| |

Ad

নতুন আঙ্গিকে আসবে ভ্যাট আইন: নজিবুর

আপডেটঃ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৯, ২০১৭

অর্থনৈতিক প্র‌তি‌বেদক : ভ্যাট আইন নতুন আঙ্গিকে আসবে জানিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এন‌বিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, আমরা নতুন প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছি।রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইনের অভিঘাত বিষয়ে গবেষণা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এফবিসিসিআই প্রস্তাব দিয়েছে নতুন ভ্যাট আইনের প্রভাব নির্ণয় করতে। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করতে চাই।’তিনি বলেন, ‘ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে যেসকল চ্যালেঞ্জ ছিল সেগুলোকে অপরচুনিটি (সুযোগ) হিসেবে দেখছি। সমস্যাগুলোকে ধরে আমরা এ আইনের আরও গভীরে যেতে চাই। এফবিসিসিআই আমাদের যে প্রস্তাব দিয়েছে সে বিষয়ে এনবিআর ও ব্যবসায়ীরা এক সঙ্গে কাজ করতে চাই।’নজিবুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে এফবিসিআিইয়ের সঙ্গে এনবিআরের তিনটি (ট্যাক্স, ভ্যাট ও কাস্টমর্স) যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হয়। এটি আবারও সক্রিয় করতে হবে।তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যা হবে সব যৌথভাবে হবে। এককভাবে আমরা কিছু করব না। আমরা ব্যবসায়ী সমাজকে নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করব।’এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আয়কর আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এটা নিয়েও আমরা যৌথ কাজ করতে চাই। এ আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসতে চাই। কোথায় সমস্যা আছে তা সমাধান করা হবে।’তিনি বলেন, কাস্টমস আইনের চূড়ান্ত খসড়া নিয়েও এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো অথোরাইজ ইকোনোমিক অপারেটর, গ্রিন চ্যানেল, পোস্ট জিআরএম অডিট নিয়ে যেসব কাজ করছি এসব বিষয়ে নিয়ে আমরা দুই পক্ষ এক সঙ্গে কাজ করতে চাই।নজিবুর রহমান বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের সহায়তা, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা করা, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভ্যাট আইন নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে বাস্তবায়নে সমস্যা হত না।’তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের টাকার উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয় তাহলে আমাদের দিতে সমস্যা নেই। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে হলে ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। আমাদের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।’পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে ভ্যাট হার ১২ শতাংশ করার দা‌বি উঠেছে। এটি বাস্তবায়ন করা হলে ২৪ হাজার কো‌টি টাকা কর আহরণ কমবে। এ অর্থ কোন জায়গা থেকে আসবে তা নির্ধারণ করতে হবে। কারণ আমাদের রাজস্ব বাড়াতে হবে।এসময় কর ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উপর জোর দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, কর ব্যবস্থা আধুনিকায়‌ন হলে হয়রা‌নি কমবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাব‌দিহিতা বাড়বে। তাই হয়রা‌নি ও দু‌র্নী‌তি রোধে কর ব্যবস্থা অটোমেশনের বিকল্প নেই।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য যেসব বাধাগুলো আগে সেই বিষয়ের উপর গবেষণা করতে হবে। এ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়ানোর ওপর জোর না দিয়ে তা ‌যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও আধুনিক হয় সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে।তি‌নি বলেন, কর প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা হে‌নস্থা বা হয়রানির শিকার হচ্ছে এ ধরনের অভিযোগ আছে। এ বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করতে হবে কেন ব্যবসায়ীরা হয়রা‌নির শিকার হন। একই সঙ্গে ভ্যাট বিষয়ে বি‌ভিন্ন সমস্যা সমাধানে ছোট ছোট খাত ভিত্তিক গবেষণার পরামর্শ দেন গোলাম মোয়াজ্জেম।এন‌বিআরের সদস্য ব্যা‌রিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মধ্যম আয়ের দে‌শ হতে হলে জি‌ডি‌পির ১৫ শতাংশ রাজস্ব আহরণ প্রয়োজন হয়। আমাদেরবর্তমানে ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। আর এটি বাড়াতে হলে ফরমাল ইকোনমিতে যেতে হবে। ইনফরমাল ইকোনো‌মি‌ কমিয়ে আনতে হবে।