| |

Ad

ভাবির সঙ্গে পরকীয়া টেকাতে প্রবাসী ভাইকে খুন

আপডেটঃ ১১:০১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১২, ২০১৭

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা :এস এম জামাল:  কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রবাসী যুবক রাকিবুল ইসলাম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক স্থায়ী করতে স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের পরিকল্পনায় ভাড়াটে কিলাররা তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার দিন ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম নিজেই মোটরসাইকেলে করে বড় ভাই রাকিবকে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দিয়ে আসে। গ্রেফতার ছোটভাই রকিবুল আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমনই চা ল্যকর তথ্য দিয়েছে। এছাড়া আটক স্ত্রী নাইমা সুলনা তিশাকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, কুমারখালীর পাহাড়পুর স্কুল পাড়ার মন্টু বিশ্বাসের ছেলে নিহত রাকিবুল ২০০৮ সালে মালয়েশিয়া যায়। রাকিবুল যখন বিদেশে তখন এক তার স্ত্রী নাইমা সুলতানা তিশার সঙ্গে ছোট ভাই রকিবুলের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বাড়িতে এসে রাকিবুল বিষয়টি টের পেলে স্ত্রী ও ছোট ভাই তাদের সম্পর্ক স্থায়ী করতে রাকিবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিবকে হত্যার জন্য তার ছোট ভাই দুই লাখ টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে। ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে সে। ৫ অক্টোবর রাতে পাশের গ্রাম কা নপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজের বাড়িতে আনার নাম করে ছোট ভাই রকিব রাকিবকে নদীর ধারে বাধবাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়ে আসে। ওই রাতেই সন্ত্রাসীরা রাকিবকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। তিন দিন পর ৮ অক্টোবর ভেসে উঠলে নদীর পাশ থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন রাকিবের বাবা আটজনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজহার নামীয় তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে স্ত্রী তিশা ও ছোট ভাই রকিবুলের অবৈধ সম্পর্ক ও হত্যার পরিকল্পনা। এরপর গ্রেফতারকৃত রকিবুল বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। পুলিশ সুপার জানান, দ্রুত ভাড়াটে কিলারদেরকেও গ্রেফতার করা হবে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চ্যা ল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।