শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

‘টিপাইমুখ নিয়ে জাতিসংঘে কথা বলার প্রয়োজন নেই’

আপডেটঃ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ০২, ২০১৪

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপনের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে হাবিবুর রহমান মোল্লার এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বার বার আশ্বাস প্রদান করেছে যে, তারা টিপাইমুখ প্রকল্পে এমন কোনো পদক্ষেপ নিবে না, যাতে বাংলাদেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১০ সালে ভারত সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের এ আশ্বাস যৌথ ইশতেহারের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে।’

মাহমুদ আলী বলেন, ‘টিপাইমুখ প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে ভারত যৌথ নদী কমিশনের অধীনে গঠিত সাব-গ্রুপ যৌথ সমীক্ষা করতে রাজি হয়েছে। টিপাইমুখ প্রকল্পের বহুমাত্রিক প্রভাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের উপর সম্ভব্য নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রভাব নিরূপণের জন্য সাব-গ্রুপটি কাজ করবে।’

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে মোট ৩০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভুটানের সঙ্গে ছয়টি, আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি, মালদ্বীপের সঙ্গে চারটি, নেপালের সঙ্গে দুইটি এবং শ্রীলংকার সঙ্গে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শরীফ আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘসময় ধরে তিনটি অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। ১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নিকট আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দেনা-পাওনা অর্থাৎ উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সকল আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেনা-পাওয়ানসহ তিনটি ইস্যুই পাকিস্তানের নিকট জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৯৭৭, ১৯৮০, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫, ২০১০ এবং ২০১২ সালে বিভিন্ন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে

full_1702777309_1404299416