| |

Ad

সর্বশেষঃ

নকলার অটিস্টিক শিশুরা পড়ছে শিখছে

আপডেটঃ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | জুন ২৯, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড তাই সবার জন্য শিক্ষা চাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের হুজুরীকান্দা গ্রামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুদের দিবাকালীন সেবা ও বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে নকলা অটিস্টিক ডে কেয়ার সেন্টার। এ ডে কেয়ার সেন্টার থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, খাবার, যাতায়তের জন্য পরিবহন, পোশাক, ক্রীড়াসামগ্রী, বিনোদন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এর ফলে তারা লেখাপড়া শিখে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে। ১০ জার্মান নাগরিকের অর্থায়নে মোটিভেশন অ্যাওয়ার্নেস ট্রেনিং অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (মাটি) কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

৮ থেকে ১০ বছর বয়সী ১২ জন অটিস্টিক শিশু নিয়ে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ‘নকলা অটিস্টিক ডে কেয়ার সেন্টার’। তারপর থেকে কর্মদিবসগুলোতে সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেন্টারটিকে অটিস্টিক শিশুরা মাতিয়ে রাখে। ওই ডে কেয়ারের সেবা ভোগ করছেন বিভিন্ন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবী পরিবারের মা-বাবা। বিভিন্ন পেশাজীবী মায়েরা তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপদে রাখতে ও বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে বাচ্চাদের শিক্ষাগ্রহণে ওই অটিস্টিক ডে কেয়ার সেন্টারের প্রতি আস্থা পেয়েছেন। এখানে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, খাবার, যাতায়তের জন্য পরিবহন, পোশাক, ক্রীড়াসামগ্রী, বিনোদন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু সেন্টার থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

সম্প্রতি ওই সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কায়দা ও হুজুরীকান্দা গ্রামের চারজন করে, জানকীপুরের তিনজন, চরমধুয়ার দুইজন, বন্দটেকী ও চরকৈয়া গ্রামের একজন করে অটিস্টিক শিশু কার্পেট বিছানো ঘরে খেলাধুলায় মগ্ন। কেউ দৌড়াদৌড়ি করছে, কেউবা আবার বিভিন্ন খেলনা নিয়ে মগ্ন। শিশুদের সঙ্গে আছেন ওই সেন্টারের শিক্ষক রিপা রানী এবং আরও দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ওই অটিস্টিক ডে কেয়ার সেন্টারের শিক্ষক রিপা রানী জানান, এখানের প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হয়। সেন্টারে ভর্তিকৃত শিশুদের মা-বাবারা জানান, এখানে বাচ্চাদের রেখে তাদের কোনো চিন্তা করতে হয় না। তারা বলেন, এটি শুধু ডে কেয়ার নয়, অটিস্টিক শিশুদের নিরাপদ শিক্ষালয়ে পরিণত হয়েছে।

মাটি’র প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লেলিন জানান, এখানে শিশুদের দুই বেলা খাবার, একবার টিফিন, চিকিৎসা, খেলাধুলা, বিনোদন, ভ্রমণ, ধর্মচর্চা, যাতায়াতসহ সবকিছু রুটিন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রয়েছে আলাদা লোক। ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতাও চলে জার্মান নাগরিক ওই ১০ বন্ধুর অর্থায়নেই।