| |

Ad

৭৭ বছরের বৃদ্ধা আমেনা ও তার পরিবারের জীবন চলে লতিপাতার উপর !

আপডেটঃ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০১৭

কোহিনুর ইসলাম:কুষ্টিয়া: বাবা ও বাবা আমি কোন দিক দিয়ে যাবো” “বাবা, ও বাবা আমি তো আর চোখে দেখতে পায়না” একটা বৃদ্ধ কন্ঠে বলা কথা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মৃত সেকেন আলীর স্ত্রী আমেনা (৭৭)। তার একমাত্র সন্তান উসমান আলী (৫৫)। চার কন্যা সন্তানের মধ্যে তিন কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স্কা অসুস্থ মা অসুস্থ স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান কে নিয়ে সরকারী জিকে ক্যানালের পাড়ে বসবাস করে আসছে। নিজে অসুস্থতার কারনে কাজ করতে পারেন না। তাই রাস্তার পাশে জন্মানো কচুর লতি ও কচুর শাক, সহ গ্রাম গঞ্জে শাকপাতাড়ি বিক্রয় করে দিনে ৫০-১০০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে বৃদ্ধ মা স্ত্রী ও সন্তান কে নিয়ে কোন রকম চাউল সিদ্ধ করে খেয়ে বেচেঁ আছে এই পরিবারটি। ঝড় বৃষ্টির মধ্যেই থাকতে হয় একটি কুড়ে ঘরে, আর এমনি কুড়ে ঘর যার কোন দরজা নেই, চারিদিক দিয়ে পাঠকাঠি দিয়ে ঘেরা, উপরেও পাঠকাঠি দিয়ে কোন রকম পাতলা পলিথিন দিয়ে ছাওয়া ঘরটা। বৃষ্টির সময় একটু জোরে বাতাস লাগলেই উড়ে যায় সব। ভিজে যায় পুরো পরিবার, তার উপর সবাই অসুস্থ তেমনি বিদুৎ চমকানি ও বজ্রপাত,সবমিলে থাকতে হয় তাদের, পরে আবার সব গুলো গুছিয়ে নিয়ে এসে নতুন করে পিপড়ার মত বাসা বাধে। বিদুৎতের তো বালাই নেই তার উপর দিনে রৌদ্রে তাপদাহ দিন শেষে রাত আসে তখন প্রচন্ড গরম সইতে হয় তাদের। কখনো কখনো না খেয়ে দিন যাপন করতে হয়, ওসমান আগে মানুষের জমিতে দিন হাজিরে কাজ করতো এখন তো তার শরীর অসুস্থ কাজ করতে পারে না। এই শাক বিক্রয় করে কি হয় সারা দিন বিভিন্ন যায়গা থেকে শাক তুলে এনে বাসায় রাখে, সকাল হলে মাথায় ঝুড়িটা নিয়ে পায়ে হেটে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে আসে, সেই গুলো বিক্রি করতে সারাদিন লেগে যায়। বিক্রি শেষে একটু চাউল পারলে সাথে আর কিছু কিনে আবার পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এতো কষ্ট করে ওসমান সংসারটা চালিয়ে আসছে। আর ওসমানের মা তো এখন চোখে দেখে না কানেও শুনে না বয়স ৮০ ছুই ছুই শরীরের কাপড়টাও ঠিক মত দিতে পানে এভাবেই সেও প্রতিদিন পেটের তাগিদে বাড়ি থেকে কখনো হামাগুড়ি কখনো একটু হামু দিয়ে মানুষের দ¦ারে দ্বারে হাতটা কোন রকম সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে বাবা ও বাবা কিছু দে, চোখে কম দেখায় ও কানে কম শোনায় পথ দিয়ে চলার সময় হয়তো কখনো সাইকেল ও ভ্যানের ধাক্কায় খেয়ে বসে, আবার পথের ধারে বেধে রাখা গরু ছাগেলের মাথার ঢিপ লাগে শরীরে, পড়ে যেতে হয় মাটিতে। আবার কখনো পথ ভূলে অন্য রাস্তায়, তবুও চলতে হয় পথ। ওসমানের স্ত্রী টা মানশিক সমস্যা কখন কি দিয়ে রান্না করে তার কোন ঠিক নেই, একটা ১০/১১ বছরের মেয়ে আছে সেও পায়নি কোন শিক্ষা আলো। মায়ের রান্নার ও কাজের একটু সহযোগীতা করে। ভালো মন্দ বোঝার হয়নি এখনো বয়স। আশা করি আমরা যদি তাকে সাহায্যে করি। হয় তো যে কয়দিন বেচে থাকবে পরিবার টি সে কয়দিন সুখে না হলেও একটু খেয়ে থাকার মত দিন কাটতো তাদের।