| |

Ad

হালুয়াঘাটে রাতের রানী নাইট কুইন

আপডেটঃ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ নাইট কুইন একটি দুর্লভ ফুল। এ ফুল ফোটার জন্য অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস। অন্যভাবে বলতে গেলে অনেক সাধনা করে ফোটাতে হয় নাইট কুইন। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যে রাতে ফোটে সে রাতেই ঝরে পড়ে। ফুলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি গন্ধেও অতুলনীয়। সাদা রঙের ফুলের ভেতর ঘিয়ে রঙের আবরণ ও সুমিষ্ট গন্ধ নাইট কুইনকে দিয়েছে রাজকীয় চেহারা। এজন্য নাইট কুইন ফুলকে রাতের রানী বলা হয়।

নাইট কুইনের বৈজ্ঞানিক নাম (ঢ়বহরড়পবৎবঁং মৎবমরর) ঢ়বহরড়পবৎবঁং মৎববমরর। বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির আদি নিবাস আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণা ল এবং মেক্সিকো হলেও এখন বাংলাদেশের অনেক পুষ্পপ্রেমীর বাড়িতে এ ফুল শোভা পায়। সম্প্রতি দেখা মিলেছে হালুয়াঘাট উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বি.এন.পি নেতা আসলাম মিয়া বাবুলের বাসায়। তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, সম্প্রতি তার বাসায় ৭॥৮ টি নাইট কুইন ফুল ফুটেছে। প্রয়াত সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী এড. প্রমোদ মানকিন এমপি’র সহধর্মীনি তাকে প্রায় ৭ বছর পুর্বে এ নাইট কুইনের চারা দিয়েছিলেন বলে জানান। বর্তমানে তা সংখ্যায় অনেক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ফুলের বৈশিষ্ট্য অন্যান্য যে কোনো ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। বছরের মাত্র একদিনে এবং রাতের কোনো এক সময় ফোটাই এর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। নাইট কুইন নিজেকে আত্মপ্রকাশ ও বিকশিত করে রাতেই এবং সেই রাতের অন্ধকারেই হয় তার জীবনাবসান। এর ফলে ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। ফুল গাছগুলোর জন্ম হয় পাতা থেকে। আর সেই পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ নাইট কুইন ফুল। প্রথম পাতার যে কোনো দিকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়। এই গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়। ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই ফুলের গুটি থেকে কলি রূপান্তরিত হয়। যে রাতে ফুল ফুটবে সেদিন বিকালেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় রাতের রানী আসছে। পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি এক ধরনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ গন্ধে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরনের অদ্ভুত মাদকতা, যা যে কোনো মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট। পরিপূর্ণ অন্ধকার যখন রাতকে আনন্দিত করে নাইট কুইন তখন অন্ধকারে বুক চিরে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরে। রাত যত বাড়তে থাকে তার রূপ ততই খুলতে থাকে। নিশাচর পতঙ্গরা রাতের রানীর মোহময় সৌরভে আকৃষ্ট হয়ে উন্মাদের মতো ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বুকে। পূর্ব আকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে মৃত্যু ঘণ্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের। কারণ রাতের রানী দিনের আলো সইতে পারে না। আমাদের দেশে এ ফুল ফোটে বর্ষাকালে (জুলাই-আগস্ট)। বর্তমানে এর বিস্তার বিশ্বজুড়ে। নাইট কুইন ফুল নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বহু কাহিনী ছড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিখ্যাত কাহিনীর অবতারণা ঘটেছিল দুই হাজার বছর আগে বেথলেহেম নগরীতে। তখন নগরীর প্রত্যেক বাড়িতে নাইট কুইন গাছ ছিল। এক রাতে ঘটল আশ্চর্যজনক ঘটনা। প্রতিটি বাড়ি নাইট কুইন ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল। এ ঘটনায় কৌতূহলী নগরবাসী এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে দৌড়াতে লাগল। তারা কেউই বুঝে উঠতে পারল না প্রকৃতি কেন এক অজানা উৎসবে মেতে উঠেছে। পরে অবশ্য সবাই আসল ঘটনা বুঝতে পেরেছিল। সেই রাতে বেথলেহেমের ঘোড়ার আস্তাবলে জন্ম হয়েছিল এক মহাপুরুষের, তিনি যিশু খ্রিস্ট। বেথলেহেমের সব নাইট কুইন সে রাতে মেতে উঠেছিল যিশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে। এ জন্য আজো অনেকের কাছে এ ফুলটি ‘বেথলেহেম ফ্লাওয়ার’ নামে পরিচিত। প্রচলিত ভাষায় নাইট কুইনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলা হয়। মৃদু সৌরভে ভরা সাদা রঙের পদ্ম ফুলের মতো দেখতে এ ফুলের দর্শন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক বড় উপহার। তবে প্রায় দুর্লভ ফুল হিসেবে নয় শুধু ফুলের চির স্নিগ্ধতা, শুভ্র-পবিত্র রূপ প্রকাশের ক্ষেত্রে কারো দ্বিমত থাকেনা।