রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কি হচ্ছে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ? ব্যাপক ভোগান্তিতে রুগীরা ! দেখার কি কেউ নেই ?

আপডেটঃ ১:১২ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৬, ২০১৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ফলে ঠিকমত সেবা দিতে পারছে না চিকিৎসকরা। বিভিন্ন কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্বে বাইরে থেকে ঔষধ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। ফলে সঠিক সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন রুগীরা। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে ১০০ শয্যার জনবল নিয়ে।

এদিকে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে প্রতিদিনই লেগে থাকে ইজি বাইকের দীর্ঘ লাইন। কখনও কখনও পরিস্থিতি এমন হয়ে দাড়ায় রুগীও প্রবেশ করতে পারে না হাসপাতালে। শুধু রুগী নয়, এ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিস কোন গাড়িই ঠিকমত হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনা।

ঝিনাইদহ জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য ১৯৬৮ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। হাসপাতালটি এখন শয্যা, জনবল, চিকিৎসক সংকট সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জোরিত।

বর্তমানে এটি চলছে ১০০ শয্যা দিয়ে, যদিও ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নিত করণের ঘোষণা দেন। এরপর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কার্যক্রম। কবে শুরু হবে তাও বলতে পারেন না কেউ।

বহি:র্বিভাগের ডাক্তারদের সিরিয়ালের জন্য টিকিট কাউন্টারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইনবহি:র্বিভাগের ডাক্তারদের সিরিয়ালের জন্য টিকিট কাউন্টারের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইনপ্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। বহি:বিভাগ, জরূরী বিভাগ ও ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে রুগীরা। কিন্তু মিলছে না কাঙ্খিত সেবা।

বহি:বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য সিরিয়াল করতে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় রুগীদের।এখানেই শেষ নয় ভোগান্তি। বহি:বিভাগে বিপুল সংখ্যক রুগীকে গাদাগাদি করে দেখাতে হয় ডাক্তার। বেড না পাওয়ায় ভর্তি রুগীদের স্থান হচ্ছে মেঝেতে।

ডাক্তাররা সরকারী ঔষধ না লিখে বাইরে থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ লেখেন বলে অভিযোগ রুগীদের। রুগীদের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের দু:ব্যবহার তো রয়েছেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ ঘন্টা চলার পর আর চলেনা একমাত্র জেনারেটর। এসময় থেমে থাকে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্থলে আছে ১১ জন, ১৭ জন মেডিকেল অফিসারের স্থলে আছে ১০ জন। হৃদরোগ ও মেডিসিনে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্থলে আছে মাত্র ১জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

প্রতিটি বিভাগে ১ জন করে নার্স দায়িত্ব¡ পালন করছেন।হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রুগীরা অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তাররা ঠিকমত রুগী দেখেন না। নার্সদের কাছে কোন প্রয়োজনের গেলে তারা খুব খারাপ ব্যবহার করে।

ডাক্তাররা হাসপাতালে অপারেশন না করে আমাদের পাঠিয়ে দিচ্ছে বাইরের ক্লিনিকে। পরে হাসপাতালের ডাক্তাররাই সেখানে গিয়ে আবার অপারেশন করছেন। সিট না পাওয়ায় আমাদের স্থান হচ্ছে মেঝেতে, ফলে রুগী সুস্থতার বদলে অস্বুস্থ হয়ে পড়ছে।

রুগীরা আরো জানান, সরকারী হাসপাতালে ফ্রি ঔষধ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ডাক্তারই যে ঔষধ লেখেন তা আমাদের বাইরে থেকে কিনে খেতে হয়। সদর হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান খোকা জানান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রিফ্রিজেন্টেটিভদের দৌরাত্ব মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে।

এই দৌরাত্ব এখনই থামানো না গেলে ভবিষ্যতে দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মোকাররম হোসেন জানান, চিকিৎসক কম থাকায় আমরা ঠিকমত সেবা দিতে পারি না। কেননা যে পরিমান চিকিৎসক আমাদের দরকার সেই পরিমাণ চিকিৎসক নেই।

ফলে একজন চিকিৎসকের দারা তো ভাল করে এ্যাতো রুগীর সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ব্যাপক সমস্যার কথা স্বীকার করে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম জানান, হাসপাতালে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যা গুলো একদিনে তো সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যা গুলো আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।

২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার রুগী ভর্তি হয়ে এবং বহি:বিভাগ ও জরুরী বিভাগ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ রুগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। প্রতিদিন ২ শতাধীক রুগী ভর্তি হয়ে এবং জরুরী ও বহি:বিভাগের মাধ্যমে অন্তত ১৩ থেকে ১৪ শ’ রুগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

তবে অচিরেই সকল সমস্যা মুক্ত হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল আবারো মানুষের সেবার ক্ষেত্রে সব থেকে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এমনটিই প্রত্যাশা ঝিনাইদহ জেলাবাসীর।