শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বিশ্ব বাজারে কাঁকড়া রপ্তানি হুমকির মুখে! রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আপডেটঃ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৩, ২০১৬

চ্যানেল সেভেন বিডিঃ দেশে ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু হয় কাঁকরা রপ্তানি । ধীরে ধীরে এর প্রসার বেড়ে সমাদৃত পায় বিশ্ব বাজারে । তবে গত কিছুদিন ধরে নিদৃষ্টহীন ঘোলাটে নীতিমালার কারনে ব্যহত হচ্ছে রপ্তানি । হুমকির মুখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এই সন্তাবনাময় খাত ।
দেশে কাঁকড়া রপ্তানির নীতিমালা ১৯৯৮ রয়েছে । এই নীতিমালায় ২০০ গ্রামের পুরুষ এবং ১৩০গ্রামের কম ওজনের জীবন্ত স্ত্রী কাঁকড়া রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । কিন্তু ভার্জিন কাঁকড়ার বিষয় তাতে উল্লেখ করা হয়নি । উল্লেখ নেই হিমায়িত কাঁকড়া বিষয়টি । সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিশেষ প্রক্রিয়ায় হিমায়িত (লোদা) বানিয়ে রপ্তানি করে যাচ্ছে । রপ্তানিকারক গনের দাবি এক শ্রেনীর অসাধু বিপথ গ্যামী ও বিপরীত মুখি ব্যবসায়ীর এই খাত ধংশের কুচক্রী ফন্দি ও কাস্টমস কর্মকর্তাগণের ভুল বুঝার কাড়নই এই সমস্যার মুল কারন । এ ছাড়া মাঠা পর্যায় থেকে কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাত হয়ে রপ্তানি উদ্দেশ্য বিমানবন্দরে আসা পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে কমে যাচ্ছে জীবন্ত কাঁকড়ার ওজনও । খামার থেকে শরীরের পানিসহ কাঁকড়া ধরে নীতিমালা অনুযায়ী ওজন পিমাপ করে রপ্তানীর উদ্দেশ্যে প্রেন করলেও শারীরে বহনকৃত পানি শুকিয়ে এবং জল-বিয়োগের কারনে নির্দিষ্ট ওজনের চাইতে কমে যাচ্ছে । ফলে নীতিমালার ফাঁক-ফোকর ও ওজন কমের বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা না করায় বিমানবন্দরে আটকে যাচ্ছে কাঁকড়া রপ্তানীর চালান । গত ২২ও২৯শে সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩ টন করে অন্তত ৬ টন কাঁকড়া চীনগামী দুটি চালান আটকে দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ । এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশীয় রপ্তানীকারকরা । গত কয়েকদিন চীনের বিভিন্ন আমদানিকারক বাংলাদেশের অন্তত ১৪টি অর্ডার বাতিল করেছে । অথচ চিনেই সব চেয়ে চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশের কাঁকড়া ও কুচিয়ার । চলমান এসব ঘোলাটে কারণে রপ্তানির চালান বাতিল হলে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহওর এশিয়ার দেশগুলো থেকে প্রধান কাঁকড়া আমদানিকারক দেশ চীনের বাজার হারাবে বাংলাদেশ । বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা ও রাজস্ব হারাবে দেশ । এমনই আশস্কা দেশীয় রপ্তানিকারকদের । তাই দেড় যুগ আগে প্রণীত নীতিমালাকে যুগোপযোগী করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছেন কাঁকড়া রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ লাইড অ্যান্ড চিল্ড ফুড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ।
সংগঠনটির মহাসচিব গাজী আবুল কাশেম জানান, কাঁকড়া রপ্তানির নীতিমালাগত ও বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য এরই মধ্য বন মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে । জানানো হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকেও । গত মাসের শেষ দিকে দুটি রপ্তানি চালান বাতিল হওয়ার পর চীনের বিভিন্ন এলাকার একাধিক আমদানিকারক এরই মধ্য বাংলাদেশে ১৪টি অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে । সেই অর্ডার চলে গেছে অন্য মুখে সরকার হারিয়েছে বৈদেশিক মূদ্রা । কাঁকড়ার চালান বিদেশে যেতে না দিলে দেশের বাজারে না চলায় তা নষ্টই হয়ে যায় । দেশের অপ্রচলিত পণ্যের এই শিল্পটি বাঁচাতে সরকার অচিরেই বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।
এ বিষয় ঢাকা বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড কন্ট্রোল ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, কাঁকড়া রপ্তানি নীতিমালায় কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে । তা যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে । হিমায়িত কাকাড়ার ওজন ও ভার্জিন কাঁকড়া নিয়ে এতে কিছু উল্লেখ নেই । ফলে মাঠ পর্যায় দেখা গেছে কম ওজনে হিমায়িত কাঁকড়া আটকে দেয়া হচ্ছে । অল্প কিছু ওজনের কাঁকড়ার জন্য দুইটি চালান আটকে দেয়ার বিষয়টিও আমি জানি ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের জেলাগুলোর লবণাক্ত নদী খাল বিল ঘের ও সমুদ্রে প্রাকৃতিক ভাবে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়ার উংপাদন ও প্রজনন হয় । মাছের ঘেরেও প্রকৃতিক ভাবে উৎপাদন হয় কাঁকড়া । বাঘেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, খুলনা, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, ভোলা, বরিশাল, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় তা উৎপাদন হয় । FAO এর জ্যৈষ্ঠ বিশেষজ্ঞ Colin Shelly তার লেখা Scoping study for MUD Crab firming in Bangladesh Part-II তে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে কাঁকড়ার চূড়ান্ত প্রজনন সময়কাল হচ্ছে জুন ও জুলাই মাস এবং আমাদের দেশের কাঁকড়ার বিশেষজ্ঞ ফয়সাল মাহমুদ জোয়ারদার তার Crab Natural Breeding Technology west coast of Bangladesh নামক রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে কাঁকড়ার চূড়ান্ত প্রজনন কাল মে ও জুন মাস । অথচ সরকাল কাঁকড়া রপ্তানী নীতিমালা ১৯৯৮ইং এ কাঁকড়ার প্রজনন সময় জানুয়ারী-ফ্রেব্রুয়ারী মাসকে নিদ্দিষ্ট করে বলা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী বন বিভাগ জানুয়ারী ও ফ্রেব্রুয়ারী মাসে প্রকৃতি থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে । যাহা মোটেও বাস্তব স্বমত নয় এবং দেশের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের পথে একটি বড় বাঁধা ।
এ সব বিষয়ে ব্যাবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে । দেশে প্রায় ১০-১২ লাক্ষ দারিদ্র জনগুষ্টির কর্মস্থানের একটি উপায় হয়ে পরেছে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া । দারিদ্র জনগুষ্টির বেশীরভাগ মহিলা এই পেশায় সাথে জড়িত । কিন্তু আমাদের দেশে এই কাঁকড়া গুলোর ব্যবহার তথা বাজার একেবারেই নেই যে কারনে রপ্তানী অপরিহার্য । আর রপ্তানিতে বিভিন্ন সমস্যার কারনে ও প্রায় অপ্রচলিত পণ্য হওয়ার কারনে বর্তমানে উৎপাদিত কাঁকড়ার অধিকাংশ সংগ্রহও হয় না । চীনাদের খাবারে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে আমাদের দেশের কাঁকড়া । তাই এই খাতে সরকারের সুদৃষ্টি পেলে সমস্যা দূর করে রপ্তানী অব্যাহত রেখে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ আরও সুদৃঢ করবে ।