| |

Ad

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্বার ॥ এক মহিলা যাত্রী আটক

আপডেটঃ ৯:০২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদক: শুল্ক গোয়েন্দা আজ ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমেস্টিক টার্মিনালে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রাক্কালে এক মহিলা যাত্রীর শরীরের ভেতরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা আটক করেছে। ওই মহিলার নাম খাদিজা বেগম(৭০)। গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী থানার আরিচপুর গ্রামে তার বাড়ি। আটক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২.৪৯ লক্ষ সৌদি রিয়েল। তিনি ঢাকা- চট্টগ্রাম বিমানে (আরএক্স-০৭৮৬) নম্বরের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমেস্টিক টার্মিনালে চেকইন কাউন্টারে থেকে এই বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রার চালানটি আটক করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল খান আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড. মঈনুল খান আজ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমেষ্টিক চেকইন কাউন্টারে যাত্রী খাদিজা বেগম(৭০)কে নজরদারিতে রাখে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। কিন্তু তিনি বৈদেশিক মুদ্রা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে তল্লাশি করে উপরেল্লেখিত মূল্যমানের সৌদি রিয়াল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এসব মুদ্রা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এসব মুদ্রার সপক্ষে কোন দলিলাদি দেখাতে পারেন নি।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা যাত্রী খাদিজা বেগম শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরকে জানান, জনৈক সোহেল নামীয় এক ব্যাক্তি তাকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে মুদ্রাগুলো চট্টগ্রাম বিমান বন্দর পর্যন্ত পৌছে দিতে বলেন। এসব মুদ্রা তিনি চোরাচালানে সহায়তা করছিলেন। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে এসব মুদ্রা বিদেশে পাচার হতো। ঘোষণা ছাড়া এবং লুকানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন, মানি লন্ডারিং আইন ভঙ্গ হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আর ও জানান, শুল্ক গোয়েন্দার নজরদারীর কারণে ঢাকা থেকে পাচার করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মুদ্রা চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে আটক যাত্রী খাদিজা বেগম একজন বাহক। এই ব্যাপারে আটককৃত খাদিজা বেগমকে দি কাস্টমস এ্যাক্ট ১৯৬৯, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন,২০১২ (সংশোধনী ২০১৫), বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৪৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর আলোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।