| |

Ad

ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসকদের আটকে রেখে রোগীর ওপর হামলা

আপডেটঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১২, ২০১৭

চ্যানেল সেভেন বিডি ঠাকুরগাঁও :ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে এক রোগীকে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে। রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে হামিদুর রহমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত ১০টার সময় এ ঘটনা ঘটে। আহত রোগীর নাম মজিবর রহমান (২৫)। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও পেট্টোলপাম্প এলাকার সাহির উদ্দীনের ছেলে। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। 

আহত মজিবর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমি বালিয়াডাঙ্গী বাজারে হোটেল আগমনীতে নাস্তা খাওয়ার জন্য গেলে মহিষমারী গ্রামের পজির উদ্দীন ও তার লোকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় এবং আমার বড় ভাই খলিলুর রহমান ও লতিফুর রহমানকে খবর দেয়।’

‘আমার বড় ভাইয়েরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনার নেতৃত্বে পজির, উজ্জ্বল, কামাল ও বেলাল লোহার রড ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তারদের রুমে আটকে রেখে আমাকে বেধরক মারপিট করে।’

রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হওয়া হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি হাসপাতালের উপর থেকে ওষুধ নেয়ার জন্য নিচে নেমে দেখি- পাঁচজন লোক জরুরি বিভাগের ভেতরে এক রোগীকে লোহার রড ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে বেধরক মারপিট করছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ডান হাত ভেঙে গেছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী মিয়া বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো রোগীর ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক বিষয়। ছাত্রলীগের কোনো কর্মী যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালের কর্তব্যরত আরএমও আবুল কাসেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে এ রকম ঘটনা কোনোদিন ঘটেনি। সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে এসে ডাক্তাদেরকে জিম্মি করে রোগীকে মারপিট করে গেছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পাঁচজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’