সোমবার ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন দিলে প্রতিরোধ : মিডিয়া ইউনিটি

আপডেটঃ ২:৪৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৬, ২০১৬

রাজীব হাসান,চ্যানেল সেভেন বিডি: বিদেশি কোনো চ্যানেলে দেশের বাজারের জন্য দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সেটি সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করা হবে। বাংলাদেশের প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর স্বার্থরক্ষার জন্য নবগঠিত সংগঠন ‘মিডিয়া ইউনিটি’ এই ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা চলতি মাস (নভেম্বর) থেকেই কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শনিবার এ সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। ‘মিডিয়া ইউনিটি’ দেশীয় চ্যানেলগুলোর মালিক, কর্মকর্তা, নির্মাতা, কলাকুশলী, লেখক, অভিনেতা, বিজ্ঞাপনদাতাদের সমন্বয়ে গঠিত।

যারা দেশের বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলে নিয়ে যাওয়ার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তাদের ‘সাংস্কৃতিক রাজাকার’বলে অভিহিত করেন দেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজুর রহমান।

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি আজকে এখানে সবার পক্ষ থেকে বলতে চাই, যারা দেশের বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলে নিয়ে যাওয়ার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, তারা সাংস্কৃতিক রাজাকার। তাদেরকে নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিলাম, নভেম্বরের পর থেকে তারা যেন কোনো বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলে না দেয়। যদি তারা এরপরও তা না মানেন তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করব। উনাদেরকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজাকার বলে পরিচিত করে তুলব। আমরা আজ এতদূর যেতাম না যদি তাদের মাতৃভূমির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকত। আমি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে আধা ঘণ্টার অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে রাজি আছি। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞাপনদাতারা কি এত রেটে বিজ্ঞাপন দিতে প্রস্তুত? ভারতীয় চ্যানেলে দেড় লাখ টাকার নিচে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় না। আর আমাদের চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের রেট ৩০ হাজার টাকা থেকে নেমে ৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ হবে কীভাবে? মিডিয়ার একাধিক প্লাটফর্ম থেকে আন্দোলন না করে এখন থেকে মিডিয়ার সবাই মিডিয়া ইউনিটের ব্যানারে দাবি আদায়ের আন্দোলন করবে।’

অনুষ্ঠানে একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবুকে আহ্বায়ক ও দেশ টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমানকে সদস্য সচিব করে একটি অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, “সাংবাদিক, ক্যামেরাপারসন, অভিনয়শিল্পী, নাট্যকর্মী, অনুষ্ঠান নির্মাতা, নাট্যনির্মাতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, প্রযোজক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারী, ব্রডকাস্টার- সবাই মিলে আজ ‘মিডিয়া ইউনিটি’ নামে নতুন একটি সংগঠনের ঘোষণা দিচ্ছি। এ সংগঠন বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়ার সকলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনে আন্দোলনের ঘোষণা দেবে। পৃথিবীর সব পে-চ্যানেল ল্যান্ডিং ফি দিয়ে বিজ্ঞাপন শূন্যভাবে প্রচার করে। অথচ আমাদের দেশে আইনের ফাঁক দিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিজ্ঞাপনের নামে বাংলাদেশের টাকা অবৈধভাবে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছে।’

দেশ টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান বলেন, ‘বিজ্ঞাপনদাতাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। সুযোগ পেলে সবাই সৎ ব্যবহার করতেই চাইবে। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে আমরা এমন কোনো কাজ করতে পারি না, যা আমাদের সংস্কৃতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকারক হবে।’

সময় টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ যুবায়ের বলেন, ‘২০১৪ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ডাউনলোড চ্যানেলগুলোর জন্য একটি ফি নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় নিয়মটি আর কার্যকর হয়নি। এমনি আগে দেশীয় কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিদেশি কোম্পানির বিজ্ঞাপনের দর ছিল দেড়গুণ। এখন সেটিও সমান করে ফেলা হয়েছে।’

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘একুশে টিভি প্রথমবার বন্ধ হলে প্রায় ৬০০ স্টাফ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫০ হাজার কর্মজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।’

টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়ত আজকের অনুষ্ঠানে যারা নিউজ কাভারেজ করছেন তাদের আবার বিয়ে বাড়ির ভিডিও করতে হবে।’

গান বাংলা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৌশিক হাসান তাপস বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে সমন্বয় থাকলে দাবি আদায় কোনো ব্যাপার নয়। আর প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝাতে পারলে অবশ্যই তিনি সেটা বুঝবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ১৫ মিনিট দেশের সব চ্যানেলের ট্রান্সমিশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন।’

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশনের (ইমা) সভাপতি রঞ্জন দত্ত বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরাই সর্বপ্রথম ইস্যুটি সবার সামনে নিয়ে আসি। সংকুচিত বাজারের কথা চিন্তু করে বিষয়টির সঙ্গে আমরা তখন টেলিভিশন মালিকদের সম্পৃক্ত হবার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তখন তারা সাড়া দেননি। গত এক বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলে গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ না নিতে পারলে বাজার অর্ধেক হয়ে যাবে।’

প্রডিউসারদের পক্ষে মনোয়ার হোসেন পাঠান বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন চ্যানেল ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়ালের সম্প্রচার বাড়ছে। ফলে দেশীয় শিল্পী এবং কলাকুশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

 

ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত বলেন, ‘আমি এবং এস এ অলিক উত্তরার প্রডাকশন হাউজগুলোতে খবর নিয়ে দেখেছি ৭০ ভাগ শুটিং হাউজেই কোনো কাজ নেই। আমরা ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আটটি সংগঠন নিয়ে একটি ফেডারেল বডির মাধ্যমে দেশীয় চ্যানেলগুলোতে ডাবিংকৃত বিদেশি সিরিয়াল বন্ধের জন্য কাজ করব।’

 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এশিয়ান টেলিভিশন এবং এশিয়ান রেডিওর চেয়ারম্যান আলহাজ হারুন-উর-রশিদ, অভিনয়শিল্পী সংঘের আহসান হাবিব নাসিম, বিজয় টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওফেল আহমেদ, অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম, শোয়েব, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, নাট্যকার মাসুম রেজা প্রমুখ।