বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

পুলিশের ভেতরে তোলপাড়!

আপডেটঃ ১০:২৬ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৪

অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে খুব শিগগির পুলিশের বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতিসহ বড় ধরনের রদবদল করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এবং অভ্যন্তরীণ চাপে আটকে আছে পুলিশের ৭৮ কর্মকর্তার বদলিসংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত। কিন্তু পছন্দের জায়গায় বদলি হতে সক্রিয়দের চাপের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাড়া দিচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পদোন্নতির বিষয়টিও একই কারণে আটকে আছে। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভেতরে ভেতরে চলছে তোলপাড়।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে পুলিশের বিভিন্ন স্তরে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৭৮ কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন।

একই কারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অর্ধশত কর্মকর্তার বদলির সঙ্গে পদোন্নতির ফাইলও আটকে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত ফাইল পাঠাতে অনাগ্রহ দেখানো এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এ বদলি-পদোন্নতি আটকে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বদলি-পদোন্নতির তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা সবাই যোগ্য নন। আবার যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যেও দক্ষতা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে অনেকে বেশ এগিয়ে। কিছু পুলিশ কর্মকর্তার মনগড়া সিদ্ধান্তে করা এই তালিকা নিয়ে ভুক্তভোগীরা খেপে আছেন। কারণ, ওই তালিকায় বেশ কজন ‘মুখচেনা’ ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক), অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অতিরিক্ত উপপরিদর্শক) এবং এসপিকে (পুলিশ সুপার) ‘লোভনীয়’ এলাকার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে বেশ কজন অ্যাডিশনাল ডিআইজি ও এসপিকে পদোন্নতি দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি আরো জানায়, আইন ও নিয়মানুযায়ী কাজের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং মেধার মূল্যায়ন প্রাধান্য দেওয়া হয় বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে। এসব কাজ সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ধাপে। যার পুরোটাই সমন্বয় করে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগ। কিন্তু এবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসন বিভাগকে পাশ কাটিয়ে কয়েকজন জুনিয়র অফিসারকে দিয়ে করা হয়েছে বদলি ও পদোন্নতির তালিকা। যাতে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের এই অভিযোগের কারণেই আটকে আছে বদলি-পদোন্নতির বিষয়টি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘গোপনে’ করা এ বদলি-পদোন্নতির তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে। ফলে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে ‘লুকোচুরি’র বদলি-পদোন্নতি ঠেকাতে একটি পক্ষ অভিযোগ তুলে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছে। যা পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও। এর পরিপ্রেক্ষিতে বদলি-পদোন্নতির বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অভিযোগ পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে না পাঠানোর ব্যাপারে এরই মধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত আটকে গেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি-পদোন্নতির ফাইলটি।

বদলি-পদোন্নতির এ বিষয়টি নিয়ে এখন পুলিশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে পুলিশের দুই পক্ষের মধ্যেই। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা কর্মকর্তারা পদ-পদবি না পেয়ে ফুঁসছেন। অন্যদিকে হতাশায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন বদলি-পদোন্নতির তালিকায় নাম না থাকা অনেক যোগ্য কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব পেয়েছি। এ বিষয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ফাইল পাঠানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেকোনো কাজের ব্যাপারে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান বরাবরই শক্ত। আশা করি, এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না।’