এই দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে ঝিনাইদহ জেলা আনসার কমান্ডার আসানউল্লার কার্যালয়ে গেলে তিনি দেখা করতে রাজি হয়নি। তখন মোবাইলে তার সাথে কথা বলে প্রশিক্ষণের কাগজাদি দেখতে চাইলে তিনি প্রশিক্ষণের কাগজাদি দেখাতে অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারনে প্রশিক্ষণের কাগজপত্র দেখাতে সাংবাদিকের প্রবেশ নিষেধ আছে। প্রয়োজনে সমাপনী প্রশিক্ষণের সবাইকে জানান হবে।
তবে ৬ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার এবং নিন্মমানের খাবার দেওয়ার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন সে জবাব আমি আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিব কোন সাংবাদিককে না।