মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

খোকসায় মাঠদিবসে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ব্রি-৭২ জাতের চালের ভাত খেলে অনেকাংশে বিশেষ পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে!

আপডেটঃ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৫, ২০১৬

এস এম জামাল,কৃষি প্রতিবেদক: কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় ব্রি-ধান ৭২ এর কর্তন উপলক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতি স্বল্প সময়ে এই ধানের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিশেষ উপাদান জিঙ্ক সমৃদ্ধ হওয়ায় ব্রি-৭২ জাতের ধান উৎপাদনে এই এলাকার কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি-৭২ জাতের এই ধান হারভেস্ট প্লাসের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কার্যালয় কুষ্টিয়া এর মাধ্যমে জেলার কৃষকরা এই ধানের চাষ করছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় খোকসা উপজেলার বরইচারা গ্রামের সফল চাষী খলিলুর রহমানের বাড়ীতে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারন পরিচর্যা) শাহজাহান কবির।

এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফসলের বহুমুখীকরণ কর্মসূচীর মাধ্যমে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণালব্ধ ব্রি-৭২ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। এই ধানের উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বল্প সময়ের বিশেষ খাদ্য উপাদান সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ তিনবেলা ভাত খায়। ব্রি-৭২ জাতের চালের ভাত খেলে অনেকাংশে বিশেষ পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ ড, হায়াৎ মাহমুদ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান দেওয়ান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হান্নান আলী ও হারভেষ্ট প্লাস বাংলাদেশের এআরডিও সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

kkবক্তারা বলেন, ব্রি ধান-৭২ এর জীবনকাল ১২৫ থেকে ১৩০ দিন। প্রতিকেজি চালে ৮ দশমিক ৯ ভাগ প্রোটিন এবং ২২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন সাড়ে ৬ টনের বেশি। অনুর্বর জমিতেও ভালো ফলন দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ব্রি ধান-৭২ আবাদ করা যাবে। জীবনকাল কম থাকায় কৃষক অনায়াসে এই ধান চাষাবাদ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে। ব্রি ধান-৭২ অন্য ধান গাছের তুলনায় লম্বা হওয়ায় তুলনামূলক নিচু জমিতে আবাদ করা যাবে। এই ধানে জিঙ্ক নামের খাদ্যের এক বিশেষ পুষ্টি রয়েছে। যার কারণে নারী এবং শিশুদের জন্য বিশেষ ভিটামিনের অভাব দূর করে তাদের শরীর গঠনে বিশেষ সহযোগিতা করবে বলে জানান বক্তারা।

এসময় ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।