| |

Ad

সর্বশেষঃ

উত্তরাসহ সারাদেশে সক্রিয় নব্য প্রতারক চক্র! প্রতারণার মূল ফাঁদ নারী !! ব্যর্থ হলে ধর্ষণ মামলা !

আপডেটঃ ১১:২৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১২, ২০১৭

এস.এম.এ মনসুর মাসুদ : আমি তাকে কখনোই দেখিনি। অথচ সে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দিয়েছে। তার ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও মামলার বাদীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু তাতেও তিনি রাজি হয়নি। তিনি জানিয়েছেন আমাকে আদালতে দেখবেন। আমি জানি মামলার কোনো ভিত্তি নাই। অথচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে তারা আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন।

কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার তুরাগ,উত্তরা এলাকা প্রতিনিধি আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন (৩৮)। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইমারত নির্মাণের মালামাল বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানও চালান। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যিনি মামলা দায়ের করেছেন তিনি তারই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কর্মচারীর স্ত্রী। আর অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই বাসায় একা পেয়ে বাদীর ১৩ বছর বয়সী ছোট বোনকে ধর্ষণ করেন সুমন এবং ঘটনার সময় তিনি তা ভিডিও ধারণ করেন। মামলাটি ১১ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক সুমনের বক্তব্যের সূত্র ধরে ও মামলার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মামলা করার আগে কিভাবে এটি পাকাপোক্তভাবে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে বাদী তার পরিচিতজনদের সঙ্গে যে বৈঠক করেছিলেন তারও একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাকে কি বলতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাদীর স্বামী আবদুল্লাহ আল মামুনের বন্ধু আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন। বন্ধুত্বের কারণে সুমন তাদের (বাদী) বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন ও ভিকটিমের সঙ্গে মাঝে মধ্যে কথা বলতেন। এমনকি প্রেমেরও প্রস্তাব দেন। বিষয়টি তিনি ও তার স্বামী জানার পর ছোট বোনকে বিরক্ত না করতে সুমনকে অনুরোধ জানান। গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারা কেনাকাটা করতে উত্তরা হাউজ বিল্ডিংয়ে গেলে রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে সুমন তাদের বাসায় আসেন। বাসায় ছোটবোনকে একা পেয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের মতো সুমন তাদের বাসায় অবস্থান করে রাত ১০ টার কিছু পরে চলে যান। ওই দিন তারা রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরলে ছোট বোন কিছু জানায়নি। তবে ১১ জুলাই মামলার বাদী ছোটবোনের মন খারাপ দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই রাতের ঘটনা জানায়। পরে পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে ওই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা (নং-২১) দায়ের করেন। মামলাটি উত্তরা পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

জানা গেছে, মামলা দায়েরের পরদিন ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। ওই দিনই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগী জবানবন্দি দেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই মামলার অভিযোগ যা লেখা ছিল তার প্রায়ই উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে ভিন্ন তথ্য দেন সুমনের তাদের বাসায় আসার সময় নিয়ে। ভোক্তভোগী তার জবানবন্দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাবি করেন সুমন তাদের বাসায় এসেছিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে। অথচ মামলায় বলা হয়েছে সোয়া ৯টার দিকে সুমন তাদের বাসায় আসেন।

এছাড়া সুমনের কললিস্ট সূত্র ধরে দেখা যায়, ওই দিন তিনি রাত ৮টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত তিনি ৭ জায়গায় ছিলেন। এর মধ্যে রাত ৮টা ১৪ মিনিট থেকে তিনি উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর রোডের ৫২ নম্বর বাড়িতে ছিলেন। ৮টা ৪৭ মিনিটে তার অবস্থান ছিল উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়িতে। ৮টা ৫৯ মিনিটে তিনি ছিলেন উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের শাহ মাকদুম অ্যাভিনিউয়ের ৮ নম্বর বাড়িতে। ৯টা ২১ মিনিটে ছিলেন ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়িতে। ৯টা ২৭ মিনিটে তার অবস্থান ছিল তুরাগ থানা এলাকায়। ৯টা ৪৭ মিনিট থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ছিলেন উত্তারা দউর এলাকার আলোছায়া নামের জায়গায়। রাত সাড়ে ১১টায় সুমনের অবস্থান ছিল উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে। যা মামলা দেওয়া ঠিকানার সঙ্গে কোন মিল পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া সুমনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযোগকারী স্বামী তার প্রতিষ্ঠানে বিগত ১০ বছর ধরে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। গত ৬ মাস আগে তিনি তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেন। ওই সময় তার কাছে সুমনের পাওনা ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা । এছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অভিযোগকারীর স্বামী সুমনের মধ্যস্থতায় আকাশ আলী মন্ডল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। পরে তিনি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে না পারলেও টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে ২ জুলাই একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে সুমনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা বুঝে নেওয়া হয়। এবং সুমনকে মধ্যস্থা থেকে অব্যহতি দিয়ে অভিযোগকারীর স্বামীর বিরুদ্ধে আজহার আলী মন্ডলকে আইনগত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে টাকা পরিশোধের একটি আপোষনামা হয়।

আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন বলেন, পাওনা টাকা চাইতে যাওয়াই তারা পরিকল্পনা করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অথচ মামলায় যাকে বলা হচ্ছে আমি ধর্ষণ করেছি তাকে কখনো আমি দেখিনি। এ জন্য আমি তাদের বলেছিলাম যেন ডিএনএ টেস্ট করা হয়। তাতে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে আমি উত্তরা পশ্চিম থানা বরাবর একটি আবেদনও করেছি।

তিনি বলেন, মামলাটি অনেক স্পর্শকাতর। আমি ওই এলাকায় ব্যবসা করি। এখানে আমার সম্মান জড়িত। তারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর আগে তারা আমার বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি অভিযোগ দিয়েছিল। সেখানে বলেছিল তাদের বোন কে আমি প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দিন বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছি। তারা আমাকে তাদের বোনের পিছু ছাড়তে বললে আমি তাদের মামলা-হামলা হুমকি দিয়েছি বলে অভিযোগ করেন। পরে সেটি মামলা হয়নি।
কীভাবে মামলা করলে আসামী ছাড় পাবেনা এ বিষয় নিয়ে মামলার বাদী, তার স্বামী এক ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন- এমন একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে মামলায় যিনি ভুক্তভোগী তিনিও ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায় ভুক্তভোগীকে পুলিশের যা বলতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় নাটকের স্ক্রিপ্ট তৈরির মতো।