| |

Ad

সর্বশেষঃ

রোহিঙ্গা সমস্যার জরুরি সমাধান চাই : স্পিকার

আপডেটঃ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৭, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতি কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার জরুরি সমাধান চাই যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিরাপদে ও সম্মানের সাথে তাদের ঘরে ফিরতে পারে এবং প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অর্থপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব।’
সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।
সংসদ সচিবালয় জানায়, মার্ক তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এসময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই মানবিক আশ্রয়দানে অনন্য সাহসিকতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন। অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে।’
স্পিকার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অমানবিক অবস্থার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি সহিংসতা ও জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন প্রেরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোন তৈরি, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’
ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআর, আইওএম, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট এর প্রতিনিধিরা ছাড়াও কুয়েত, তুরস্ক, সৌদি আরব, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং ইইউর রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক :
ওই দিন সন্ধ্যায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব ও অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তিনি একটি সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কফি আনানকে ধন্যবাদ জানান।
কফি আনান চলমান পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করেন।
তিনি মিয়ানমারের অব্যাহত অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এখন পর্যন্ত সঙ্কট চলমান থাকার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেন।
কফি আনান অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং রাখাইন প্রদেশের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।