মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

উত্তরার আজমপুরে মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোটি কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগে মোতাওয়ালী হাজী নাসির উদ্দিন সরকারকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ওয়াক্কফ প্রশাসক

আপডেটঃ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৫, ২০১৬

এস,এম মনির হোসেন জীবন :চ্যানেল সেভেন বিডি: রাজধানীর অভিজাত উত্তরা মডেল টাউনের আজমপুর জামে মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোটি কোটি টাকা লুটপাট, সীমাহীন দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, ব্যাপক অনিয়ম,ক্ষমতার অপব্যবহার, শুক্রবারের মসজিদের দানবাক্রের টাকা লুটপাট, সিন্দুকের দুই বার টাকা চুরি, রশিদ বহি ছাড়া টাকা উঠানো এবং লাখ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগে অবশেষে সেই দুর্নীতিবাজ মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ওয়াক্কফ প্রশাসক কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় ৪,নিউ ইস্কাটন রোড,ঢাকা-১০০০ অফিস গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ইং তারিখে (ক) এস্টেটটির সুষ্ট ব্যস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে বর্তমান মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারকে ওয়াক্কফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ এর ৩২ (১) ধারা মতে তাকে উক্ত পদ থেকে অপসারণ করেন। ওয়াক্কফ প্রশাসন, বাংলাদেশ এর অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়া,সহকারী প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও উপ-সচিব মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্বারক নম্বর শুনানী শাখা (৩) ৩০৮ (১) মতে মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারকে অপসারণ করা হয়েছে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে,বর্তমান মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার ওয়াক্কফ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা গ্রহন করেন। মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার আজমপুর সরকার পরিবার কল্যাণ সমবায় সদস্য ও স্থানীয় মসজিদের দানশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে নিজেই সীমাহীন দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, নগদ টাকা আতœসাৎ সহ একাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করতেন। কেবল মাত্র তার একক নেতৃত্বেই চলতো মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানার সব কিছু। মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার এবিষয়ে কাউকে কোন ধরনের তোয়াক্কা কিংবা কর্ণপাত করতেন না। মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানার টাকাই যেন তার একমাত্র আয়ের উৎস এবং হাতিয়ার। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে উক্ত মোতাওয়ালী তার ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে ব্যক্তি স্বার্থে নানা ধরনের অপকর্মের মাধ্যমে সরকার পরিবারের আস্থা হারান।Displaying 01, pictur- haji nasir uddin sarker- uttara.jpg

