| |

Ad

সর্বশেষঃ

সিলেটের জৈন্তাপুরের একমাত্র নবজাতক বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্রটি নভেম্বরে বন্ধ হচ্ছে …………….

আপডেটঃ ১:২৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৭, ২০১৭

শোয়েব উদ্দিন, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি-
সিলেটের জৈন্তাপুরের একমাত্র নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি সাধারন পরিবার সহ উচ্চ পরিবার গুলোর একমাত্র আস্তা ও সেবার প্রতিক জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । নভেম্বরে এই বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে নবজাতক চিকিৎসা সেবায় জৈন্তাপুরের মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়বে। বেসরকারী ভাবে পরিচালিত বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এবং স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদ সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।
সরজমিন পরিদর্শনকালে জানাযায়- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় স্থাপিত এনজিও সংস্থা এফআইভিডিবির মমতা প্রকল্পের বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি। উত্তর সিলেটের জন্য একটি মডেল হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি। সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, কমওজনে জন্ম নেওয়া শিশুর সেবায় গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি যেন আপন মমতায় শিশুদের নিরাপদে রেখেছে। মমতা প্রকল্পের বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি দেখলে যে কেউ ভাববে আপন মায়ের মমতার বন্ধনে আবদ্ধ নবজাতক। প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র জৈন্তাপুর উপজেলার শিশুদের জন্য নয় পার্শ্ববর্তী কানাইঘাট এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকদের সেবা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এফআইভিডিবির মমতা প্রকল্পের বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি উপজেলা পর্যায়ে একটি পাইলট প্রকল্প। জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি সরজমিন দেখা যায়- প্রতিষ্ঠানটি বিগত ১০ই মার্চ ২০১৩ সনে যাত্রা শুরু করে। প্রথম দফায় অর্থায়ন করেছিল ইউএসএআইডি, টেকনিক্যাল সার্পোটে ছিল সেভ দ্যা চিলড্রেন এবং এফআইভিডিবি নিজ ইনক্রিমেন্টেশনে ছিল। পরবর্তীকালে ১লা জানুয়ারি ২০১৫ থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি(কইকা) অর্থায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হয়ে সার্বিক তদারকি করেন একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভাবে নিযুক্ত রয়েছে ২জন ডাক্তার (ডাঃ মোঃ মুবশ্বির আলী ও ডাঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন) এছাড়া ৪জন নার্স (অলি আক্তার, অর্চনা নাইডু, জাহানারা বেগম, শিফা বেগম) সার্বক্ষনিক বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রে শিশু সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়- ২০১৩ সালের শুরু হতে ৩০শে জুন ২০১৭ পর্যন্ত নবজাতক বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্র থেকে ৬হাজার ৯শত ২জন নবজাতক সেবা গ্রহণ করেছে। আউটডোরে ৪হাজার ৬শত জন এবং অভ্যন্তরীণ সেবা গ্রহণ করে, ২হাজার ৩শত ২জন নবজাতক সেবা গ্রহন করে। সেবাপ্রাপ্ত নবজাতকদের বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্রে শুরু বর্তমান পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। সেবা গ্রহিতা নবজাতকদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫০জন নবজাতককে রেফার্ড করা হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত থাকায় ৬৫জন নবজাতক মারা যায়। জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট সেবা পেয়েছে ৯১২জন নবজাতক, কমওজনে জন্ম নেওয়া ২৯৩জন নবজাতক, সংক্রমণের সমস্যায় আক্রান্ত ৯১৬জন নবজাতক এবং জন্মের পরে জন্ডিস আক্রান্ত ১৬৯জন নবজাতক চিকিৎসা সেবা পেয়েছে। এছাড়াও ১২জন নবজাতক শিশু অন্যান্য সেবা পেয়েছে।
সেবা গ্রহীতা নবজাতকদের পরিবারের অভিভাবকদের আমাদের প্রতি সহযোগিতা ও আগ্রহ থাকায় তা সম্ভব হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা কুলছুমা বেগম জানান- ১সপ্তাহের নবজাতক শিশু নিয়ে ৬দিন ধরে প্রতিষ্ঠানে নবজাতকের ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। কমওজনের জন্ম নেওয়া বাচ্ছার সার্বিক সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক নিযুক্ত নার্সেরা। আমিনা বেগম নামের ৪দিন বয়সের নবজাতকের মা জানান আমার সন্তান বুকের দুধ খেত না, জ্বর থাকত এবং কান্নাকাটি করত সেবা কেন্দ্রে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ও নার্সের নিবিড় পরিচর্যায় আমার নবজাতক সন্তানটি সুস্থ হয়ে উঠে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীরা তাদের সেবা পাওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদককে তুলো ধরেন। তারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সফলতা কামনা করেন। তারা আরও বলেন বিশেষায়িত শিশু সেবার এই প্রতিষ্ঠানে আসলে তাদের সেবার মান দেখলে মনে হয় “আপন মায়ের মমতার বন্ধনে আবদ্ধ নবজাতক”। চলতি বৎসরের ৩০শে নভেম্বর মমতা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রতিষ্ঠানটি টিকে রাখার জন্য স্থানীয় সাংসদ এবং সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, উপজেলা পরিষদ সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।
এবিষয়ে জৈন্তাপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রতিবেদককে জানান- মমতা প্রকল্পের বিশেষায়িত নবজাতক সেবা কেন্দ্রটি বৃহত্তর জৈন্তাপুরের সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের যাবতীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া আমরা প্রতিষ্টানটি যাহাতে আমাদের বৃহত্তর জৈন্তিয়া টিকে থাকে সে জন্য আমি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরব।