রবিবার ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন

আপডেটঃ ৪:২১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৮, ২০১৬

hhhiiiii

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:চ্যানেল সেভেন বিডি:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নির্বাচনের অগ্রিম ভোট ও শীর্ষ স্থানীয় জনমত জরিপগুলোর দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে হিলারি জয়ের সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ। রিয়াল ক্লিয়ার পলিটিক্স-এর জরিপ গবেষণা অনুসারে হিলারির ডেমোক্র্যাটরা পাচ্ছেন ৪৭.৬ ভাগ ভোট আর ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা পাচ্ছেন ৪৪.০৩ শতাংশ ভোট। ইলেকট্ররাল কলেজের ভোট হিলারি পাচ্ছেন ২০৩টি আর ট্রাম্প পাচ্ছেন ১৬৪টি। নির্বাচনে বিজয়ী হতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকট্ররাল কলেজের ভোট পেতে হয় ।

হিলারির এই জয় নিশ্চিতের পেছনে কারিগর হিসেবে যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করলেন তিনি আর কেউ নন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃঞ্চাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর তিনি এটা করেছেন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির রেওয়াজ ভঙ্গ করেই। একাজে হাত লাগিয়েছেন তার স্ত্রী মিশেল ওবামা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নির্বাচনে জয় পরাজয় নিশ্চিত হয় এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে গেল তিন দিন চষে বেড়িয়েছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনেও যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে বাঁচাতে মিশিগানও পেনসেলভিনিয়ায় হিলারির পক্ষে র‌্যালিতে আবেগঘন বক্তব্য দেন ওবামা। তিনি বলেন, ট্রাম্প চারিত্রিকভাবেই অনুপুযুক্ত। আমরা হিলারিকে ভোট দিয়ে দেখিয়ে বিশ্বকে দেখাবো আমেরিকা একটি মহান জাতি। আর আমরাই পারি। তিনি ভোটারদের আন্দোলিত করতে গিয়ে বলেন, হিলারি হচ্ছেন আমার প্রেসিডেন্সির প্রাকৃতিক ধারাবাহিকতা। ওবামার এই নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম একটি কৌশল ছিল যারা হিলারি কে ভোট দিতে চান তারা নির্বাচনের আগেই ভোট প্রয়োগ করেন। ওবামার এই প্রচারণায় ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে বিশেষ করে কালো ও ল্যাটিনো ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে।

ওয়াশিংটন টাইমসের তথ্যানুসারে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৪১ মিলিয়ন আমেরিকান ইতোমধ্যেই ভোট দিয়েছেন। এসংখ্যা ২০১২ সালের রেকর্ড অত্রিক্রম করবে বলে ধারণা এ গণমাধ্যমটির। ২০১২ সালে ৪৬ মিলিয়ন লোক ভোটের দিনের আগেই তাদের ভোট দিয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ অঙ্গরাজ্যে এ আর্লি ভোটের ব্যবস্থা রয়েছে। এ আর্লি ভোটের ক্ষেত্রে হিসপানিক ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য করার মতো। যার ৮০ শতাংশ ভোটই পাচ্ছেন হিলারি। টেক্সাসে ৪০ লাখ লোক ইতোমধ্যেই ভোট প্রদান করেছেন। যা ছিল এ যাবত সর্বাধিক আর্লি ভোটের ঘটনা। নির্বাচনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন রাজ্য ফ্লোরিডায়ও রেকর্ড ভঙ্গ করেছে । ২০১২ সালে যেখানে পয়েন্ট ১২৯৯৩ ল্যাটিনো আর্লি ভোট দিয়েছেন এবারে দেখা গেছে এসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৯ ।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে রিপাবলিকান পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেনসেলভিনয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিশিগানে ব্যস্ত থাকলেও তার বক্তব্যে হতাশার ভাব ফুটে উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস হেড লাইন করেছে ‘ক্লিনটন টেইকস সানি অ্যাপ্রোচ এস ট্রাম্প হেজ ডার্ক ওয়ার্নিং’। ট্রাম্পের বক্তব্য শুধুই ছিল সমালোচনায় ভরা। গণমাধ্যমকে এক হাত নিয়ে বলেন‘বিকল গণমাধ্যম’।আর ওয়াশিংটনের প্রতি তিরস্কার করে বলেন, ‘করাপ্ট ওয়াশিংটন এস্টাব্লিসমেন্ট’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কারচুপি ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করে বলেন, এখন এর বিচারের ভার আমেরিকার জনগনের উপর যারা ব্যালটের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করবে। নির্বাচনী শেষ প্রচারণায় অংশ নিয়ে হিলারি ক্লিনটন আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আগামীকাল আপনারা আশাবাদী এবং বড় হৃদয়ের আমেরিকার জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের পরীক্ষা হবে। নির্বাচনী শেষ প্রচারণার দিন হিলারি ক্লিনটনের একটি আবেগঘন ভিডিও এ্যাড প্রচার করা হয়। এতে তিনি বলেন, আমি আমেরিকার সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। যিনি আমাকে সমর্থন করেছেন এবং করেননি সকলের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। তার কারণ হচ্ছে আমরা সকলে মিল একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ আমেরিকা তৈরি করতে চাই। সোমবার রাতেই এই ভিডিওটি ২০ মিলিয়নের বেশি লোক দেখেছে বলে দাবি করেছে গণমাধ্যম। ভোটাররা বলছেন নির্বাচনের এখন আনুষ্ঠানিকতা বাকি।হিলারির বিজয়ী ভাষণের জন্য প্রস্তুত নিউ ইয়র্কের জ্যাকব জাবিট কনভেনশন সেন্টার। নির্বাচনের ফলাফল আসার সাথে সাথে হাডসন নদীতে একটি ফায়ার ওয়ার্ক করবার জন্য নিউ ইয়র্ক কোস্ট গার্ডের অনমুতি চেয়েছে হিলারির নিউ ইয়র্কস্থ ক্যাম্পেইন টিম।