তথ্য অনুসন্ধ্যানে ও বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার মসজিদের রিসিপ্ট বহি ছাড়া প্রায় ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করতেন। এই টাকা নথিভুক্ত হয়নি। এছাড়া মোতাওয়ালী নিজে মেজর আনিছ এর কাছ থেকে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৫ টাকা, ওযু খানার নামে দেড় লাখ টাকা, ওয়াককফ এস্টেটের ফি বাবদ গত ১ অক্টোবর ২০০৯ সাল থেকে ৩১ জুন ২০১৪ সাল পর্যন্ত আজমপুর মসজিদের চাঁদা হয় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২০ টাকা। এছাড়া আজমপুর মাদ্রাসার জন্য ১৬ আগষ্ট ২০০৩ হতে ৩০ জুন ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওয়াক্কফ ফি বাবদ আরো ৬ লাখ ৩৭ হাজার ২ টাকা। এনিয়ে সর্বমোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ১২ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৪ টাকার কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। ব্যাংক থেকে তোলা ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৮৯০ টাকার ও কোন হিসেব নেই। মাদ্রাসার সদস্যদের জন্য একটি প্রজেক্ট খুলেন মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার। এ প্রজেক্টটি ব্যাংক জমার টাকার কোন হিসেব নেই তার কাছে। অপর দিকে মসজিদ ও মাদ্রাসায় মোতাওয়ালী ও সভাপতির ২টি পদই দখল করে ছিল মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার। মসজিদ ও মাদ্রাসার বেনিফিশিয়ারীদের নিষ্কিয় রেখে নিজেই ক্যাশ হ্যান্ডিলিং করেন মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার। যার কারণে টাকা পয়সা আয় ব্যয়ের কোন ব্যালেন্স থাকেনা।
একটি বিশ্বস্থ তথ্য সুত্রে জানা যায়,আবুল কাসেম ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯৯৭-থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৬৫ টাকা উত্তোলন করেন। গত ৩০ জুন ২০১৪ সালে ক্যাশ বহি অনুযায়ী ১০ লাখ ৭৩ হাজার ২২৯ টাকা হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমান টাকা নগদ হাতে থাকা নিয়ে মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারের সাথে আবুল কামেস এর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। ২০১২-২০১৩ ও ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে মোট ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ঝৃণ গ্রহনের সমর্থনে কমিটির নেতৃবৃন্দদের কোন সিদ্বান্ত নেই। এই মর্মে উত্তরা আজমপুর জামে মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানা রক্ষার জন্য মো: সুমন খান, মো: এখলাস উদ্দিন সরকার, এম,আর এ মজুমদার ও মো: সামছুল হক সরকার গংরা উত্তরা আজমপুর জামে মসজিদ ও উত্তরা আজমপুর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার মোতাওয়ালী প্রতিপক্ষ হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি,জাল-জালিয়াতি, লাখ লাখ টাকা আতœসাৎ,স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে ধর্মমন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরে গত ২৬ নভেম্বর ২০১৪ সালে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। প্রতিপক্ষ হলেন মো: নাসির উদ্দিন সরকার। (মোতাওয়ালী) পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন সরকার। বাসা ১এ/১, রোড ২১ সেক্টর ৪ উত্তরা পূর্ব থানা,উত্তরা মডেল টাউন, জেলা-ঢাকা।
লিখিত অভিযোগে ও বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, উত্তরা আজমপুর জামে মসজিদ ও উত্তরা আজমপুর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার এর বিরুদ্বে উক্ত দু’টি প্রতিষ্টান থেকে কোটি কোটি টাকা অর্থ বিভিন্ন ভাবে আতœসাৎ করার অভিযোগ এনে জৈনক ব্যক্তি মো: সুমন খান একটি লিখিত আবেদন করেন। সেই সাথে মোতাওয়ালীকে অপসারণ করার নিমিত্তে একটি লিখিত অভিযোগ ও করেন তিনি।
এছাড়া মো: এখলাস উদ্দিন সরকার নামে আরো এক ব্যক্তি (আবেদনকারী) অভিযোগ করেন যে, গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৪ ইং তারিখে ডায়েরীভুক্ত দাখিলকৃত আবেদনের উল্লেখ করেন যে, মোতাওয়ালী হাজী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরকার এস্টেটস্থ মসজিদ মাদ্রাসা ও ঈদগাঁ এর বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাৎ করেন। মোতাওয়ালী হাজী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরকার মসজিদের নির্মাণ কাজে কমিটিকে তোয়াক্কা না করে রশিদ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা আদায় করেন। পাশাপাশি নিজের ইচছামত মসজিদের নামে মালামাল ক্রয় ও মসজিদের পুরানো ফ্যান সহ অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে দিয়ে ক্যশিয়ারের কাছ থেকে দান বাক্রের চাবি সংগ্রহ করে টাকা আতœসাৎ করেন। পরবর্তীতে রশিদের সিরিয়াল নম্বরের ব্যাপক গড়মিল করা হয়েছে বলে প্রমান পাওয়া যায়। এভাবে মসজিদের মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্বে মসজিদ ও মাদ্রাসার লাখ লাখ টাকা আতœসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অপর দিকে, মো: সামছুল হক সরকার নামে আরো ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, আজমপুর সরকার পরিবারের মরহুম জাহা-বকস সরকার বিগত ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪ সালে ১৬.০৫ শতাংশ সম্পত্তি ওয়াকফ লিল্লাহ করেন। বর্তমান মোতাওয়ালী হাজী নাসির উদ্দিন সরকার ওয়াকফ দাতার কোন উত্তরাধিকারী না হওয়া সত্বে ও ওয়াকফ এস্টেটের কণ্যালের কথা বিবেচনা করে সরকার পরিবার কল্যাণ সমিতি গত ১৯ আগষ্ট ১৯৯৭ সালে সভার সিদ্বান্ত মোতাবেক হাজী নাসির উদ্দিন সরকারকে মোতাওয়ালীর নিয়োগের প্রস্তাব করেন এবং পরবর্তীতে উক্ত প্রস্তাবটি গৃহীন হয়। গত ৪ মে ২০১৫ ইং তারিখে মো: সামছুল হক সরকার এই অভিযোগটি দাখিল করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে জানা যায়, উত্তরা আজমপুর জামে মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উত্তরা পীচ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩টি ফ্লোর দেওয়ার কথা বলে ২৪ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্টান সহ ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের নিকট থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছে বলে ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এবিষয়ে জানতে মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সে সাংবাদিক পরিচয় জেনে কোন ধরনের তথ্য না দিয়ে নিজের ফোনের লাইন কেটে দিয়ে তার মোবাইল টি বন্ধ করে দেন।
আজমপুর সরকার পরিবার কল্যাণ সমিতির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, সরকার পরিবার কল্যাণ সমিতি থেকে বহি:স্কৃত আজমপুর জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোটি কোটি টাকা আতœসাৎ, নানাবিধ অপকর্ম,জাল-জালিয়াতি,ব্যাপক দুর্নীতি করার অপরাধে উক্ত দু’টি প্রতিষ্টানের মোতাওয়ালী হাজী মো: নাসির উদ্দিন সরকারকে গত সোমবার অপসারণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক ( আইজিপি) এ,কে এম শহীদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক ( ডিজি) বেনজীর আহমেদ, দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) চেয়ারম্যান সহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।